বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ আগামী এক দশকে প্রায় ৫২৯ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের অর্থনীতিবিদদের করা এই বিশ্লেষণ ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির প্রথম সামগ্রিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে এই নীতিকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন সরকার ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হওয়া চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা হলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে।
তবে এই দাবির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তাদের মতে, প্রকৃত সাশ্রয়ের হিসাব ও তথ্য এখনও পরিষ্কার নয়, ফলে নতুন এই পরিসংখ্যান আরও প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ইরান-সংঘাত ঘিরে জ্বালানির দাম বাড়ায় সেই চাপ আরও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগকে জনসমর্থন পাওয়ার একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “এখন আপনারা বিশ্বের সবচেয়ে কম দামে ওষুধ পাচ্ছেন। এটিই আমাদের নির্বাচনে জয়ের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।”
হোয়াইট হাউসের কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজার্স এই বিশ্লেষণটি তৈরি করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের তথাকথিত ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ নীতির ফলে আগামী ১০ বছরে মেডিকেইড খাতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন ১৭টি শীর্ষ ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে স্বাধীনভাবে এই সাশ্রয়ের হিসাব যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি মডেলে সম্ভাব্য সাশ্রয় ৭৩৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট দফতর কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস ২০২৪ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিল, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ওষুধের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল্যনীতি পরিবর্তন করলে এই প্রভাব কমে যেতে পারে।
ডেমোক্র্যাট নেতারা বলছেন, এই নীতির আওতায় না থাকা ওষুধগুলোর দাম বেড়ে গেলে মোট সাশ্রয়ের প্রভাব কমে যেতে পারে। এছাড়া তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার সময় অনেক ওষুধ কোম্পানি তাদের মুনাফা বাড়িয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের দফতরের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই কর্মসূচিতে যুক্ত ১৫টি কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা গত এক বছরে ৬৬ শতাংশ বেড়ে ১৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে সিনেট ফাইন্যান্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রন ওয়াইডেন প্রশাসনের কাছে এসব চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তার প্রশ্ন, “যদি এই চুক্তিগুলো এতই ভালো হয়, তাহলে সেগুলো জনসমক্ষে আনতে ভয় পাচ্ছে কেন প্রশাসন?”
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা বজায় রেখে চুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সর্বশেষ সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬৭ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত সাশ্রয় বাস্তবায়িত হলে তা মার্কিন অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে নীতির বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ কৌশলের ওপর। সূত্র: এপি
Posted ১০:১৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh