বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের মিলবোর্ন সিটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের মেয়র হলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান মাহবুবুল আলম তৈয়ব। আর নিউ ইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান বিচারপতি নির্বাচিত হয়েছেন সোমা সাঈদ। ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে তারাসহ মোট ১৫ বাংলাদেশি এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বে। কুইন্স সিভিল কোর্টের বিচারক হওয়ার চার বছরের মাথায় নিউ ইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়া সোমার বাড়ি টাঙ্গাইলে।
মা-বাবার সঙ্গে ১২ বছর বয়সে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান তিনি, পড়ালেখা সেখানেই। ২০২১ সালে কুইন্স কাউন্টি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন তিনি। মিলবোর্ন সিটি: চট্টগ্রামের ছেলে তৈয়ব ২০২১ সালের নভেম্বরে সিটি মেয়র হিসেবে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান মেয়রের পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনে তার বিপক্ষে কেউ মনোনয়ন না চাওয়ায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এ সিটিতে কাউন্সিলম্যান পদে আরও দুই বাংলাদেশি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের একজন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ছেলে সায়েদ রিয়াদ (২১), আরেকজন নওগাঁর শাহিন আলম (৩৫)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষে মাহাবুবুল আলম তৈয়ব ২০০০ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে মিলবোর্ন বরোতে বসতি গড়েন। শুরুতে পড়াশোনার পাশাপাশি বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশিদের নানা কর্মকাণ্ডে তিনি সম্পৃক্ত হন। মিলবোর্ন সিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে টানা ৮ বছর তিনি কাউন্সিলম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ সালে মিলবোর্ন সিটির সেলার অ্যাভেনিউয়ের অংশবিশেষের নাম ‘বাংলাদেশ অ্যাভেনিউ’ করেছেন তিনি।
আর কাউন্সিলম্যান সায়েদ রিয়াদ দুই বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হন। আপার ডারবি হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন। পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। নওগাঁর ছেলে শাহিন আলম বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২০১১ সালে পেনসিলভেনিয়ার আপার ডারবিতে বসতি গড়েন। কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।
হাডসন সিটি: নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হাডসন সিটিতে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশিরা। কয়েক দশক ধরে কাউন্সিলম্যান, ট্রেজারার, সুপারভাইজার পদে বাংলাদেশিরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এবারের নির্বাচনে দেওয়ান সরোয়ার ও মোহাম্মদ রনি পুনরায় কাউন্সিলম্যান হয়েছেন। এ সিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ সুপারভাইজার হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুস মিয়া।
আপার ডারবি টাউনশিপ: মিলবোর্ন সিটি সংলগ্ন আপার ডারবি টাউনশিপের নির্বাচনেও ৩ প্রবাসী জয়ী হয়েছেন। কাউন্সিলওম্যান হিসেবে সায়মা দিশা, টাউনশিপ ট্রেজারার পদে মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান ড্যানি এবং স্কুল বোর্ড ডিরেক্টর হিসেবে মোহাম্মদ হোসেন মিঠু জয়ের মুখ দেখেছেন।
হ্যামট্রমক সিটি: মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রমক সিটির কাউন্সিলম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আবু আহমদ মুসা। এই সিটিতে প্রবাসী নাঈম চৌধুরীও কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।আর মেয়র পদে মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ। তবে হ্যামট্রমক সিটি ক্লার্ক রানা ফারাজ বলেছেন, “প্রায় ৫০টি ব্যালটে সইসহ অন্যান্য অসংগতি থাকায় এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ভোট গণনা করে মেয়র পদে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।”
আটলান্টিক সিটি: নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ‘কাউন্সিল অ্যাট লার্জ’ নির্বাচিত হয়েছেন প্রবাসী সোহেল আহমদ। সিটি মেয়র সমমর্যাদার পদে বাংলাদেশি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। সোহেলের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। আটলান্টিক সিটির স্কুল বোর্ড নির্বাচনে ফের জয়ী হয়েছেন সুব্রত চৌধুরী। প্রথম এশিয়ান আমেরিকান হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে জয় পেয়েছেন তিনি। এ নির্বাচনে মোট সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ডোরাভিলে সিটি: জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা সিটি সংলগ্ন ডোরাভিলে সিটির কাউন্সিলম্যান হিসেবে জয় পেয়েছেন নোয়াখালীর মো. নাসের। চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা এ বাংলাদেশি ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একই সিটিতে কাউন্সিলম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। গত ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী ১৫ বাংলাদেশির সবাই ডেমোক্রেটিক। এর আগে বেশ কয়েকটি স্টেট পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশিরা আলোর মুখ দেখেছেন।
তাদেরমধ্যে রয়েছেনÑজর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের রিপ্রেজেনটেটিভ আবুল খান, ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর সেলিম সাদ্দাম এবং কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মাসুদুর রহমান। তাদের মধ্যে কেবল আবুল খান হলেন রিপাবলিকান, বাকি চারজনই ডেমোক্রেটিক। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় ফিলাডেলফিয়া সিটির কাউন্সিলওম্যান অ্যাট লার্জ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন নীনা আহমেদ। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম মুসলমান নারী হিসেবে কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনিও ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
রকল্যান্ড কাউন্টিতে পারিবারিক আদালতের বিচারক হলেন নাবিলা : নিউইয়র্কের রকল্যান্ড কাউন্টিতে পারিবারিক আদালতে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম বিচারক নির্বাচিত হয়েছেন নাবিলা চৌধুরী (নাবিলা ম্যাকলিওড)। নাবিলার বাবা রসূল আশরাফ চৌধুরী এবং আশরাফ আলী চৌধুরী (মধু চৌধুরী)’র নাতনী।
নাবিলার ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইন অনুশীলনের প্রমাণ রয়েছে এবং তিনি শিশু ও পরিবারকে সহায়তা করার জন্য গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাবিলা বেঞ্চে ন্যায্যতা, করুণা এবং সততা আনতে প্রস্তুত।
Posted ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh