বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে আগ্রহীদের জন্য সামনে আসছে আরো কঠোর বাস্তবতা। গ্রিন কার্ড, মার্কিন নাগরিকত্ব এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারীদের জন্য এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া চালু করেছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা ইউএসসিআইএস। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে, আর সেই কারণে বাড়তে পারে আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও।
সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসসিআইএস এখন এফবিআইয়ের অপরাধমূলক ডাটাবেসে আরো বিস্তৃত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীদের তথ্য, অপরাধ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা সন্দেহজনক অতীত কর্মকাণ্ড নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। শুধু তাই নয়, এই নতুন নিরাপত্তা যাচাই কার্যকর করতে গিয়ে অনেক ঝুলে থাকা বা পেন্ডিং আবেদন সাময়িকভাবে আটকে রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
ইউএসসিআইএসের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ আবেদনগুলোকে নতুন নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনতেই হবে। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপের তথ্য গত ২৭ এপ্রিলের আগে নেয়া হয়েছিল, তাদের তথ্য পুনরায় এফবিআইয়ের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগে যাচাই সম্পন্ন হলেও এখন নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী আবারও পরীক্ষা করা হবে।
নির্দেশনায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ধিত নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আবেদন অনুমোদন করা যাবে না। মার্কিন বিচার বিভাগকেও বলা হয়েছে, আইনি সীমার মধ্যে থেকে এফবিআইয়ের অপরাধমূলক ডাটাবেস সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী, জালিয়াত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি অভিবাসন সুবিধা না পায়।তবে এই কড়াকড়ি সব ধরনের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নয়। মূলত যারা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন, তারাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়বেন। অন্যদিকে এইচ-১বি-এর মতো অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে আপাতত এই নতুন নিরাপত্তা যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার জানিয়েছেন, আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে, তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না।’
যদিও অভিবাসন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, বাস্তবে এই প্রক্রিয়া আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।বিশেষ করে ফরম আই-৪৮৫ (গ্রিন কার্ড আবেদন), এন-৪০০ (নাগরিকত্ব আবেদন) এবং আই-৭৫১-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আবেদনে এই কঠোরতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে। পারিবারিক কোটায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদেরও অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যু এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ায় প্রশাসন এখন আরো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু নিরাপত্তা যাচাই নয়, সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া, ডকুমেন্ট যাচাই এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকেও নতুন নিয়ম-কানুন যোগ হতে পারে।এদিকে নতুন এই নীতির কারণে অনেক আবেদনকারীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের অপেক্ষায় আছেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে, নতুন এই কড়াকড়ি তাদের স্বপ্নপূরণের পথ আরো দীর্ঘ করে তুলতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অতিরিক্ত সতর্কতা এখন সময়ের দাবি।
Posted ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh