বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন তিনি। সেই হিসাবে গতকাল মঙ্গলবার তাঁর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চার বছরের মেয়াদের এক বছর পেরোল। গত এক বছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানে হামলা চালানো, গাজা–ইউক্রেনসহ বিভিন্ন যুদ্ধ বন্ধে তৎপরতা, অভিবাসীদের স্রোত ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের ওপর ভিসা প্রতিবন্ধকতা আরোপ, গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি, বিভিন্ন দেশের ওপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সস্ত্রীক নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে আসা—ট্রাম্প প্রশাসনের শোরগোল ফেলে দেওয়া এমন ঘটনার তালিকা দীর্ঘ।
দেশে–বিদেশে এমন নানা দাপুটে কর্মকাণ্ডের কারণে এক বছরেই ব্যাপক আলোচিত–সমালোচিত হয়েছেন ট্রাম্প। বলা হচ্ছে, এক বছরেই বিশ্বব্যবস্থা ওলট–পালট করে দিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প অভিশংসনের মুখোমুখি হবেন কি না?
বিবিসির উত্তর আমেরিকার সংবাদদাতা অ্যান্টনি জুরখার এর জবাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের কার্যক্রম শুরু করার দায়িত্ব পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের। এখন প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের দলের নিয়ন্ত্রণে, অর্থাৎ রিপাবলিকান–সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের অভিশংসনের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়।
আসছে বছর এ পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, এ বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তাতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো করতে পারলে পরের বছর সবকিছু বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অ্যান্টনি।
তবে এই সাংবাদিক এটাও বলেছেন, দলের (রিপাবলিকান পার্টি) মধ্যে অবশ্যই কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসনকে সমর্থন করবেন। তবে এটা নিশ্চিত নয়, দলের নেতৃত্ব এমন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইবেন কি না।
এর একটা বাস্তব কারণ আছে বলেও মনে করছেন অ্যান্টনি। তাঁর মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ট্রাম্পকে অভিশংসনের মুখোমুখি করে, তখন সেই প্রস্তাব উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। সিনেটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে এবং পদ থেকে অপসারণের জন্য ডেমোক্র্যাটদের ৬০টি আসন প্রয়োজন। কিন্তু এর কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
ট্রাম্পের অভিশংসন এড়ানোর আরেকটি কারণ আছে, সেটা রাজনৈতিক। ডেমোক্র্যাটরা হয়তো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসার মধ্য দিয়ে নিজেদের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে চাইবেন। এ জন্য তাঁরা ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউস পুনরুদ্ধারের ভিত্তি স্থাপনে বেশি অগ্রাধিকার দেবেন বলে মনে করছেন অ্যান্টনি।
বিবিসির এই সাংবাদিক বলেন, ডেমোক্র্যাটরা হয়তো আশঙ্কা করছেন, পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসনের প্রচেষ্টাকে ভোটাররা সময়ের অপচয় হিসেবে দেখতে পারেন; বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২১ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিনেটে দুটি অভিশংসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর। এসব ব্যর্থ প্রচেষ্টা ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তিকে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি।
Posted ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh