বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
দিনে দিনে নিউইয়র্ক সিটির অধিক সংখ্যক বাসিন্দার জন্য বাড়িভাড়া রীতিমতো তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ি ভাড়া পরিশোধের পর খুব বেশি সংখ্যক নিউইয়র্কবাসীর কাছে তাদের খাবার, শিশুসেবা, যাতায়াতের জন্য ঠিকভাবে ব্যয় সংস্থান করাও সম্ভব হয় না। বিনোদনের জন্য ব্যয় করা তো দূরের কথা। অনেকে কম ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার চেষ্টা করতে কোনো ত্রুটি করেন না। কিন্তু সবার ভাগ্যে তো জোটে না। নিউইয়র্ক সিটিতে জনসংখ্যার তুলনায় আবাসন সংখ্যা কম। অতএব যা পাওয়া যায় তা গড় নগরবাসীর পক্ষে অধিকাংশের আয়সাধ্যের মধ্যে থাকে না।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটিতে যেসব পরিবার বার্ষিক ৭০,০০০ ডলার আয় করে, তাদের পক্ষে সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী মাসিক ১,৭৫০ ডলার বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু সিটির ম্যানহাটান ও ব্রুকলিনে যারা তাদের ভাড়া নতুন লিজ চুক্তি করছে, তাদের বাড়ি ভাড়ার পরিমাণ বর্তমানে সরকারি গাইডলাইনের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি। নিউইয়র্কের প্রায় ৫ লাখ পরিবার, যা মায়ামি সিটির পরিবার সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি, তারা তাদের আয়ের অর্ধেক বাড়ি ভাড়া পরিশোধে ব্যয় করে। নিউইয়র্ক সিটির মোট পরিবার সংখ্যার আনুমানিক এক চতুর্থাংশ পাবলিক হাউজিং অথবা হাউজিং ভাউচারের ওপর নির্ভর করে না।
সিটির এক জরিপ অনুযায়ী গত বছর সিটিতে ভাড়ার জন্য অ্যাপার্টসংখ্যা ছিল মাত্র ১.৪ শতাংশ। বহু পরিবার বেসমেন্টের হাজার হাজার অবৈধ অ্যাপার্টমেন্ট গাদাগাদি হয়ে বসবাস করছে, যেখানে আগুন লাগার ও জলমগ্ন হয়ে পড়া ঝুঁকি বিদ্যমান। নিচু ও মাঝারি আয়ের লোকজন, যাদের মধ্যে কলেজ গ্রাজুয়েটরাও আছে, তারা সিটির কোথাও দলবদ্ধভাবে বাস করে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারগুলো যারা আয়ের ক্ষেত্রে সচরাচর শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোর চেয়ে কম। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ বাড়ি মালিক সংখ্যা অনেক বেশি। অতএব, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বহু কৃষ্ণাঙ্গ পরিবার নিউইয়র্ক সিটির মায়া কাটিয়ে অন্য স্টেটে, যেখানে বাড়ি ভাড়া কম, সেখানে চলে যাচ্ছে। সিটির বেশকিছু জনপ্রিয় নেইবারহুডে কেবলমাত্র বিত্তবানরাই বসবাস করতে সক্ষম, যারা আয় বৈষম্যের কারণে সমাজে এক ধরণের বণ্যভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মেট্টো এলাকায় দেশের বর্ণবৈষম্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য রয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
Posted ১২:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh