শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

হোম হেলথে পিপিএল নিয়োগ : ১১ বিলিয়ন ডলার অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হোম হেলথে পিপিএল নিয়োগ : ১১ বিলিয়ন ডলার অনিয়মের অভিযোগ

নিউইয়র্ক স্টেটের হোম হেলথ কর্মসূচির ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের জন্য পাবলিক পার্টনারশিপ এলএলসি’কে নিয়োগ করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের অন্যতম হচ্ছে তাদেরকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের দায়িত্ব প্রদানের আগে স্টেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিউইয়র্কের হোম হেলথ কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কীভাবে সম্পাদিত হয়েছে সে সম্পর্কে গত শুক্রবার অনেক অভিযোগ ঊঠেছে। গত মাসে আইনজীবীদের সাথে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা পর্যালোচনা করার জন্য শুনানিতে পাবলিক অংশীদারিত্ব জোর দেওয়া হয়েছিল যে, প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অংকের অর্থ পরিচালনার জন্য চুক্তি সম্পাদনের আগে স্টেটের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা এড়াতে সাধারণত এ ধরনের যোগাযোগের কোনো অনুমতি নেই। নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে সবকিছু বিধিসম্মতভাবেই হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় চুক্তি সম্পাদনকারী ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ এর কমিশনার ডাঃ জেমস ভি ম্যাকডোনাল্ড। তিনি তার সাক্ষে বলেন, “আমরা যা কিছু করেছি, তা প্রকিউরমেন্ট বিধিবিধান অনুসরণ করেই করেছি। এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।” তিনি আরও বলেন, টেন্ডারে জেতার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে স্টেট কর্মকর্তাদের পূর্ব-যোগাযোগের ব্যাপারে তার সরাসরি কিছু জানা নেই।

নিউইয়র্ক টাইমস আরো উল্লেখ করেছে যে, টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্টেট আইনপ্রনেতাদের কাছে যে অভিযোগ দিয়েছেন তা নিউইয়র্ক টাইমসের কাছেও এসেছে। সেই অভিযোগপত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্যাট্রিসিয়া বাসনেস, যিনি সরকারী সম্পর্ক বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেন, তিনি স্বীকার করেছেন যে, ২০২৪ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথের কর্মকর্তাদের সাথে টেন্ডার জয়ী প্রতিষ্ঠানে সাধারণ যোগাযোগ ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট এই কর্মসূচির অর্থ সাশ্রয় করার উপায় নিয়ে বিচার বিবেচনা করছিল, যা তাদের হাজার হাজার দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগছেন এবং প্রতিবন্ধী লোকজনের হোম হেলথ কেয়ার গ্রহণেল সুযোগ দিয়েছিল, তারা স্বাস্থ্যসেবা পেতে বিপদে বিঘ্নের মুখোমুখি হতে পারেন, এমন আশঙ্কা রয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে হেলথ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কি ছিল সে সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি। অতএব তারা পাবলিক পার্টনারশিপ এলএলসি’র টেন্ডার জেতায় কোনো ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগের কোনো বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই। স্টেট গভর্নর ক্যাথি হকুল, বা হেলথ ডিপার্টমেন্টের কোনো কর্মকর্তা অভিযোগ সম্পর্কিত প্রশ্নে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। সিনেট ইনভেস্টিগেশনস এন্ড গভর্নমেন্ট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান স্টেট সিনেটর জেমস স্কোফিস বলেছেন, পিপিএল’র সাক্ষ্যের বিপরীতে তাদের বক্তব্যগুলো যথার্থতা সম্পর্কে যে গুরুতর সন্দেহ হয়েছিল তা নিশ্চিত করে। আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, হেলথ ডিপার্টমেন্ট এবং পিপিএল কি জানতো এবং কখন তারা এসব বিষয় জানতো। মিঃ স্কোফিস আরো বলেন, তিনি আগামী দিনগুলোতে আইনপ্রনেতাদের শীর্ষ নেতা ও সিনেট হেলথ কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর গুস্তাভো রিভেরার সাথে এই প্রতিষ্ঠানের বিষয় তদন্তের জন্য পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনায় মিলিত হবেন।

গভর্নর হকুলের একজন প্রতিনিধি স্যাম স্পোকনি কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, হেলথ ডিপার্টমেন্টের প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ার বিধি মেনেই পাবলিক পার্টনারশিপ এলএলসি’র সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনো স্টেট কর্মকর্তার জানার সুযোগ নেই যে কে টেন্ডার লাভ করেছে।

টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে স্টেট আইনপ্রনেতাদের কাছে দেওয়া চিঠিতে সিডিপ্যাপ বা ‘কনজ্যুমার ডাইরেক্টেড পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’কে একীভূত করার জন্য স্টেটের যে সিদ্ধান্ত ছিল, সেটি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তে প্রায় ৭০০ প্রতিষ্ঠানকে প্রতিস্থাপন করা হয়, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পে-রোল এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান পাবলিক পার্টনারশিপ এলএলসি বা পিপিএল কর্তৃক পরিচালিত হতো। যেহেতু এটি সিডিপ্যাপ এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই রোগী এবং রোগীদের সেবাদানকারীরা বেতনের চেক বিলম্বে পাওয়া এবং সেবায় ঘাটতির অভিযোগ করেছেন।

স্টেট আইনপ্রনেতারা এর আগেও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তি স্টেট কম্পট্রোলারের রিভিইয়ের আওতা বহির্ভূত ছিল। গত মাসের শুনানিতে মিঃ স্কোফিস ২০২৪ সালের এপ্রিলের একটি খসড়া আইনের উল্লেখ করেছেন. যাতে টেন্ডার ইস্যুর আগে পিপিএল’কে প্রোগ্রাম এডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টের শুনানিতে মিঃ স্কোফিস স্টেটের ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ এর কমিশনার ডাঃ জেমস ভি ম্যাকডোনাল্ডকে খসড়া আইনটি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন যে কীভাবে এটিতে সুনির্দিষ্টভাবে কেবল চারজন টেন্ডারদাতা টেন্ডার লাভের অর্জন করতে পারেন।

ডাঃ ম্যাকডোনাল্ড তার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আপনার আইন প্রণয়নের অংশ। আমি আশা করব আইনে যে ভাষা প্রয়োগ করা রয়েছে, সে সম্পর্কে আপনাদের আরও ভাল জ্ঞান থাকা উচিত, কারণ আপনারা আইন প্রণেতা।” পিপিএল কর্তৃক সিডিপ্যাপ এর দায়িত্ব গ্রহণের ৯ মাস পর এ ধরনের স্বীকারোক্তি পাওয়া গেল। পিপিএল কার্যকর হওয়ায় সুফল পাওয়া গেলেও এটি একটি দায়েও পরিণত হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২ হাজার থেকে ২৫০,০০০ এ উন্নীত হয়েছিল। যার ফলে স্টেটের বাজেটের ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। গত মাসে পিপিএল ঘোষণা করেছে যে, তারা প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার সেবাদানকারীর জন্য ২.২ বিলিয়ন ডলারের বেতন পরিশোধ করেছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে প্রশাসনিক ফি এর আকারে তারা স্টেটের শত শত মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে।

 

 

Posted ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.