বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
৪ জুলাই ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এ স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিল অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে ২৫০ ডলারের নতুন ‘ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি’ কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে পর্যটন, পড়াশোনা বা কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ভিসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এই নতুন নিয়মের কারণে বাংলাদেশিদের জন্যও মার্কিন ভিসা খরচ বাড়তে পারে, কারণ এই ফি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রায় সব ক্যাটাগরিতে প্রযোজ্য।
ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি কী : মার্কিন ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি হলো বিদ্যমান ভিসা খরচের ওপর নতুন করে ২৫০ মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩০ হাজার টাকা) অফেরতযোগ্য সারচার্জ। এটি ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। ভিসা ইস্যুর সময় এটি বাধ্যতামূলকভাবে পরিশোধ করতে হবে। ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) দ্বারা পরিমাপ করা মুদ্রাস্ফীতির ভিত্তিতে প্রতিবছর এই ফি সমন্বয় করা হবে।
কারা এই ফি দেবেন : এই ফি অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার মধ্যে রয়েছে— বি-১/বি-২ (পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা), এফ এবং এম (শিক্ষার্থী ভিসা), এইচ-এয়ান বি (কাজের ভিসা) ও জে (এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা)। শুধু ‘এ’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির কূটনৈতিক ভিসাধারীরা এই ফি থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর অর্থ হলো, ভারতসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, প্রযুক্তি পেশাজীবী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী—সবাই এই অতিরিক্ত চার্জের আওতায় পড়বেন।
খরচ কতটা বাড়বে : বর্তমানে একটি মার্কিন বি-১/বি-২ ভিসার খরচ ১৮৫ মার্কিন ডলার বা ২২ হাজার ২০০ টাকা। নতুন ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি, আই-৯৪ ফি (২৪ ডলার) ও ইএসটিএ ফির (১৩ ডলার) মতো অন্যান্য ছোটখাটো ফি যোগ করলে মোট খরচ হবে প্রায় ৪৭২ মার্কিন ডলার বা ৫৬ হাজার ৬৪০ টাকা। এটি বর্তমান ভিসা খরচের প্রায় আড়াই গুণেরও বেশি। শিক্ষার্থী বা কর্মীদের এফ বা এইচ-ওয়ান বি ভিসার ক্ষেত্রেও খরচ বাড়বে।
ফি কি ফেরতযোগ্য : এই ফি বাতিল বা কমানো যাবে না, তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্তে এটি ফেরতযোগ্য হতে পারে। যদি ভিসাহোল্ডার ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন, যেমন—ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন বা আইনতভাবে তাঁদের থাকার মেয়াদ বাড়ান অথবা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেন (যেমন—গ্রিন কার্ড পাওয়া), তাহলে এই ফি রিফান্ডের যোগ্য হবে। যদি কোনো ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করেন বা ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করেন, তাহলে রিফান্ড প্রযোজ্য হবে না।
কেন এই ফি আরোপ করা হয়েছে : মার্কিন সরকার এই ফি একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে চালু করেছে, যা ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিকদের আইনসম্মত আচরণকে উৎসাহিত করবে বলে তারা মনে করছে। এটি একটি নিরাপত্তা আমানত হয়েছে, কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদেরও ভিসার নিয়ম অনুসরণ করতে বাধ্য করবে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এই নীতি পরিচালনা করবে এবং প্রতিবছর মুদ্রাস্ফীতির ভিত্তিতে ফির পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করবে।
ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি ছাড়াও ট্রাম্পের ৯০০ পৃষ্ঠার ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এ রেমিট্যান্সের ওপর ১ শতাংশ আবগারি শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের দেশে টাকা পাঠাতে এখন খরচ বেশি পড়বে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসননীতি কঠোর করতে এবং সেখানে বসবাসকারী বা কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এটি একটি আইনগত চেষ্টা।
‘জাল তথ্য দিলে মার্কিন ভিসা পাবেন না, জানানো হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে’ : যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে কোনো আবেদনকারী যদি জাল নথি দেয় বা আবেদনকারী সম্পর্কে নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়, সেটি দূতাবাসের কনস্যুলার অফিসার দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সরবরাহ করে। সোমবার (২১ জুলাই) ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুকে ভিসা সংক্রান্ত এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ভিসা আবেদনে আমাদের কনস্যুলার অফিসাররা কোনো জাল নথি খুঁজে পেলে, অথবা আবেদনকারী সম্পর্কে নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে, সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে আমরা তা জানাই। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী বা অসাধু ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে আমরা একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি।
স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছে পাঁচ লক্ষাধিক অভিবাসী
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নানান পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছর ৫ লক্ষাধিক অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এইআই) গবেষকরা এ তথ্য দিয়েছেন। এইআইয়ের মতে এ ঘটনায় অভিবাসন হ্রাস পাওয়ার প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে উৎপাদন সেক্টরে। ‘ম্যাক্রোট্রেন্ডস’ নামক আরেকটি অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গত বছর এভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগকারী অভিবাসীর সংখ্যা নিরূপণ করেছিল ১৩ লাখ। আর করোনা মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে ৩ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসী।
যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণে এর নেতিবাচক প্রভাবের তথ্যই উপস্থাপন করেছেন এইআইয়ের গবেষকরা। মার্কিন শ্রম দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কলকারখানা, খেতখামার এবং হাটবাজারের স্টোর-রেস্টুরেন্টসমূহে কর্মরতদের ১৯.২% হলো অভিবাসী। এসব শ্রমিক-কর্মচারী বেতন-ভাতা বাবদ যে আয় করছে তার বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। দি আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভিবাসীদের বার্ষিক অবদান ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২৯৯ বিলিয়ন ডলারই ব্যয় করে অবৈধভাবে বসবাসরতরা। ২০২৩ সালে অভিবাসীরা বাসা ভাড়া বাবদ প্রদান করেছে ১৬৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অভিবাসন তাড়ানোর প্রতিক্রিয়া নানানভাবে দেখা দেবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে।
ডালাসে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক গত সপ্তাহে আরেকটি গবষণা রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, অভিবাসীরা চলে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে তাদের অবদান হ্রাস পেয়েছে ০.৭৫%। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আবিগাইল জ্যাকসন গণমাধ্যমে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এজেন্ডা হচ্ছে গরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানো।
এবং এর মধ্য দিয়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুসংহত হচ্ছে। জীবনযাপনের মান বাড়ছে। আমেরিকানদের ট্যাক্সেও অর্থ বেহাত হচ্ছে না অর্থাৎ সিটিজেনরা তা ভোগের সুযোগ পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী সিটিজেনরাই সবকিছু ভোগ করবে এবং এভাবেই আমেরিকা স্বর্ণযুগে প্রবেশের পথ সুগম হচ্ছে।’
Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh