বাংলাদেশ অনলাইন : | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। ছবি : ফক্স নিউজ চ্যানেলের ভিডিও থেকে নেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ১০ থেকে ১২ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব বিজ্ঞানীর যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় পারমাণবিক ও মহাকাশ-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারের কিছু অংশে প্রবেশাধিকার ছিল।
ঘটনাগুলো ঘিরে অনলাইনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে গোপন ইউএফও গবেষণা আড়াল করতে সরকারি তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষ করে এসেছেন এবং বিষয়টিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এটি অন্যান্য ঘটনার মতোই হবে এবং আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে আমরা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে পারব। তাদের মধ্যে কয়েকজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। আমরা দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।
তালিকায় রয়েছেন- স্টিভেন গার্সিয়া (৪৮)। কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসের এক সরকারি কন্ট্রাক্টর। ২০২৫ সালের আগস্টে আলবুকার্কে নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হন। তার ফোন, মানিব্যাগ ও চাবি বাসায় পাওয়া গেলেও হ্যান্ডগানটি নিখোঁজ ছিল। উইলিয়াম ম্যাককাসল্যান্ড (৬৮)। তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও রাইট-প্যাটারসন বিমানঘাঁটির এয়ারফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির সাবেক কমান্ডার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ মেক্সিকোতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তার স্ত্রী জানান, তিনি আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেছিলেন। অ্যান্থনি চাভেজ ও মেলিসা ক্যাসিয়াস। লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মী। ২০২৫ সালে তারা নিখোঁজ হন। দুজনই কোনো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাড়াই হেঁটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। মনিকা জাসিন্টো রেজা (৬০)। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক। ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। একই ল্যাবের বিজ্ঞানী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড ও মাইকেল হিকস ২০২৩ সালের পর মারা যান। তাদের মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি এবং কোনো অপরাধমূলক অভিযোগও ওঠেনি। নুনো লোরেইরো (৪৭)। এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের পরিচালক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। কার্ল গ্রিলমায়ার (৬৭)। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
জেসন থমাস। ক্যানসার গবেষক। নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ ম্যাসাচুসেটসের একটি হ্রদে পাওয়া যায়।
অ্যামি এস্করিজ (৩৪)। সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা। তাকে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। তিনি অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছিলেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর আগে একটি পডকাস্টে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা বলেছিলেন।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনার কোনো পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন বা মেডিক্যাল ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট যোগসূত্রের প্রমাণ দিতে পারেনি।
Posted ১০:০২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh