বাংলাদেশ অনলাইন : | শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নথির নাম ‘পারমানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড’ বা গ্রিন কার্ড। এই কার্ডধারীরা পূর্ণ নাগরিক না হলেও প্রায় সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে মার্কিন নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত হয়। এত দিন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করাকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায় মনে করা হতো। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছে।
একজন অভিজ্ঞ মার্কিন অভিবাসন আইনজীবীর মতে, মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই এখন আর গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবার (ইউএসসিআইএস) নিয়ম অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ বা নিকটাত্মীয় ক্যাটাগরিতে পড়েন এবং তাঁরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনের যোগ্য। তবে ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টাইন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে।
ল ফার্ম ‘স্পার অ্যান্ড বার্নস্টাইন’-এর আইনি দলের সদস্য ব্র্যাড বার্নস্টাইন জানান, শুধু সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, বরং স্বামী-স্ত্রী একত্রে বসবাস করছেন কিনা, তার ওপর ভিত্তি করেই এখন গ্রিন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। যেসব বিবাহিত দম্পতি আলাদা থাকেন, তাঁদের আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বার্নস্টাইন বলেন, ‘ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা এটা জানতে চান না যে কেন আপনারা আলাদা থাকছেন। কাজের প্রয়োজনে, পড়াশোনা বা আর্থিক সমস্যার কারণে আলাদা থাকলেও তাঁরা তা শুনতে রাজি নন। তাঁদের কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপনারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে প্রতিদিন একই বাড়িতে বসবাস করছেন কি না।’
যদি দম্পতিরা প্রতিদিন এক ছাদের নিচে না থাকেন, তবে অভিবাসন বিভাগ সেই বিয়ে নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্ত কর্মকর্তারা দরজায় কড়া নাড়া মানেই আবেদন বাতিলের শঙ্কা বেড়ে যাওয়া।
ব্র্যাড বার্নস্টাইনের মতে, ইউএসসিআইএস কেবল ঠিকানার ওপর নির্ভর করে না। তারা সম্পর্কের সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি কেবল গ্রিন কার্ড বা অভিবাসন সুবিধার জন্য করা হয়নি, বরং এটি একটি প্রকৃত সম্পর্ক।
মার্কিন আইনে বলা হয়েছে, একটি বিয়ে আইনিভাবে বৈধ হলেও যদি দেখা যায় যে দম্পতিদের একত্রে বসবাসের কোনো ‘সদিচ্ছা’ নেই এবং কেবল আইন ফাঁকি দিতেই তাঁরা বিয়ে করেছেন, তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
এদিকে, এই কড়াকড়ির অংশ হিসেবে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে ১৮ মাস করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড কর্মসূচির ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর ১৯টি দেশের (যাদের ‘উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে) নাগরিকদের কাছে থাকা সব গ্রিন কার্ড পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য নিহত হওয়া এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলার ঘটনায় গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ডিভি লটারি’ সুবিধাও স্থগিত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আইনজীবী বার্নস্টাইন পরামর্শ দিয়েছেন, যাঁরা বিবাহিত কিন্তু একত্রে থাকছেন না, তাঁরা যেকোনো নথিপত্র জমা দেওয়ার আগে যেন অবশ্যই আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেন।
Posted ১২:০১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh