বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গত ১৯ জুলাই রাতে এক অফ-ডিউটি বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা নিউইয়র্ক সিটিতে অভিবাসন এজেন্টদের সংখ্যা ‘ফ্লাড দ্য জোন’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ২২ জুলাই সোমবার এই ঘোষণা দিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়াম বলেন, এই হামলা ছিল “সাংকচুয়ারি শহরের ব্যর্থ নীতির সরাসরি ফল”, যেখানে শহর প্রশাসন অভিবাসন সংক্রান্ত আটকাদেশ মানে না এবং অপরাধীদের জেল থেকে ছেড়ে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৯ শনিবার রাতে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজের পাশে হাডসন নদীর ধারে এক অফ-ডিউটি ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তা এক বন্ধুর সঙ্গে বসে ছিলেন। তখন দুটি স্কুটারে থাকা দুই ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে তাকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরে এজেন্ট ও সন্দেহভাজন দু’জনের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এক অভিযুক্ত, ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজ, যিনি একজন অননুমোদিত অভিবাসী এবং নিউইয়র্কে বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরো একজন অবৈধ অভিবাসী সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ক্রিস্টি নোয়াম জানান, মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা একজন ডোমিনিকান নাগরিক যিনি ২০২৩ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই চারবার গ্রেপ্তারি অভিযোগ রয়েছে-হামলা, ডাকাতি এবং অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন আদেশও জারি হয়েছিল। কিন্তু নিউইয়র্ক সিটির ‘সাংকচুয়ারি’ নীতির কারণে তাকে আটক রাখা হয়নি। “এই ঘটনা এড়ানো যেত। এটা হয়েছে কারণ নিউইয়র্ক অপরাধীদের রাস্তায় ছেড়ে দেয়,”- বলেন নোয়াম। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে পাস হওয়া আইনের আওতায়, পুলিশ বা শহরের কোনো সংস্থা সাধারণত ফেডারেল ডিপোর্টেশন অনুরোধ মানে নাÑযদি না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিগত পাঁচ বছরে ১৭০টি গুরুতর অপরাধের মধ্যে অন্তত একটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি ইত্যাদি। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতি না ছড়িয়ে সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই নীতিই এখন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।“আপনারা যদি আমাদের জেলে প্রবেশ করতে না দেন, তাহলে আমরা রাস্তায় গিয়ে অভিযানে নামব,”- বলেছেন প্রশাসনের সীমান্ত উপদেষ্টা টম হোম্যান। তিনি আরও বলেন, “আপনারা ভাবছেন আমরা চলে যাব, কিন্তু আমরা আরও বেশি কর্মকর্তা পাঠাব। ফলে ‘সাংকচুয়ারি শহরগুলো’ তাদের নিজস্ব নীতির কারণে আরও বেশি ফেডারেল নজরদারি পাবে।”
এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৫০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সীমান্ত নিরাপত্তা বাজেট অনুমোদন করেছে। এতে রয়েছে ১০ হাজার নতুন অভিবাসন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং দেশে আটক কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা। নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এ নিয়ে বলেন, “আমাদের আইন অনুযায়ী, আমরা কী করতে পারি, তা স্পষ্ট। বিপজ্জনক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সমন্বয় করে কাজ করি।” তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, অপরাধীকে আটক না করে ছেড়ে দিলে শেষমেশ সমাজই তার মূল্য চুকায়।
Posted ১২:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh