বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
বলরুম নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু
হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ২৫ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। প্রশ্ন উঠেছে- কে বা কারা দিচ্ছেন এই বিপুল অর্থ। এ প্রশ্ন এখন ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলেও। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, সোমবার থেকে ৯০ হাজার বর্গফুটের এই বিশাল বলরুমের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এক্সকাভেটর ও নির্মাণশ্রমিকরা ইস্ট উইং-এর অংশ ভেঙে ফেলছে নতুন স্থাপনার জায়গা করতে। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নিজেই উল্লেখযোগ্য অংশের খরচ বহন করবেন। তবে কিছু ধনবান দাতা ও করপোরেট সংস্থা বাকি অর্থ দেবে। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তার দাবি, অনেকে একাই ২ কোটি ডলারের বেশি দান করতে ইচ্ছুক।
এই অর্থায়ন মডেল নিয়ে নৈতিকতা বিষয়ক আইনজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি আসলে ‘সরকারে প্রবেশাধিকার কেনা’র একটি উপায় হতে পারে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের প্রধান নৈতিকতা বিষয়ক আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বিবিসিকে বলেন, এই বিশাল বলরুমটি একটি নৈতিকতার দুঃস্বপ্ন। এটা হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বিক্রি করার মতো। করপোরেশনগুলো সরকারের কাছ থেকে কিছু না কিছু চায়।
১৫ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ‘দাতা ডিনার’-এ উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বড় বড় কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা। এসব কোম্পানির মধ্যে অন্যতম ব্ল্যাকস্টোন, ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, কয়েনবেস, প্যালান্টির, লকহিড মার্টিন, অ্যামাজন ও গুগল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্ক জেটস দলের মালিক উডি জনসন এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ট্যাম্পা বে বুকানিয়ার্সের মালিক পরিবার গ্লেজার দম্পতি।
সিবিএস নিউজ জানায়, দাতাদের জন্য ‘স্বীকৃতি’ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হতে পারে, তাদের নাম ভবিষ্যতে বলরুমের দেয়ালে খোদাই করা হবে। প্রথমে জানানো হয়েছিল বলরুমটিতে ৬৫০ জনের আসন থাকবে। কিন্তু ট্রাম্প এবার বলেছেন, এর ধারণক্ষমতা হবে ৯৯৯ জনের।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত দাতাদের মধ্যে একমাত্র নাম জানা গেছে ইউটিউবের। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা ২ কোটি ২০ লাখ ডলার দেবে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার পর ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট স্থগিতের ঘটনায় দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেবে তারা। অন্য দাতাদের তালিকা প্রকাশ হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অনুদানের অর্থ যাবে ‘ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে, যারা ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের সঙ্গে কাজ করে হোয়াইট হাউস ও ন্যাশনাল মলের সংস্কারে অর্থ সংগ্রহ করে।
দাতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, অনেকেই জানতে চেয়েছেন ২৫ মিলিয়ন ডলার কি যথেষ্ট হবে? আমি বলেছি- হ্যাঁ, আমি নেব! হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই অর্থ সংগ্রহে কোনো অনিয়ম নেই এবং বলরুমটি ভবিষ্যতের প্রশাসনগুলিও ব্যবহার করতে পারবে। সরকার বা করদাতাদের অর্থ এতে ব্যয় হবে না। হোয়াইট হাউসের সাবেক নির্বাহী শেফ মার্টিন মঙ্গিয়েলো বলেন, বলরুমটি দীর্ঘমেয়াদে খরচ বাঁচাবে। কারণ বড় ইভেন্টের জন্য বাইরে অস্থায়ী তাঁবু বসাতে প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। তবে রিচার্ড পেইন্টার মনে করেন, এই বলরুম প্রকল্পটি হতে পারে সরকারি প্রভাবের বিনিময়ে অর্থ বা দান নেয়ার পদ্ধতি। তিনি বলেন, এখানে সরাসরি বিনিময়ে সুবিধা দেয়ার বিষয়টি প্রমাণ করা কঠিন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই সীমারেখা বিপজ্জনকভাবে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বলরুমের বিশাল পরিসর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ফান্ডরেইজিংয়ের জন্য বিরাট প্রলোভন তৈরি করবে। আগে হোয়াইট হাউসের জায়গা সীমিত ছিল। তাই সবাইকে আমন্ত্রণ দেয়া যেত না- এটাই ভালো ছিল।
তবে এমন ঘটনা মার্কিন ইতিহাসে নতুন নয়।
১৯৯০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি লিংকন বেডরুমে রাত কাটানোর সুযোগ দিয়েছিলেন বড় দাতাদের। ট্রাম্পও এর আগেই হোয়াইট হাউস ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে করপোরেট স্পনসর নিয়েছিলেন- যা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল।
Posted ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh