বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটিতে বেতন বৃদ্ধি, কর্মী সংখ্যা বাড়ানোসহ একাধিক দাবিতে নার্সদের চলমান বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ পর্যন্ত সিটির শীর্ষ তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট সাইনাই, নিউইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান ও মন্টেফিওরি এর প্রায় ১৫ হাজার কর্মরত নার্স এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) তিনটি হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কর্মবিরতির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি সিটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, দাবি আদায়ে আন্দোলনকারীরা এখন হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট তিন হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ করছেন। রোববার মন্টেফিওরি হাসপাতালের সিইও ফিলিপ ওউয়াহের বাসার সামনে নিউইয়র্ক স্টেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (এনওয়াইএসএনএ)-এর ব্যানারে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় নার্সদের। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “হাসপাতাল নির্বাহীরা আমাদের অসুস্থ করে তুলেছেন।” একই দিনে মাউন্ট সাইনাই ও নিউইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসভবনের সামনেও উপস্থিত হন এনওয়াইএসএনএর সদস্যরা।
সেখানে তারা “ন্যায্যতা না হলে শান্তি নয়” স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভ শুরুর বহু আগেই তিনটি হাসপাতালের নার্সরা বেতন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নত স্বাস্থ্যবীমা সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মন্টেফিওরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, আন্দোলনকারী নার্সরা যতক্ষণ না তাদের ‘অবাস্তব’ ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের দাবি থেকে সরে আসবেন, ততক্ষণ কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
মাউন্ট সাইনাই হাসপাতালের সিইও ব্রেনডেন কার সোমবার কর্মীদের পাঠানো এক ইমেইলে জানান, নিকট ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অন্যদিকে নিউইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালের এক মুখপাত্র বলেন, নার্সদের প্রস্তাবিত বেতন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। এই পরিস্থিতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নার্সরা।
প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালের ৪৫ বছর বয়সী নার্স জোশ উইলসন বলেন, “আমরা কতদিন আন্দোলন চালাব? যতদিন না তারা ন্যায্য আলোচনার জন্য আলোচনার টেবিলে বসে।” তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।” এদিকে ৬১ বছর বয়সী নার্স সিন্ডি কলিয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং এর প্রভাব রোগীদের ওপরও পড়তে পারে। “এই সংকট চলতে থাকলে রোগীরা দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীদের দোষারোপ করতে শুরু করবে,” বলেন তিনি।
Posted ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh