বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

আল্লাহর স্মরণে বাঁধাদানকারী

জাফর আহমাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আল্লাহর স্মরণে বাঁধাদানকারী

“হে সেই সব লোক যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানদি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে না দেয়। যারা এরূপ করবে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকবে।”(সুরা মুনাফিকুন:৯) আল্লাহর হুকুম আল্লাহর যিকরে বাঁধাদানকারী বিশেষভাবে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব লোক ইসলামের গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করেছে, তারা সত্যিকারের ঈমানদার হোক বা শুধু ঈমানের মৌখিক স্বীকৃতিদানকারী হোক, তাদের সবাইকে সম্বোধন করে এই উপদেশটি দেয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য যে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ এসব স্বার্থের কারণে ঈমানের দাবী পূরণ না করে মুনাফেকী অথবা ঈমানের দুর্বলতা অথবা পাপাচার ও নাফরমানীতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তবে মুলত: এখানে দুনিয়ার এমন প্রতিটি জিনিসকে বুঝানো হয়েছে যা মানুষকে এমনভাবে নিমগ্ন করে রাখে যে, সে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে যায়। আর আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে যাওয়াটাই সমস্ত অকল্যাণের উৎস।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,“আর কে তার চেয়ে বড় জালেম, যাকে রবের আয়াত শুনিয়ে উপদেশ দেয়ার পর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সেই খারাপ পরিণতির কথা ভুলে যায় যার সাজ-সরঞ্জাম সে নিজের জন্য নিজের হাতে তৈরি করেছে? তাদের অন্তরের ওপর আমি আবরণ টেনে দিয়েছি যা তাদেরকে কুরআনের কথা বুঝতে দেয় না এবং তাদের কানে বধিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছি। তুমি তাদেরকে সৎপথের দিকে যতই আহবান কর না কেন তারা এ অবস্থায় কখনো সৎপথে আসবে না।”(সুরা কাহাফ:৫৭)

যখন কোন ব্যক্তি বা দল যুক্তি, প্রমাণ ও শুভেচ্ছামূলক উপদেশের মোকাবেলা বিতর্ক প্রিয়তায় নেমে আসে মিথ্যা ও প্রতারণার অস্ত্র দিয়ে সত্যের মোকাবেলা করতে থাকে এবং নিজের কৃতকর্মের খারাপ পরিণতি দেখার আগে কারোর বুঝবার পর নিজের ভুল মেনে নিতে প্রস্তুত হয় না তখন আল্লাহ তার অন্তরকে তালাবদ্ধ করেন, সত্যের প্রত্যেকটি ধ্বনির জন্য তার কানকে বধির করে দেন। এ ধরনের লোকের উপদেশ বাণীর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে না বরং ধ্বংসের গর্তে পড়ে যাবার পরই এদের নিশ্চিত জন্মে যে, এরা যে পথে এগিয়ে চলছিল সেট্ইি ছিল ধ্বংসের পথ। ধ্বংসই তাদের এ কাজের শেষ পরিণতি। আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে যাওয়ার কারণে তারা সত্যের মোকাবেলা কোমর বেঁধে নেমে পড়ে। ফলে আল্লাহও তাদের অন্তরের ওপর আবরণ টেনে দেন।
মানুষ যদি একথা স্মরণ রাখে যে, সে স্বাধীন নয় বরং এক আল্লাহর বান্দা। আর সে আল্লাহ তার সমস্ত কাজকর্ম সম্পর্কে অবহিত, একদিন তাঁর সামনে হাজির হয়ে নিজের কাজ-কর্মের জবাবদিহি তাকে করতে হবে, তাহলে সে কখনো কোন খারাপ কাজ বা গোমরাহীতে লিপ্ত হতে পারবে না।

মানবিক দুর্বলতার কারণে কোন সময় তার পদস্খলন যদি ঘটেও যায় তাহলে সম্বিত ফিরে পাওয়ামাত্র সে সংযত ও সংশোধিত হয়ে যাবে। বিপরীত দিকে যারা নিজেদেরকে স্বেচ্ছাচারী ও স্বাধীন মনে করে এবং তাদেরকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না বলে মনে করে এবং গোমরাহীর গভীর তলদেশে প্রবেশ করে, আল্লাহ তা’আলা তাদের এ গোমরাহীর পথকে প্রলম্বিত করে দেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন,“ যে ব্যক্তি রহমানের স্মরণ থেকে গাফিল থাকে আমি তার ওপর এক শয়তান চাপিয়ে দেই, সে তার বন্ধু হয়ে যায়। এ শয়তানরা এসব লোকদেরকে সঠিক পথে আসতে বাধা দেয়, কিন্তু এরা মনে করে আমরা ঠিক পথেই চলছি।”(সুরা যখরুপ:৩৬-৩৭)

শয়তান মানুষের চীর শুত্রু। তার একটিই কাজ, কি করে মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখা যায়। তাই আল্লাহ তা’আলা আল কুরআনের বিভিন্নস্থানে শয়তান ও তার গোমরাহী এবং তার প্ররোচনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, “যদি কখনো শয়তান তোমাকে উত্তেজিত করে তাহলে আল্লাহর আশ্রয় চাও। তিনি সবকিছু শোনেন এবং জানেন। প্রকৃতপক্ষে যারা মুত্তাকী, তাদেরকে যদি কখনো শয়তানের প্রভাবে অসৎ চিন্তা স্পর্শও করে যায় তাহলে তারা তখনই সতর্ক হয়ে উঠে তারপর তারা নিজেদের সঠিক কর্মপদ্ধতি পনিস্কার দেখতে পায়। আর তাদের ভাই-বন্ধুরা তো তাদেরকে তাদের বাঁকা পথেই টেনে নিয়ে যেতে থাকে এবং তাদেরকে বিভ্রান্ত করার ব্যাপারে তারা কোন ত্রুটি করে না।”(সুরা আরাফ:২০০-২০২)

যারা সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করে সে শয়তানের গোমরাহী থেকে মুক্তি পায় এবং জাহান্নামের কঠিণ আযাব থেকে বাঁচতে পারে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন,“যারা দাঁড়িয়ে বসে এবং শুয়ে আল্লাহর স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে এবং (বলে) হে আমাদের রব! তুমি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র। তুমি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করো।”(সুরা আলে ইমরান:১৯১) মহান আল্লাহ মানুষকে সদাসর্বদা অর্থাৎ শুয়ে বসে-দাঁড়িয়ে তথা জীবনের প্রতিটি কাজে বেশী বেশী তাঁর জিকির তথা স্মরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

আপনি ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন,সেখানে আল্লাহকে স্মরণ করবেন, আপনি রাষ্ট্রের বা সমাজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা পেয়েছেন, সেখানে আল্লাহর হুকুমকে স্মরণ করবেন, আপনি দেশের প্রধান বিচারক, সেখানে আল্লাহকে স্মরণ করার অর্থ হলো ন্যায় ও ইসনাফের সাথে বিচার ফয়সালা করবেন। আপনি দেশের স্বনামধন্য গবেষক, আপনার গবেষনায় যদি আল্লাহর কুদরতের কিয়দাংশ প্রকাশ যায় সেটি আল্লাহর স্মরণ। এমনিভাবে জীবনের প্রতিটি স্তরে আপনার দায়িত্বানুভূতিই হলো আল্লাহর স্মরণ। এভাবে প্রত্যেক ব্যক্তিই যদি সে আল্লাহর প্রতি গাফিল না হয় এবং বিশ্ব জাহানের নিদর্শনসমূহ বিবেক-বুদ্ধিহীন জন্তু-জানোয়ারের দৃষ্টিতে না দেখে গভীর নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষনের দৃষ্টিতে দেখে ও সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে তাহলে প্রতিটি নিদর্শনের সাহায্যে সহজে যথার্থ ও চুড়ান্ত সত্যের দ্বারে পৌঁছতে পারে।

সন্তান-সন্তুতি ও ধন-দৌলত ছাড়াও আল্লাহর যিকরে প্রধান বাঁধা প্রদানকারী হলো, শয়তানের প্ররোচনা ও মানুষের নাফস। এ দু’টি জিনিস মানুষকে দুনিয়ার মোহে পাগল করে তুলে। ফলে সে আল্লাহর যিকর থেকে উদাসীন হয়ে অতিরিক্ত পাপ এবং আল্লাহ সম্পর্কে নির্ভিক হয়ে উঠে। শয়তান মানুষের অন্তরে ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করে যা আল্লাহর স্মরণে বাধা দেয়। দুনিয়ার মোহ ও আসক্তি অতিরিক্ত দুনিয়াবী চিন্তা সম্পদ ও প্রবৃত্তির চাহিদা মানুষকে আল্লাহকে ভুলে থাকতে বাধ্য করে। আল্লাহকে ভুলে নিজের খেয়ালখুশি মতো চলা মানে সে গাফেল।

এই গাফলতি বা উদাসীনতা আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীন করে গড়ে তুলে। ফলে ক্রমাগত পাপ কাজ তার অন্তরকে এমনভাবে আচ্ছাদিত করে যে, সেখান থেকে আল্লাহর স্মরণ আর উচ্চরিত হয় না। তার নফস প্রবল পরাক্রান্ত রূপ ধারণ করে তাকে পাপের মহাসাগরে মহাসুখে অবগাহন করতে থাকে। ফলে তার মধ্যে থাকা বিবেক শক্তিশালী নফসের কাছে সম্পুর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নিজের মধ্যে অবস্থানকারী অসুস্থ বিবেককে সুস্থ করে তুলতে হবে এবং নিয়মিত তার পরিচর্যা করতে হবে। তার সুচিকিৎসার জন্য প্রথমেই তাকে আল কুরআনের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে খাদ্য পানীয় ঔষধ সরবরাহ করতে হবে। এখানে একটি বিষয় খুব খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন সময় যেন নফস তার ওপর হামলে পড়তে না পারে। যখনই নাফস তার ওপর হামলার প্রস্ততি নেবে তখন আপনাকে তা প্রতিহত করার ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল তখনই আপনি এই করুণ অবস্থা থেকে নিজেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। জীবনের প্রতিটি কাজে বেশী বেশী আল্লাহর স্মরণ করতে হবে। কোন কথা বা কাজ সংঘটিত করার আগে সে কাজে আল্লাহর নির্দেশনা ও রাসুলুল্লাহ সা: নির্দেশনা তালাশ করতে হবে।

Posted ১২:১৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.