মোহাম্মদ আজাদ : | বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
বাঁ থেকে- অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, মোর্শেদ আলম, গিয়াস আহমেদ, ড. আবু জাফর মাহমুদ, মির্জা আবু জাফর বেগ, মোহাম্মদ তুহিন, এম এ সালাম
যুক্তরাষ্ট্রে আসছে ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন পোলিং সংস্থার জরিপে দেখা যাচ্ছে এবার ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লাই হতে যাচ্ছে। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কমিউনিটির ওপর জরিপ পরিচালনা করে থাকে। ২০২০ এর নির্বাচনের আগেও পত্রিকাটি অনুরূপ জরিপ পরিচালনা করেছিল। তখন যে জরিপ চালানো হয়েছিল,তখন বাংলাদেশী কমিউনিটির মাঝে যে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে বর্তমানে সেটি আদৌ নেই।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কারণে অনেক বাংলাদেশী ভোটাররা ভোটদানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। টেলিফোনে ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত এবারের জরিপ পরিচালনা করেছেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশ এর বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ আজাদ। নিচে বাংলাদেশী ভোটারদের মতামত সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো:
অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী: অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং দলটির ডিষ্ট্রিক্ট লিডার। তিনি নিজে তার দলের পক্ষে নির্বাচনী কর্মতৎপরতায় ব্যস্ত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে নির্বাচনে তার দলের প্রার্থী কমালা হ্যারিসই জয়ী হবেন।
মোর্শেদ আলম: মোর্শেদ আলম নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সরাসরি বলেন যে তিনি কামালা হ্যারিসকেই ভোট দেবেন। তার মতে ‘আমি এবং আমরা তো এদেশে মাইনরিটি। কমালাও একজন মাইনরিটি কমিউনিটির সদস্য। তিনি আমাদেও কথা যতটা ভাববেন, মেজরিটিরা তা ভাববে না। আমি সবসময় মাইনরিটি কমিউনিটির ভোটারদের অনুরোধ করব কামালা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার জন্য।
গিয়াস আহমেদ: গিয়াস আহমেদ নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির একজন পরিচিত মুখ। তিনি বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এবং ব্যবসায়ী। তিনি ইমিগ্রান্ট এল্ডার হোমকেয়ারের চেয়ারম্যান ও সিইও। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তিনি ৫ নভেম্বর কাকে ভোট দিতে যাচ্ছেন। উত্তরে তিনি বলেন, কাকে ভোট দেব, এটা এখনো বলতে পারছি না। ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যার দিক থেকে ইহুদিদের চেয়ে মুসলমানরা বেশি। কিন্তু এখানকার ইহুদিরা আমেরিকার নির্বাচনে প্রচণ্ড প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে রয়েছে প্রচন্ড ঐক্য, যা মুসলমানদের মধ্যে নেই। মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারতো, তাহলে তাারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিরাট ফ্যাক্টর হতে পারতো।
ড. আবু জাফর মাহমুদ: বাংলা সিডিপেপ এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, আমি কামালা হ্যারিসকে ভোট দেব। কেন তাকে ভোট দেবেন সেই যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, কামালা হ্যারিস সকল জাতিগোষ্ঠীর ব্যাপারে সহনশীল। এছাড়া তিনি মেডিকেইড-মেডিকেয়ারসহ হোমকেয়ারের বিষয়টি সহজলভ্য করে দেবেন বলে আমরা মনে করি।
মির্জা আবু জাফর বেগ: নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় মসজিদ জ্যামাইকা মুসলি সেন্টারের ইমাম ও বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুপরিচিত। তিনি এবার কাকে ভোট দেবেন জানতে চাওয়া হলে বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে একজন মন্দ এবং একজন মন্দের ভালো। আমরা তো ইমিগ্রান্ট। ইমিগ্রান্টদের জন্য মন্দের ভালোটাই বেছে নেয়া উত্তম বলে আমি মনে করি। মন্দের ভালো হিসেবে আমি কামালা হ্যারিসকে বেছে নেব।
মোহাম্মদ তুহিন: মোহাম্মদ তুহিন একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তার কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছিল যে তিনি কাকে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, দেখুন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম মধ্যপ্রাচ্যে গণহত্যার জন্য ডেমোক্রেটদের উপর ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প ছাড়া অন্য যেকোনো রিপাবলিকানকে ভোট দিতে আমার আপত্তি নেই। আমি ট্রাম্পকে ভোট দিতে পারি না।
এম এ সালাম: নব্বইয়ের দশকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এম এ সালাম অত্যন্ত সরব ছিলেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট। ভোট কাকে দেবেন জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি বলেন যে তিনি কমালা হ্যারিসকে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, আমাদের মতো মাইনরিটি বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডেমোক্রেটদের পলিসিই উত্তম বলে মনে করি। অপরদিকে ট্রাম্প আমেরিকান ধনী ওবণিক শ্রেনির প্রতিনিধি। তার কথা হচ্ছে তেলা মাথায় আরো তেল দাও। ট্রাম্পের ট্যাক্স কাট ধনাঢ্যদের আরো ধনী করবে॥
এম ডি আলী রেজা: আলী রেজা একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি বস্টনে বাস করেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে নির্বাচনে তিনি কাকে ভোট দেবেন। উত্তরে তিনি বলেন যে এখনও তিনি স্থির করেননি যে কাকে ভোট দেবেন। তবে শেষ পর্যন্ত হয়তো কমালাকেই দেয়া হতে পারে।
Posted ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh