বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ভালোর পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকান হিউম্যানেটেরিয়ান এইড লিডারশাপ আউটরিচ- “ভালো” গত ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির ফাইভ স্টার ব্যাঙ্কুয়েট হলে আয়োজন করে গালা নাইট। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি।
এ ছাড়াও ডেমোক্রেট দলীয় নেতৃবৃন্দ, সিটির বিভিন্ন বিভাগের উর্দ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিগণ। বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্তিশালী এবং নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে সেতুবন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে ভালো। পারস্পরিক সম্পোর্কন্নয়নে অবদান রাখতে ভালো প্রায়শ:ই এ ধরণের কর্মসূচী গ্রহণ করে থাকে। শাহারিয়ার নবীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নজরুল ইসলাম। বক্তব্য দেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের পরিচালক ইমাম সামসি আলী। শাহারিয়ার নবী অতিথিদেরকে স্বাগত জানান এবং ভালো’র বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন জোহরান মামদানি।এ ধরনের আয়োজনের জন্য ভালো সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। জোহরান মামদানি বলেন, ‘ভালো’ মানুষের জন্য কাজ করছে। তিনি প্রশংসা করে বলেন, এধরনের কাজ সিটিতে আরো হওয়া উচিত। ভালো এখন অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুসরণীয় হয়ে গেছে। তারা অনেকদিন ধরে সিটির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মামদানি আরো বলেন, এখন সময় এসেছে সিটিকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মানুষের দেখে আসা স্বপ্ন বাস্তবায়নের। জোহরান মামদানি বলেন, আমি ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে মানুষের মনে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা করে নিতে চাই। মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সিটিবাসীর জন্য প্রতিশ্রুতি অনুসারে স্বপ্নের শহর গড়ার কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

মামদানি বলেন, ভালো আমার নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতা করেছে। তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আর কয়েকদিন পর আমি মেয়র হিসেবে শপথ নেবো। । এর মধ্য দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদী কাজের স্বাক্ষর রাখতে চাই। সিটিকে আমরা বাসযোগ্য করতে চাই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সিটির যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন তাও অনুষ্ঠানে জানান মামদানি।

‘ভালো’ সম্পর্কে আলোকপাত করেন জুম্মাহ রহমান। জোহরান মামদানিকে সোস্যাল জাস্টিস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অ্যাক্ট অফ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ফায়ার ডিপার্টমেন্টের লে: বায়ীদ খান, কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ইমাম শামসি আলীকে। ভালোর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন কাউন্সিল মেম্বারসহ জনপ্রতিনিধিরাও। সিটির কাজকে এগিয়ে নিতে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিল মেম্বার নাতাশা উইলয়ামস, লিন্ডা লী, জুলি ওন, রিটা জোসেফ, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিফেন রাগা, স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু, নিউইয়র্ক স্টেট কম্প্রোট্রলার রাজ গোয়েল, লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্টোনিও ডেলগাদো, স্টেট গভর্নরের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অফিস অফ পাবলিক এনগেজমেন্টের ডাইরেক্টর ক্যাথলিন বেঞ্জামিন।

অনুষ্ঠানে ৭৫ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয় ফিলিস্তিনে অসহায় শিশুদের সহায়তার জন্য। সাংস্কৃতিক পর্বে ছিলেন প্রতীক হাসান ও জন কবীর। খাবারের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিল্পীদের জনপ্রিয় গান উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই। অনুষ্ঠানটি সফল করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ‘ভালো’র প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার রহমান, কর্মকর্তা শাহরিয়ার নবী, আসিফ খানসহ অন্যান্য সদস্যরা।
অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটি সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ গিয়াস আহমেদ, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সিটি কাউন্সিল মেম্বার শাহানা হানিফ, এস্টোরিয়ার কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মেরি জোবাইদা, ঠিকানার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান, সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন, ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান হাসান প্রমুখ। উল্লেখ্য নিউইয়র্ক সিটিতে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে দেখা দিলে সাধারণ মানুষের মাঝে খাবার ও স্বাস্থ্য রক্ষা সামগ্রী পৌছে দিতে রাস্তায় নামেন ভালো’র একদল তরুণ। “মানুষ মানুষের জন্য” এ শ্লোগান সামনে রেখে জীবনের মায়া পেছনে ফেলে রাস্তায় নেমে আসেন। ভালো’র মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচী অব্যাহত রাখা হয়েছে।
Posted ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh