বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও ফিরছে বংশ পরম্পরা। কেনেডি, বুশ, ক্লিনটনের পর এবার ট্রাম্পদের পালা! ২০১৭ সালে হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদার্পণের পর থেকেই তার পরিবার ধীরে ধীরে রাজনীতির বৃত্তে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার দ্বিতীয় পুত্র এরিক ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমিও পারব’। শুধু তিনি নন, পরিবারের একাধিক সদস্যের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ উচ্চাশা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নতুন এক রাজনৈতিক বংশের উত্থান প্রত্যক্ষ করতে চলেছে। এএফপি।
শনিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এরিক ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, যদি তিনি তার বাবার পদক্ষেপ অনুসরণ করে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই পথ তার জন্য সহজ হবে।
আপনি কি আপনার পরিবারকে এই রাজনৈতিক অঙ্গনে টেনে আনতে চান এমন প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, ‘উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আমাদের রাজনীতি করার পথটা সহজ হয়। আমি মনে করি আমি এটা করতে পারি। এমনকি আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও এটি করতে পারে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি এখনকার অর্ধেক রাজনীতিবিদকে দেখে হতাশ হই। আমি খুব কার্যকরভাবেই এই কাজ করতে পারব’। তার এই মন্তব্য অনেকের কাছেই একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল প্রার্থিতার পূর্বাভাস বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ইতোমধ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এরিক নিজে দীর্ঘদিন পারিবারিক ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন।
তবে এখন রাজনীতির পথে অগ্রসর হতে দেখা যাচ্ছে তাকে। নিজের রাজনৈতিক দক্ষতার ব্যাপারেও তার আস্থা আছে এবং তিনি মনে করেন, অনেক রাজনীতিবিদের থেকেও আরও ভালোভাবে এই কাজ করতে পারবেন।
এরিক ট্রাম্প শুধু ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শীর্ষ নির্বাহীই নন, বরং ধীরে ধীরে নিজেকে তুলে ধরছেন একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অংশ হিসাবেও। ১৯৮৪ সালের ৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া এরিক, ব্যবসায়ী মা ইভানা ট্রাম্পের সন্তান। বড় ভাই ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও বোন ইভাঙ্কার পর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন তিনি।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর বাবার গড়ে তোলা রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচনায় এরিক ওঠে এসেছেন এক ভিন্ন পরিচয়ে-যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবিদার হিসাবে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন রাজনীতিতে বেশ কয়েকজন প্রেসিডেন্টের পরিবার বংশ পরম্পরায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলেন, কেনেডি পরিবার, বুশ পরিবার এবং ক্লিনটন পরিবার। জোসেফ পি. কেনেডি সিনিয়র ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং কূটনীতিক। তার পুত্র জন এফ. কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার আরেক পুত্র রবার্ট এফ. কেনেডি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সিনেটর।
কেনেডি পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার পুত্র জর্জ ডব্লিউ. বুশ ৪৩তম প্রেসিডেন্ট হন। এছাড়া বিল ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিনেটর ছিলেন।
Posted ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh