শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

মামদানিকে বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি ২৪ জুন। আগাম ভোটের রেকর্ড।

কে হবেন নিউইয়র্কের ১১১তম মেয়র?

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

কে হবেন নিউইয়র্কের ১১১তম মেয়র?

কে হতে যাচ্ছেন বিশ্বের অর্থনৈতিক রাজধানীখ্যাত আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল সিটি নিউইয়র্কের ১১১তম মেয়র? আর মাত্র চারদিন পর ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে যিনি জয়ী হবেন, এবছরের নভেম্বর মাসের ৪ তারিখে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনিই যে সিটির মেয়র নির্বাচিত হবে, তা নিশ্চিত। নিউইয়র্ক সিটি মূলত একটি ডেমোক্রেট সিটি এবং রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের প্রার্থীর জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির দিন যত ঘনিয়ে এগিয়ে আসছে, ডেমোক্রেট প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা তত কঠিন হচ্ছে বলে মনে করছেন ডেমোক্র্যাট ভোটাররা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ভোটাররা রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো ও তরুণ অভিবাসী নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য জোহরান মামদানিকে এগিয়ে রেখেছেন। তরুণ ভোটারদের কাছে তরুণ ডেমোক্রেট জোহরান মামদানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জরিপ সংস্থা ও মিডিয়ার জরিপে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া গেছে।

মূলত এই দুই প্রার্থীকে ঘিরেই জমে উঠেছে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি। সব হিসেব-নিকেশ হচ্ছে এই দুই প্রাথীকে ঘিরেই। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়ার অর্থ হলো, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ও ব্যস্ততম শহরের নির্বাহী কর্মকর্তা। শহরটির নতুন মেয়র যিনি হবেন, তাঁকে অনেক সমস্যা ও জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে আছে আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, যানজট ও গণপরিবহন।

নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে এ নির্বাচনের প্রভাব স্পষ্ট। নিউইয়র্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এছাড়া নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার মানে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া। সর্বশেষ তিনজন মেয়রের সবাই পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে যত বাংলাদেশির রয়েছেন, এর সিংহভাগই নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস করেন। বাংলাদেশি আমেরিকানদের ভোট নির্বাচনে বড় ভূমিকা না রাখলে মুসলিম ভোট হিসাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিরা চান এই শহরে একজন ‘ভালো’ মেয়র আসুক, যিনি অভিবাসী সমাজের স্বার্থকে বড় করে দেখবেন। বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ মামদানিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন। অন্যদিকে একটি অংশ অভিজ্ঞ হিসাবে ক্যুমোর পক্ষে কাজ করছেন। ডেমোক্রেটদের প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর বয়সের ব্যবধান অনেক। অ্যান্ড্রু কুমোর বয়স ৬৭ বছর। জোহরান মামদানি ৩৩।

নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক গভর্নরের সন্তান এবং নিজেও গভর্নর হওয়া ক্যুমোর কর্মজীবন বিস্তৃত। ২০১১ সালে নিউইয়র্কের গভর্নর হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন। অভিজ্ঞতাকে পূঁজি করে তিনি মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে তরুণ জোহরান মামদানির শক্তি তারুণ্য। মুসলিম হিসাবেও তিনি অগ্রভাগে রয়েছেন।
২০২১ সালে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কু্েযমা পদত্যাগ করেন। কয়েক বছর আগে পদত্যাগের আহ্বান জানানো মানুষদের সঙ্গেই তিনি আবার সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।

ক্যুমো তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন, তার মধ্যে আছে- শহরের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো। এমনকী নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক সিটির ন্যুনতম মজুরি ২০ ডলার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রতিশ্রুতি নিউইয়র্কবাসী ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে ক্যুমোর শিবিরের পক্ষ থেকে করা জরিপে দেখা গেছে, ৬০০ ভোটারের মধ্যে চালানো জরিপে তিনি ১২ পয়েন্টে এগিয়ে। তাঁর পক্ষে ৫৬ শতাংশ ও মামদানির পক্ষে ৪৪ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন।

এই সময়ে ৪ জুন প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম টিভি বিতর্ক হয়, আর ৫ জুন জনপ্রিয় কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ মামদানিকে তাঁর প্রথম পছন্দ হিসেবে ঘোষণা করেন। এসময়ে ক্যুমোর সমর্থক একটি সংগঠন টিভি ও মেইলে বিজ্ঞাপন চালিয়ে বলছে, মামদানি নাকি কর বৃদ্ধি করতে ও পুলিশ বিভাগের বাজেট কমাতে চান।
কম্পট্রোলার পদে জাস্টিন ব্রেনান এবং মার্ক লেভিনের মধ্যে হচ্ছে ভোটাভুটি। আর পাবলিক অ্যাডভোকেট পদে লড়ছেন জুমানে উইলিয়ামস ও জেনিফার রাজকুমার।

এছাড়াও সিটির ৫১ জন কাউন্সিলরকে নির্বাচন করতে ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে অ্যাসেম্বলিম্যান মামদানি, সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার এবং সাবেক আইনপ্রণেতা মাইকেল ব্লেক একে অপরের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। যা সিটির নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এর আগে স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস ক্যুমোকে সমর্থন দেন। র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রার্থীদের জোট এবং ক্রস এন্ডোর্সমেন্টের আরেকটি নতুন ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন নিউইয়র্ক সিটির ভোটারার।

এদিকে, গত সপ্তাহে প্রাক্তন মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ ক্যুমোকে সমর্থন করছেন এবং ক্যুমোর সমর্থনকারী একটি সুপার প্যাককে ৫ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন।ক্যুমোর নির্বাচনী প্রচারক দল জানিয়েছে যে, তারা ক্রস-এন্ডোর্সমেন্টে অবাক হননি এবং তারা এখনও বিশ্বাস করেন যে, নিউইয়র্ক সিটি পরিচালনার জন্য ক্যুমোর সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মামদানিকে বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থন

বাংলাদেশ ডেস্ক : নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদে মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানিকে সমর্থন করলেন বার্নি স্যান্ডার্স। এর আগে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন সিনেটর ওকাসিও-কর্টেজ। স্যান্ডার্সের মতো ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি মেয়ার পদে নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

কুওমো যৌন হয়রানির অভিযোগের মধ্যে পদত্যাগ করার পর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ৬৭ বছর বয়সী কুওমো ‘ফেবারিট’ হিসেবে প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলেন কিন্তু ৩৩ বছর বয়সী মামদানি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন এবং সিনেটর আলেকজান্দ্রা ওকাসিও-কর্টেজের মূল সমর্থন পেয়েছেন। একটি জরিপে এমনকি তাকে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।‘ইতিহাসের এই বিপজ্জনক মুহূর্তে, স্থিতাবস্থার রাজনীতি যথেষ্ট ভালো নয়।

আমাদের এমন নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন যারা শক্তিশালী কর্পোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং শ্রমিক শ্রেণীর জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত,’ বলেছেন ভার্মন্টের সিনেটর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল বামপন্থীর একজন শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব স্যান্ডার্স।

মামদানি এক্স পেজে-এ উত্তর দিয়েছিলেন: ‘এ দেশ জুড়ে অনেকের ক্ষেত্রে, বার্নি স্যান্ডার্স আমার জীবনের একক সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মেয়র হিসেবে, আমি প্রতিদিন শ্রমিক শ্রেণীর জন্য লড়াই করে তার উদাহরণ অনুসরণ করার চেষ্টা করব এবং আশা করি ব্রুকলিনকে গর্বিত করব।’

নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র, এরিক অ্যাডামস, যিনি ২০২১ সালে ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তিনি একজন সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুননির্বাচন চাইছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য ডেমোক্র্যাটরা তাকে ব্যাপকভাবে আক্রমণ করেছেন। সাধারণ মেয়র নির্বাচন ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি ২৪ জুন

বাংলাদেশ রিপোর্ট : নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি বা প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৪ জুন, মঙ্গলবার ২০২৫। সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ নভেম্বর ২০২৫। চলবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন সিটি কাউন্সিল সহ বিভিন্ন পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

আগাম ভোটদান সময়কাল ১৪ জুন থেকে ২২ জুন। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন আগাম ভোটদানের তারিখ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৪ জুন শনিবার থেকে ১৬ জুন সোমবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা; ১৭ ও ১৮ জুন মঙ্গল ও বুধবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা; ১৯ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা; ২০ জুন শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা; ২১ ও ২২ জুন শনি ও রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। কোন কোন ভোটকেন্দ্রে প্রাইমারি ভোট দেওয়া যাবে তার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

ভোটার যে এলাকায় বাস করেন, ওই এলাকার ঠিকানা ও জিপকোড দিয়ে ভোটকেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ভোটার তালিকাসহ কেন্দ্রের নামও পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কেও অবহিত করেছে। নিউইয়র্ক কাউন্টি, ব্রঙ্কস কাউন্টি, কিংস কাউন্টি, কুইন্স কাউন্টি, রিচমন্ড কাউন্টির তালিকা রয়েছে।

ওই তালিকায় যে যার ভোটকেন্দ্র খুঁজে পাবেন।১৪ জুন ভোটার হওয়ার শেষ দিন ছিল। এদিকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের মধ্যে যারা সিটিজেন এবং যারা ভোটার হওয়ার উপযুক্ত কিন্তু এখনো ভোটার হননি, তাদেরকে ভোটার হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। চালানো হয় প্রচার-প্রচারণা।নিউইয়র্ক সিটির প্রাইমারি নির্বাচনকে সামনে রেখে ড্রামবিটসএনওয়াইসি এর পক্ষ থেকে ভোটার হওয়ার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। প্রথম ডেমোক্রেটিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় ৪ জুন। আর ১২ জুন হয়েছে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত বিতর্ক। ভোট গ্রহণ

র‍্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং কী, কীভাবে কাজ করে

নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা এই পদ্ধতিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। ভোটাররা তাঁদের পছন্দের কয়েকজন প্রার্থীর ক্রম নির্ধারণ করেন। যেমন প্রথম পছন্দ, দ্বিতীয় পছন্দ এভাবে। প্রথম দফার গণনায় শুধু প্রথম পছন্দের প্রার্থীর ভোট গোনা হয়। যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তাহলে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আবার গণনা শুরু হয়। প্রতিটি নতুন দফার গণনায় বাদ পড়া প্রার্থীর ভোটগুলো তাঁর ভোটারদের ব্যালটে থাকা পরবর্তী পছন্দ অনুযায়ী অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে বণ্টন করা হয়।

সিটি মেয়র

বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির বার্ষিক বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের নগরীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। একশো বিলিয়নের অধিক ডলার বাজেটের এই সিটি প্রশাসনে ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ কর্মরত। নিউইয়র্ক সিটির গোড়াপত্তন ৩৬০ বছর পূর্বে ১৬৬৫ সালে। এরিক এডামস সিটির ১১০তম মেয়র হিসেবে আছেন ২০২২সালের জানুয়ারি থেকে।নিউইয়র্ক শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বে একজন তরুণ অভিবাসী এবং রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক এক গভর্নরের মধ্যে মূল লড়াইটা হবে। ওই তরুণ অভিবাসী ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। আর সাবেক ওই গভর্নর একজন মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ।ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার ডেমোক্র্যাট সদস্য জোহরান মামদানি এবং সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইপর্বকে প্রগতিশীল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রক্ষণশীল ধারার পুরোনো প্রজন্মের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৪ জুন প্রাথমিক বাছাইপর্বের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নিউইয়র্ক নগর মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই বলা যায়, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০২১ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে এরিক অ্যাডামস প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেছিলেন। সেই জয়ের পর থেকে এরিক অ্যাডামস জাতীয় পর্যায়েও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও যাঁরা প্রার্থী

ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস, সাবেক কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার, অঙ্গরাজ্যের সিনেট সদস্য জেসিকা রামোস, অঙ্গরাজ্যের সিনেট সদস্য জেলনার মাইরি, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও অঙ্গরাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতা মাইকেল ব্লেক এবং বিনিয়োগকারী হুইটনি টিলসন।নানা কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্তের মুখোমুখি বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে নির্বাচনে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলছে। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিখ অ্যাডামসসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বাংলাদেশি ভোটারদের অনেকেই জোহরান মামদানিকে সমর্থন দিয়েছেন।নির্বাচনে রক্ষণশীল অধিকারকর্মী কার্টিস স্লিওয়া একমাত্র রিপাবলিকান প্রার্থী

নতুন মেয়রকে যা সামলাতে হবে

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়ার অর্থ হলো, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ও ব্যস্ততম শহরের নির্বাহী কর্মকর্তা। শহরটির নতুন মেয়র যিনি হবেন, তাঁকে অনেক সমস্যা ও জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে আছে আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, যানজট ও গণপরিবহন।নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে এ নির্বাচনের প্রভাব স্পষ্ট। তবে প্রতিবছর শহরটিতে ভ্রমণে আসা প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ওপরেও এ নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পড়বে।

রাজনৈতিকভাবে প্রাথমিক বাছাইপর্বের এ প্রতিযোগিতা ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ এবং দলটির বামপন্থী অংশের প্রার্থীদের নির্বাচনী সক্ষমতা বোঝার পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং দুই বছর পর হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এ বাছাইপর্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার মানে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া। সর্বশেষ তিনজন মেয়রের সবাই পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক নগর মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই বলা যায়, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০২১ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে এরিক অ্যাডামস প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করেছিলেন। সেই জয়ের পর থেকে এরিক অ্যাডামস জাতীয় পর্যায়েও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কারা

অ্যান্ড্রু কুমো : ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ৬৭ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু কুমো এবং ৩৩ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নরের সন্তান এবং নিজেও গভর্নর হওয়া কুমোর কর্মজীবন বিস্তৃত।

২০১১ সালে নিউইয়র্কের গভর্নর হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করেছেন।২০২১ সালে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমো পদত্যাগ করেন। তিনি এখন রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। কুমোকে কয়েক বছর আগে পদত্যাগের আহ্বান জানানো মানুষদের সঙ্গেই তিনি আবার সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। কুমো তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন, তার মধ্যে আছে শহরের ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো। কুমো একজন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

জোহরান মামদানি: ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর জোহরান মামদানি জন্মগ্রহণ করেন উগান্ডার কাম্পালায়। তার বাবা মাহমুদ মামদানি একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উগান্ডার মার্কসবাদী স্কলার এবং তার মা মীরা নায়ার ভারতীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা। পাঁচ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে চলে আসেন। সাত বছর বয়সে তারা নিউ ইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। জোহরান ব্যাঙ্কের চিলড্রেন থেকে প্রথমে পড়াশোনা করেন এবং পরে ব্রঙ্কস হাই স্কুল অফ সায়েন্স থেকে পাশ করেন। এর পর তিনি পড়াশোনা করেন বাউডইন কলেজে এবং ২০১৪ সালে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজে থাকাকালীন তিনি শুরু করেন ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ আন্দোলন।

জোহরান রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন একজন ফোরক্লোজার প্রিভেনশন কাউন্সিলর হিসেবে, পরে স্থানীয় প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। এর মধ্যে রয়েছে আলি নাজমি, খাদের এল-ইয়াতিম, রস বারকান এবং টিফানি কাবানের ভূমিকা। তিনি ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের সঙ্গে যোগ দেন।

মামদানি ২০২১ সালে কুইন্সের ৩৬তম ডিস্ট্রিক্টের নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ২০২২ এবং ২০২৪ সাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টদের একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য। মামদানি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে কাজ করেন এবং ২০টি বিলের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন যার মধ্যে তিনটি পরিণত হয়েছে আইনে ।
জোহরান মামদানি বার্নি স্যান্ডার্স দ্বারা অনুপ্রাণিত। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে বিনামূল্যে সিটি বাস ভ্রমণ, ফ্রিজ ভাড়া, শহরের মালিকানাধীন মুদিখানা এবং ৩০ ডলার ন্যূনতম মজুরির পক্ষে দাবি করেছেন। ইসরাইল-ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে, তিনি বিডিএসকে সমর্থন করেন, অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করেন এবং গাজা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ইহুদি-বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকারকে সমর্থন করেন। তিনি বৈষম্য বিরোধী আইনের পক্ষে এবং লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক তহবিল হ্রাসের প্রতিবাদ করেন।

জোহরান মামদানি কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) সমর্থিত প্রার্থী।মাত্র ৩৩ বছর বয়সী মামদানি নিজেকে এমন একজন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি হারাতে পারেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে। তিনি ভোটারদের মন জয় করতে আবাসন, গণপরিবহন ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ওপর জোর দিচ্ছেন।

জনমত জরিপ গুলোয় দেখা গেছে, ছোট দাতাগোষ্ঠী এবং বামপন্থী স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে মামদানির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। জোহরান মামদানি নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন নিউইয়র্ক নগরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা-বাবার সন্তান মার্কিন মেয়র।
গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভোট দেবে বাইসরায়েল কতটা সামরিক সহায়তা পাবে, তা নিউইয়র্ক নগরের পরবর্তী মেয়র ঠিক করবেন না।

তবু স্থানীয় নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব পড়বে।মামদানি জোরালোভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের বাইরে অনশন করেছিলেন। জোহরান মামদানির এমন অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও রিপাবলিকান পার্টির নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য বিকি প্যালাডিনো সম্প্রতি তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার দাবি জানান।

জরিপ কী বলছে : যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকোতে ৯ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা এখন মোটামুটি পরিষ্কার, মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে এখন মূল লড়াই হচ্ছে অ্যান্ড্রু কুমো আর জোহরান মামদানির মধ্যে। প্রতিবেদনে দুটি নতুন জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়। মামদানির পক্ষের দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’-এর মাধ্যমে চালানো জরিপে দেখা গেছে, কুমো এখন মামদানির চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। তবে কুমোর নিজের পক্ষের আরেকটি জরিপ বলছে, তিনি মামদানির চেয়ে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।

‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’ ৩০ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৮১৯ ডেমোক্র্যাট ভোটারের মধ্যে জরিপ চালায়। এতে দেখা গেছে, ভোটের শুরুর দিকে কুমো ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থাকলেও ধাপে ধাপে ভোট গণনার (র‍্যাঙ্কড চয়েস) শেষে কুমো ৫১-৪৯ ব্যবধানে মামদানির চয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এই জরিপে মার্জিন অব এররও (কিছুটা ভুলত্রুটি) থাকতে পারে। কারণ, দুজনের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম।মামদানির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘নিউইয়র্কারস ফর লোয়ার কস্টস’ সুপার পিএসি এবং ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি’-এর জাতীয় পিএসির পক্ষ থেকে ‘ডেটা ফর প্রগ্রেস’–এর মাধ্যমে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

ফলাফল বলছে, মামদানির দারিদ্র্য আর ধনীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি অনেক ভোটারকে আকর্ষণ করছে, বিশেষ করে যাঁরা বাসস্থানসংকট ও দাম বাড়ার বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত। অবশ্য অনেকেই বলছেন, মামদানি তুলনামূলকভাবে তরুণ ও তাঁর অভিজ্ঞতা কম।
নিউইয়র্কারস ফর লোয়ার কস্টসের মুখপাত্র বিল নাইডহার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, এই জরিপ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, নিউইয়র্কের মানুষ এখন জোহরান মামদানির মতো এমন একজন মেয়র চান, যিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো নিয়ে ভাবেন। তাঁরা কেলেঙ্কারিতে জড়ানো অ্যান্ড্রু কুমোর মতো এমন একজন ব্যক্তিকে চান না।

অন্যদিকে কুমোর শিবিরের পক্ষ থেকে করা জরিপে দেখা গেছে, ৬০০ ভোটারের মধ্যে চালানো জরিপে তিনি ১২ পয়েন্টে এগিয়ে। তাঁর পক্ষে ৫৬ শতাংশ ও মামদানির পক্ষে ৪৪ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। এই সময়ে ৪ জুন প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম টিভি বিতর্ক হয়, আর ৫ জুন জনপ্রিয় কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ মামদানিকে তাঁর প্রথম পছন্দ হিসেবে ঘোষণা করেন।

আগাম ভোটের রেকর্ড

বাংলাদেশ ডেস্ক : নিউইয়র্ক সিটির মেয়রসহ বিভিন্ন পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের আগাম ভোট চলছে। পাঁচটি বরোতেই আগাম ভোটদানে ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এনওয়াইসি নির্বাচন বোর্ডের অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুসারে চতুর্থ দিন (মঙ্গলবার) শেষে মোট ১৩১,৮৮২ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। তারমাধ্যে ম্যানহাটন: ৪৩,৪২৭, ব্রুকলিন: ৪৭,০৫২, কুইন্স: ২৬,৩৮৩, দ্য ব্রঙ্কস: ১০,৪৯৭ এবং স্টেটেন আইল্যান্ড: ৪,৫২৩।প্রথম দুইদিন শনি ও রোববার রেকর্ড ৬৬ হাজার ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২১ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রথম দুই দিনের ভোটগ্রহণের তুলনায় এটি দ্বিগুণ। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে মেয়র প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারের পর আলোচিত প্রার্থী জোরান মামদানিকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আরেক মেয়র প্রার্থী মাইকেল ব্ল্যাকও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে ভোটের রাজনীতিতে মামদানির হাত আরও শক্তিশালী হবে। নিউ ইয়র্ক সিটির ১১ ডেমোক্র্যাটিক মেয়র প্রার্থীর ভোটের লড়াই শুরু হলেও মূল লড়াইটা হচ্ছে দুই মেয়র প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো ও কুইন্সের ৩৩ বছর বয়সী অ্যাসেম্বলিম্যান জোরান মামদানির মধ্যে।

মেয়র প্রার্থীদের প্রচার : প্রচার অব্যাহত রেখেছেন সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা। আগাম ভোট গ্রহণের প্রথম দিনেই ম্যানহাটনে জোরান মামদানির সমর্থনে জনসভা করেছেন আরেক আলোচিত কংগ্রেসওম্যান আলেক্সজান্দ্রিয়া ওকাশিও কর্টেজ। এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা জরিপে শীর্ষে উঠে এসেছেন মুসলিম তরুণ মামদানি। পাশাপাশি তাকে ‘ক্রস এনডর্সমেন্ট’ ঘোষণা করেছেন দুই মেয়র প্রার্থী কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার ও সাবেক অ্যাসেম্বলিম্যান মাইকেল ব্ল্যাক।

এ দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থন ভোটের রাজনীতিতে মামদানিকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে গোল পাকাচ্ছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এডিটোরিয়াল বোর্ড। এবারের মেয়র নির্বাচনে তারা কোনো প্রার্থীকে এনডোর্স করবে না বলে আগাম ঘোষণা দিলেও গত ১৬ জুন সোমবার আকস্মিকভাবে তারা জোরান মামদানিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কাকে ভোট দেবে, সেটি স্পষ্ট না করলেও তারা মনে করছে, মামদানি অনভিজ্ঞ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মূল সমস্যা বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন না তিনি। এত আলোচনার ভিড়ে ডেমোক্র্যাটিক ভোটাররা কাকে মেয়র পদে লড়াই করার যোগ্য মনে করেন, তা নির্ধারিত হবে ২৪ জুন, প্রাইমারির চূড়ান্ত ভোটের দিন।

Posted ১২:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.