বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী এখন জোয়ি সালডানা

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী এখন জোয়ি সালডানা

অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা । ছবি : সংগৃহীত

বৈচিত্রময় সব চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। এবার লিখলেন দারুণ এক ইতিহাস। সবশেষ জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা। তিনিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনয়শিল্পী। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তিনটি সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমায় অভিনয় করেছেন সালডানা। সেগুলো হলো- ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। এছাড়া তিনি প্রথম নারী অভিনেত্রী যিনি চারটি ছবিতে দুটি বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়্যার’ ছবিটি।

‘মার্ভেল’, ‘স্টার ট্রেক’ ও ‘অ্যাভাটার’-এর অবিচ্ছেদ্য মুখ

মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে গ্যামোরা চরিত্রে তিনটি ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জোয়ি সালডানা। পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিতে তিনি অভিনয় করেছেন নিয়োটা উহুরা চরিত্রে, যে সিরিজের মোট আয়ও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি।

২০২৪ সাল পর্যন্ত সালডানার সিনেমাগুলোর মোট আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তখন তিনি ছিলেন স্কারলেট জোহানসন ও স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের পর তৃতীয় স্থানে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ একাই আয় করেছে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে একলাফে শীর্ষে তুলে এনেছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালডানা একটি ভিডিও পোস্ট করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‌‘আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, এই অসাধারণ যাত্রার জন্য যা আমাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে আমি যেসব প্রকল্পে কাজ করেছি সেগুলোর অসাধারণ টিম এবং পরিচালকদের জন্য।’

‘স্টার ট্রেক’ পরিচালক জে. জে. অ্যাব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ পরিচালক জো ও অ্যান্থনি রুসো, ‘গার্ডিয়ানস’ পরিচালক জেমস গানের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘অ্যাভাটার’-এর জেমস ক্যামেরনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বাস এবং দিকনির্দেশনা কেবল এই ছবিগুলোকেই নয়, আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।’

ভক্তদের উদ্দেশ্যে সালডানা বলেন, ‘আপনারা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। এই সাফল্য আমাদের সকলের। আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’একইসঙ্গে পরবর্তী রেকর্ড ভাঙার ব্যক্তি আবার একজন নারীই যেন হন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

২০২৫: সালডানার স্বর্ণালি বছর

২০২৫ সাল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে ছিল স্মরণীয়। মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন। এর মাধ্যমে তিনি হন প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী, যিনি একাডেমি পুরস্কার জিতেছেন।

জাক অদিয়ার পরিচালিত এই সংগীতধর্মী ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। এরপর সালডানা জিতে নেন স্যাগ অ্যাওয়ার্ড, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ড-পুরো মৌসুমেই ছিল তার একচ্ছত্র দাপট।

‘অ্যাভাটার’-এর নীল যোদ্ধা নেইতিরি

‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ সালডানা আবার ফিরেছেন নাভি যোদ্ধা নেইতিরি চরিত্রে। মানব থেকে নাভি হয়ে ওঠা নেতা জেক সালির (স্যাম ওয়ারথিংটন) সঙ্গে নেইতিরির সম্পর্কই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল আবেগ।

নীল রঙের, আট ফুট লম্বা এই চরিত্রে রূপ দিতে ব্যবহৃত হয়েছে জেমস ক্যামেরনের উদ্ভাবিত পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি। সালডানা বলেন, ‘এই জগৎ এত বাস্তব মনে হয়, কারণ অভিনয়টাই জিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স ক্যাপচার আমাদের সব মনোযোগ আর আবেগ দৃশ্যের ভেতর ঢেলে দেওয়ার সুযোগ দেয়।’

সামনে আরও রেকর্ড

জোয়ি সালডানাকে আবার দেখা যাবে ‘অ্যাভাটার ৪’ (ডিসেম্বর ২০২৯) ও ‘অ্যাভাটার ৫’-এ (ডিসেম্বর ২০৩১)। অর্থাৎ বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য আরও বাড়বে-এটা বলাই যায়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্যাসাইকে জোয়ি সালডানার জন্ম। তার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে। পুয়ের্তো রিকান মা ও ডোমিনিকান বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া তিনি ও তার দুই বোন ঘরে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে বড় হয়েছেন। তবে তার বয়স যখন মাত্র ৯, তখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারসহ তিনি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চলে যান। সেখানে ইকোস এস্পাসিও দে দান্সা নৃত্যশালায় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে আসেন এবং যুব থিয়েটার দলগুলোর সঙ্গে অভিনয় শুরু করেন।

২০০৯ সালটা ছিল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে মোড় ঘোরানো বছর। ওই বছরই তিনি একসঙ্গে দুটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথমত, জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা সিনেমা ‘স্টার ট্রেক’-এ তিনি লেফটেন্যান্ট উহুরার চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছরে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি জেমস ক্যামেরনের বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’-এ নেইতিরি চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। এরপর কেবলই নতুন নতুন সাফল্যে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

Posted ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2229 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.