মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

হোয়াইট হাউজের ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে শেখ হাসিনা

করোনা ভ্যাকসিন অত্যাবশ্যকীয় করার আহ্বান

বাংলাদেশ ডেস্ক :   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনা ভ্যাকসিন অত্যাবশ্যকীয় করার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানকারী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনকে ‘বৈশ্বিক জনস্বার্থসামগ্রী’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত করোনা-সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ‘হোয়াইট হাউস গ্লোবাল কোভিড-১৯ সামিট : এন্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আগে ধারণকৃত বক্তব্যে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভার্চ্যুয়াল এ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী টিকা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনস্বার্থসামগ্রী হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সম্মেলনে ভাষণে জো বাইডেন কোভিড-১৯ মহামারি অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বক্তৃতা করেন।


আমেরিকান বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিশীল খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ‘বাংলাদেশ ফরওয়ার্ড: দ্য ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রোথ’ শীর্ষক এ ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, নীল অর্থনীতি, পর্যটন, জ্ঞানভিত্তিক হাইটেক শিল্পসহ অন্যান্য লাভজনক খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি নিশা বিসওয়াল গোলটেবিল বৈঠক পরিচালনা করেন এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতারাও এতে অংশ নেন।


শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সঠিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফটিএর বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।
সহযোগিতার রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব কুয়েতের

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওই বৈঠকের পর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে একটি রোডম্যাপ ও একটি অভিযোগ্য কর্মসূচি প্রস্তুত করতে চান।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লফভেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, তাঁর সরকার কর্মীদের স্বার্থের জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এ ব্যাপারে তিনি তাঁর পরামর্শ চান। শেখ হাসিনা একই সঙ্গে তাঁকে অবহিত করেন, প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে মহামারি করোনাভাইরাস চলাকালেও কোনো বাংলাদেশি পোশাকশ্রমিক চাকরি হারাননি।

নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে নারীনেত্রীদের একটি নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে অনুভব করি, আমরা নারীনেত্রীদের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যা আমাদের শুধু একক বৈঠকের জন্য একত্র করবে না, বরং লিঙ্গসমতা অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে নারীনেত্রীদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ থালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দেন। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ঐ বৈঠকের পর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে একটি রোডম্যাপ ও একটি অভিযোগ্য কর্মসূচি প্রস্তুত করতে চাই।’ ড. মোমেন দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, উভয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার সূত্র ধরে তিনি পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ও সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র বাছাই করতে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের ব্যাপারে তার দেশের আগ্রহের কথাও ব্যক্ত করেন এবং তাদের দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা চান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং প্রস্তাবিত তেল শোধনাগারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি প্রদানের ব্যাপারে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা দিব।’ ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে কুয়েতের দিকে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং এই সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ কুয়েত তাদের একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণ করে ‘ বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট।’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, কুয়েত তাদের কুয়েত ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করে এবং বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আওতায় পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পাঁচটি মেগা প্রকল্পের জন্য কুয়েত ফান্ডের মাধ্যমে আরো ১০ কোটি মার্কিন ডলার গ্রহণে কুয়েতের সঙ্গে আলোচনার একে বারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই কুয়েতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্যন্য।’ এর আগে শেখ হাসিনা সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লফভেনের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন। সমসাময়িক বিশ্বে একজন বিখ্যাত শ্রমিক নেতা হওয়ার খ্যাতি অর্জন করেন স্টিফান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, তার সরকার কর্মীদের স্বার্থের জন্য আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এ ব্যাপারে তিনি তার পরামর্শ চান। শেখ হাসিনা একই সাথে তাকে অবহিত করেন যে প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে মহামারি করোনাভাইরাস চলাকালেও কোন বাংলাদেশী গার্মেন্ট শ্রমিক চাকরি হারায়নি। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা হোটেল লটে নিউইয়র্ক প্যালেসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিফ্রিংকালে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।

নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব শেখ হাসিনার

লিঙ্গ সমতা অর্জন ও নারী ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নারী নেতাদের শুধু একক বৈঠকের জন্য একত্রিত করবে না, বরং লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং এটি নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’ গত ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিঙ্গ সমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। প্রত্যেক পর্যায়ে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন এবং এর মাধ্যমে আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।’দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দরকার। তৃতীয় প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিঙ্গ সমতার জন্য সাধারণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে নেতাদের একটি সম্মেলন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু আমরা নয়, সব নেতাদের এতে যোগদান করা উচিত এবং লিঙ্গ সমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।’

হাসিনা-মোটলির সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস অবস্থানস্থলে গত ২০ সেপ্টেম্বর এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা এন্টি মাইক্রোবায়াল রেজিসটেন্স (এএমআর)-সহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ড. মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এএমআর বিষয়ে গত ছয় বছর ধরে সরব। দুই প্রধানমন্ত্রীই ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’ এর সহসভাপতি হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।’ পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ পর্ব শেষে বঙ্গবন্ধুর আত্মকথা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র কপি বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।

জাতিসংঘের বাগানে বঙ্গবন্ধুর নামে বেঞ্চ, বৃক্ষরোপণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাগানে একটি ‘হানি লোকাস্ট’ গাছের চারা রোপণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে তার বাণীসংবলিত একটি বেঞ্চও উন্মুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের উত্তর লনে এ বৃক্ষরোপণ ও বেঞ্চ উন্মুক্ত করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি বিশেষ দিন। কারণ আমাদের যুদ্ধ বিজয়ের পর ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ১৭ সেপ্টেম্বর স্বীকৃতি পাওয়ার পর পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে আসেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি (বঙ্গবন্ধু) ভাষণ দেন। সেই ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন বাংলা ভাষায়। তিনি বলেন, এই সেপ্টেম্বর মাসে এত চমৎকার একটি জায়গায় চেয়ার উৎসর্গ করা হলো এবং একটি বৃক্ষরোপণ করা হলো। শতবর্ষের ওপর এই বৃক্ষটি টিকে থাকবে এবং শান্তির বারতা বয়ে বেড়াবে। শেখ হাসিনা বলেন, একটি চেয়ার উৎসর্গ করা হলো, একটি বৃক্ষরোপণ করা হলো। বৃক্ষ এটি পরিবেশও রক্ষা করে, মানুষকে খাদ্য দেয়, মানুষকে ছায়া দেয় এবং মানুষের জীবনকে রক্ষা করে। আর চেয়ারটার এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়- মানুষ এখানে শান্তিতে বসবে, কিছুক্ষণ আরাম করবে এবং চিন্তা করবে।

‘আর জাতিসংঘের এ জায়গায় বসে থাকলে শুধু নিজের চিন্তা না, বিশ্বের মানুষের কথা চিন্তা করবে। সবচেয়ে বড় কথা- জাতির পিতা সবসময় শান্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। বাংলাদেশের মানুষের দুঃখের কথা যেমন ভেবেছেন, সারা বিশ্বের যারা ক্ষুধা দারিদ্র্যে জর্জরিত, শোষিত-বঞ্চিত মানুষ, তাদের কথাও তিনি (বঙ্গবন্ধু) বলেছেন।’ বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার যে লক্ষ্য ছিল- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এটিই ছিল উনার জীবনের লক্ষ্য- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলা। কারণ তাতে শান্তি আসবে এবং শান্তির সন্ধানেই তিনি সবসময় ছিলেন, শান্তির জন্যই সংগ্রাম করেছেন। শান্তি ছাড়া কখনও কোনো দেশের উন্নতি হয় না। এটি আমরা নিজেরা খুব ভালো বুঝি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবসময় উন্নতি হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাগানে বৃক্ষরোপণ এবং বেঞ্চ উৎসর্গ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্বের সব শহীদ শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

advertisement

Posted ৬:০১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

85-59 168 Street, Jamaica, NY 11432

Tel: 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.