বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান অভিবাসন বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত নভেম্বর মাস থেকে ন্যাচারালাইজেশন শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখায় সম্ভাব্য আমেরিকান নাগরিকদের মধ্যে চরম হতাশা ও অস্থিরতা বিরাজ করতে। ট্রাম্পের এ উদ্যোগের ফলে আমেরিকান নাগরিকত্ব লাভের দ্বারপ্রান্তে পৌছার পর এখন এই প্রক্রিয়া অচলাবস্থায় আটকে গেছে।
সমালোচকরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশ অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের যৌথ শাস্তিদানের সর্বশেষ রূপ। গত নভেম্বরে থ্যাঙ্কসগিভিং দিবসে ওয়াশিংটন, ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলি চালানোর ঘটনার পর নাগরিক হতে যারা আশাবাদী তাদের আশা ভেঙে যাওয়ার পথে। ট্রাম্প ওই সময় বলেছিলেন যে, গুলিবর্ষণের প্রতিক্রিয়া হিসাবে তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে তিনি স্থায়ীভাবে সকল অভিবাসন স্থগিত করবেন। পরের সপ্তাহে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠান স্থগিত করে। অতপর গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন তালিকাটি ৩৯টি দেশে বৃদ্ধি করেন।
কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসীরা ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের শুধুমাত্র শপথ গ্রহণ বাকি ছিল, এখন তারা চরম অনিশ্চয়তায় কাটাচ্ছেন। নিউইয়র্কের ডেমোক্রেট কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো অ্যাসপ্লাইট বলেছেন, লোকজন কিছুটা বিভ্রান্ত এবং উদ্বিগ্ন যে, যদিও তারা সকল প্রক্রিয়া শেষ করে কেবল শপথ অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষায় ছিল, শেষ মুূহূর্তে তাদের ন্যাচারাইজেশন স্থগিত রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা চরম অস্থিরতা ও মানসিক চাপের মধ্যে কাটাচ্ছেন। কারণ তারা নিজেদের আমেরিকান মনে করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা আমেরিকান নন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর প্রায় ৮০০,০০০ নতুন নাগরিককে ন্যাচারালাইজ করে, যার বেশিরভাগই মেক্সিকো, ভারত এবং ফিলিপাইন থেকে আগত অভিবাসী।
তিনি জানান যে, সম্ভাব্য নাগরিকরা দিশেহারা অবস্থায় তার অফিসে প্রতিদিন ভিড় করছেন শুধু এটা জানার জন্য যে তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে যে অভিবাসীরা আমেকিান নাগরিক হওয়ার আগে তাদের নথি আবারও পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এই স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর থেকে আগতদের ক্ষেত্রে অধিক প্রযোজ্য। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কিন্তু অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন যে এই দাবির কোনো মানে হয় না, কারণ অনেক সম্ভাব্য নাগরিক কয়েক দশক না হলেও কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং প্রতিটি পর্যায়ে তাদের যাচাই করা হয়েছে। তারা কোনো অপরাধ করেনি, কারণ অন্যথায় তারা নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারত না। তারা তাদের ফি পরিশোধ করেছেন, তারা নাগরিকত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতবছর ট্রাম্প শপথ নেয়ার পর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষকে বহিষ্কার করেছেন এবং প্রায় ১৯ লাখ বিদেশি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছে। তার পদক্ষেপে সীমান্ত অনুপ্রবেশের ঘটনা নেমে আসে ১৯৭০এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভ: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শ্রমিক ও শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মিনিয়াপোলিসে এক ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড নামে এক মার্কিন নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া একজন মার্কিন নাগরিককে তাঁর গাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনাও এই বিক্ষোভের নেপথ্যে কাজ করেছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলের মতো শহরগুলোয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিইর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ‘আইসিই চাই না’, ‘কেকেকে চাই না’, ‘ফ্যাসিবাদী যুক্তরাষ্ট্র চাই না’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
Posted ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh