নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র, সাইয়িদুশ শুহাদা হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং কারবালার শহীদদের স্মরণে ধর্মীয় মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিবিএ) উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জেবিবিএ সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের শাহজাদা মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ মাসহুক মঈনুদ্দীন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকার আজিমপুর ছোট দায়রা শরীফের ইমাম সৈয়দ ফয়েজ হারামাইন খলিলউল্লাহ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কের আহলে বাইত মসজিদের ইমাম সৈয়দ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী বদরপুরী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র আশুরার তাৎপর্য এবং কারবালার শোকাবহ ঘটনার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য সত্য, ন্যায়, ইনসাফ এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অন্যায়, জুলুম ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার শিক্ষা দেয় কারবালার ইতিহাস।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভেদ, হিংসা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্য, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কারবালার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ অনুসরণের পাশাপাশি ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানান তারা।মাহফিলে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, জিকির-আজকার এবং শাহাদাতে কারবালার ওপর বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী মানবকল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে কারবালার সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত এবং তাঁদের আত্মত্যাগের আদর্শ অনুসরণের তাওফিক কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেবিবিএ নেতা গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং কারবালার আত্মত্যাগের শিক্ষা তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে এ ধরনের অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।মাহফিল শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান উপস্থিত প্রবাসীরা। তাদের মতে, ব্যস্ত প্রবাস জীবনের মধ্যেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে ইসলামের ইতিহাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়।
Posted ২:২১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3076 বার পঠিত)
(2472 বার পঠিত)