শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

জেএফকে এয়ারপোর্টে নজিরবিহীন ঘটনা : এনসিপির নেতারা আওয়ামী টার্গেট

রাজনীতিকদের হেনস্থায় বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাস জড়িত!

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজনীতিকদের হেনস্থায় বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাস জড়িত!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সফরসঙ্গী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিউইয়র্ক জেএফকে এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগের হাতে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ব্যর্থতার কারণে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ গত কয়েকদিন ধরেই নিউইয়র্কে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে “ভয়ঙ্কর অবস্থার” মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও এবং এর আগে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা এবং কনস্যুলেটে আক্রমণের ঘটনার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনিপ্রতিনিধিদলের সদস্যদের ।

শুধু মিশনের একক ব্যর্থতাই নয়, দেশে-বিদেশে আওয়ামী গুন্ডা-মাস্তানদের হুমকি এবং কয়েকটি দেশে একাধিক উপদেষ্টার ওপর হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নীরবতা পালন ও জাতিসংঘ বিষয়ক কোনোকিছু শুধু বাংলাদেশ মিশনের এখতিয়ারভূক্ত বলে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করলেও তারা বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে নিরাপত্তা দানে কোনো ভূমিকা না রাখার জন্য সমান দায়ী। তাছাড়া প্রটোকল অনুযায়ী সরকার প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে ভিআিইপি টারমাকে স্বাগত জানানোর কথা নিউইয়র্কে আগাম উপস্থিত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন প্রধান এবং ওয়াশিংটনে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের। তারা তাকে স্বাগত জানিয়ে তার জন্য নির্ধারিত হোটেলে নিয়ে যান। কিন্তু তাকে ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে ও তার আগমনে বিক্ষুব্ধদের কে বা কারা ড. ইউনুস ও তার সফরসঙ্গীরা ৮ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসছেন বলে বিভ্রান্ত করেছেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী রাজনীতিকদের হেনস্থার দায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন ও ওয়াশিংটন দূতাবাসের। এই প্রতিষ্ঠান দুটোর রাষ্ট্রদূতরা কোনভাবেই তাদের অভিসন্ধি বা ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন না।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নজিরবিহীন ও ন্যাক্কারজনকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে জেএফকে এয়াপোর্টে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে দলটির নামে চলছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। তারাই হামলে পড়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকারী দেশের রাজনীতিকদের ওপর। বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দকে কিছুটা ছাড় দিলেও এনসিপি দু’জনের প্রতি তাদের আক্রোশ ছিলো চরম। তাদের মূল টার্গেট ছিলো এনসিপি। আওয়ামী লীগ কর্মীরা ডিম মেরেছে এনসিপির সেক্রেটারি আখতার হোসেনের ওপর, চেষ্টা করেছে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে। দলটির অপর নারী নেত্রী ডা. তাসনিম জারাকে গালিগালাজ করেছে অশ্রাব্য ভাষায়। জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ তাহের দলীয় নেতা-কর্মীদের সহায়তায় এয়ারপোর্ট ত্যাগ করতে পারলেও ফেঁসে যান বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইমলাম আলমগীর। তাকেও কটুক্তি করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এসময় সেখানে জামায়াতের অপেক্ষমান সমর্থক ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও এনসিপির কোন নেতাকর্মী ছিলেন না। যদিও বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী এয়ারপোর্টের ৮নং টার্মিনালে বিশাল সমাবেশ করে অপেক্ষায় ছিলেন দলীয় নেতাদ্বয়কে স্বাগত জানাতে। বিপুলসংখ্যক জামায়াত সমর্থকও ছিলো ৪ নং টার্মিনালে। কিন্তু তাদেরকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। জানানো হয়, সফরসঙ্গী রাজনীতিবিদরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে আগেই এয়ারপোর্ট ত্যাগ করেছেন।

এই সংবাদের উপর ভিত্তি করে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সমর্থকরা এয়ারপোর্ট ছেড়ে যান। তবে কিছুসংখ্যক জামায়াত সমর্থক তখনও সেখানে থেকে যান, পরবর্তীতে যারা এনসিপি ও বিএনপি নেতাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

অপরদিকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী সমর্থক উৎপেতে থেকে যায় এয়ারপোর্টে। এখানেই প্রশ্ন থেকে যায়- কারা আওয়ামী সমর্থকদেরকে এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করার বার্তা দেন। যারা অতিথিদের প্রটোকলের দায়িত্বে ছিলেন তারাই এ কাজটি করেছেন। এক্ষেত্রে বাাংরাদশে মিশনের তিন কর্মকর্তা যারা প্রটোকল, পরিবহন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এরা হলেনÑ প্রটোকল অফিসার শোয়েব আব্দুল্ল্যা, পরিবহন কর্মকর্তা হাসান আল জামান ও এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী। এদের সবাই ছাত্রলীগের কোটায় চাকরিতে ঢুকেছেন আওয়ামী লীগ শাসনামলে। এরা ফ্যাসিবাদী আমলের শতভাগ সুবিধভোগী। আর এসব কর্মকর্তাই আওয়ামী লীগের সাথে যোগসাজস করে তাদেরকে নেকড়ের মুখ ফেলে দিয়েছেন। আর এসব কারণে কোনভাবেই দায় এড়াতে পারে না জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন ও ওয়াশিংটন দূতাবাস।

এমনও জানা গেছে যে, গতবছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভকারী কূটনীতিক সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী জেএফকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ওপর যে আওয়ামী পাণ্ডারা হামলা করবে, তা আগাম জানা সত্ত্বেও ইচ্ছা করেই তিনি প্রতিনিধিদলের আগমন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কয়েক মাস আগে অন্তবর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আওয়ামী মাস্তানদের দ্বারা হেনস্থার শিকার হন। জানা গেছে যে তার ওপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানি দিয়েছিলেন তারেক মো: আরিফুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।এর আগে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তাকে আওয়ামী ঘেঁষা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তোয়াজকারী একজন কূটনীতিক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োজিত থাকাকালে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে চেয়ে ভারতের স্বার্থরক্ষার প্রতি অধিক মনোযোগী ছিলেন।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর কূটনৈতিক অদক্ষতার কারণে তিনি জতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় ভারতের পক্ষে ভোট দেওয়ায় তৎকালিন স্থায়ী প্রতিনিধি ইসমত জাহান নোমানকে জাতিসংঘের কোনো বৈঠকে অংশগ্রহণ করা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বিরত রাখেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানান অবিলম্বে নিউইয়র্ক মিশন থেকে প্রত্যাহার করতে বলেন। মন্ত্রণালয় নোমানকে জাতিসংঘ মিশন থেকে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে বদলি করে। সেই বহুল সমালোচিত অফিসারকে পুনরায় নিউইয়র্ক মিশনে পোষ্টিং দেয়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিউইয়র্কের প্রবাসি বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। কিন্তু মিশনে যোগ দেওয়ার পর নোমান নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিত্বশীল কারো সঙ্গে, এমনকি স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটি সংবাদপত্রগুলোর সাংবাদিকদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ রাখার প্রয়োজন বোধ করেন না। এর কারণ হিসেবে ধারণা করা হয় যে, তিনি তার কূটনৈতিক অদক্ষতা ও তার অতীত অপকর্ম এবং বিশেষ করে তার আওয়ামী যোগসূত্রের কারণে অন্তবর্তী সরকারের আমলে প্রকাশ্যে না এসে গোপনে আওয়ামী লীগারদের সঙ্গে যোগসূত্র বজায় রেখেছেন। তার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া সত্বেও অন্তবর্তী সরকার তাকে মিশন প্রধান হিসেবে নিয়োগে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ক্ষুব্ধ। স্থায়ী মিশনে নোমান চৌধুরীর নিয়োগের আগে তিনি কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন তারেক মো: আরিফুল ইসলাম। তিনি সদ্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বর্তমান মিশন প্রধান সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো: আরিফুল ইসলাম ১৯৯৮ সালে পররাষ্ট্র দফতরে যোগ দেন। তারা ছাত্রজীবনে উভয়েই ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পেশাজীবনে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্যই ভূমিকা রেখেছেন। তারা কেবল জেএফকে এয়ারপোর্টে জাতিসংঘ অধিবেশনে আগত বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার জন্য দায়ী নয়, পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ার দায়ও তাদেরই।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় থেকে এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞ মহল আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন যে, ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অস্থিতিশিলতার সুযোগ নিয়ে তার বিতর্কিত পদায়ন বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। তাদের আশঙ্কা যে সত্য তা জেএফকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আওয়ামী লীগারদের লাঞ্ছনার শিকারে পরিণত হতে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তাকে মিশন থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

জেএফকের ঘটনা বাংলাদেশ মিশন কমকর্তাদের পূর্ব পরিকল্পিত

সোয়েব আব্দুল্লাহ বর্তমানে নেপাল বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিপুটি চিফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তিনি। ফজলুল হক মুসলিম হলের ২০০৯-১০১২ সালে ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীকালে ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল কমিটিতেও দায়িত্বে ছিলেন। হলে বহু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন চালিয়েছে শিবির ও ছাত্রদল ট্যাগ দিয়ে। শেখ হাসিনার অনুগত ছিলো।হাসিনার শেষ সময়ে তাকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়। নিউইয়র্ক মিশন থেকে তাকে শিফট করানো হলেও তার কানেকশন থেকে যায়। জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সফরসঙ্গীদের ওপর আওয়ামী লীগের মাস্তানদের হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেনতিনি। রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান তাকে নিউইয়র্কে নিয়ে এসে প্রধান উপদেষ্টার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাজনৈতিক নেতাদের প্রটোকলে কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্ব রাখেন।

প্রথমে দূতাবাস থেকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের জানানো হয় ৮ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে বের হবেন প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীরা। ফলে, তারা আগে থেকেই ৮ নম্বর টার্মিনালে অপেক্ষারত ছিলেন অতিথিদের ওয়েলকাম জানাতে। কিন্তু বিমান ল্যান্ড করার কিছুক্ষণ পর দূতাবাস থেকে তাদেরকে জানানো হয় আপনারা চলে যান, প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী সবাই ভিভিআইপি গেইট দিয়ে বেরহবেন। এই তথ্য শোনে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা বাসায়ফিরতে থাকেন।

একটু পরইজানানো হয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দবের হবেন ৪ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে।সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যখন ৮ নম্বর টার্মিনাল থেকে ৪ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে বের করা হলো অতিথিদের, সেই তথ্য লীগ কিভাবে ইমিডিয়েটলি পেয়ে গেল, যেখানে বিএনপি-জামায়াতকে জানানোই হলো না? এই সিদ্ধান্ত ছিল রহস্যজনক। এরমধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ৪ নম্বর টার্মিনালে তাৎক্ষণিকভাবে চলে আসেন।

মির্জা ফখরুল, আবদুল্লাহ তাহের, আখতার ও তাসনিম জারা যখন টার্মিনাল ৪ দিয়ে এক্সিট করছেন তখন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাইরে থেকে ওয়েলকাম জানান তাদেরকে। এরমধ্যে তারা সামনে আগালে তাদের ঘিরে মানববেষ্টনী তৈরি করে সামনে এগোতে থাকে নেতাকর্মীরা, কিন্তু ফখরুল সাহেবকে প্রটোকল থেকে টেনে নিয়ে যায় নেপাল দূতাবাসের ডিপুটি চিফ এই ছাত্রলীগ সাবেক নেতা শোয়েব। ফখরুল সাহেব যেতে চান নাই৷ উনি পেছনে ঘুরে তাহের সাহেবকে দেখিয়ে একসঙ্গে যেতে দাঁড়ালেন। কিন্তু শোয়েবের সঙ্গে নিউইয়র্ক দূতাবাসের আরও ২জন কর্মকর্তা তাকে টেনে গেইট থেকে বের করে ফেলে। আচমকা পরিস্থিতির শিকার ফখরুল সাহেব সামনে পা বাড়ালে আখতার ও জারা তাকে অনুসরণ করে হাঁটেন। ফখরুল, আখতার এবং জারাকে একা পেয়ে গেইটের বাইরে লীগের মাস্তানেরা অপদস্থ করে। একটা ছেলেকে দেখা যায় গা ঘেঁষে এই যে ফখরুল, ফখরুল বলে তুইতোকারি করে হেনস্থা করতে৷ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শোয়েব আবদুল্লাহ নেপাল দূতাবাসের কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন এবং প্রধান উপদেষ্টার সফরে প্রোটোকলে কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্ব ছিলেন?

আখতারের ওপর ডিম নিক্ষেপকারী যুবলীগ নেতা মিজান জামিনে মুক্ত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে সফররত ড. ইউনূসের প্রতিনিধি দলে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম নিক্ষেপ করা যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ৯টায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। ওয়াশিংটন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার রাতে জ্যাকসন হাইটস নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ এসে তাকে শনাক্ত করে ঘিরে ফেলে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ড. ইউনূসের প্রতিনিধি দলে থাকা নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম মেরে লাঞ্ছিত করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কিছুটা বিলম্বে বিমানবন্দর থেকে বের হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং কয়েকজন বিএনপির কর্মী তাদের নিরাপত্তা দিয়ে বের করার চেষ্টা করেন। এ সময় আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন কর্মী।তাসনিম জারাকেও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন তারা। প্রতিবাদে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান তোলেন আখতার। পরে পুলিশের সহযোগিতায় গাড়িযোগে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন তারা।

Posted ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.