বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
লেখক, গবেষক আবু তাহের সরফরাজ সম্প্রতি কবি কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতার সৌন্দর্য উন্মোচন করেছেন তার রচিত ‘কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা: শৈল্পিক সৌন্দর্য ও কৃৎকৌশল’ গ্রন্থে। বইটির ভূমিকায় তিনি লেখেন, ওয়েবম্যাগ ‘বাংলা রিভিউ’তে মাঝে-মধ্যে নানান বিষয়ে গদ্য লিখি। সম্পাদকের অনুরোধে একসময়ে লিখতে শুরু করি নব্বই ও আশির দশকের কবিদের কবিতা বিষয়ে বিশ্লেষণী গদ্য।
একদিন সম্পাদক সাজ্জাদ বিপ্লব বলেন, কাজী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কি আপনার পরিচয় আছে? তার কবিতা নিয়ে লিখতে পারেন। বললাম, আমি ওনাকে চিনি না। কবিতাও পড়েছি দু’চারটে। এত অল্প জ্ঞান নিয়ে লিখলে তার কবিতার ওপর অবিচার করা হবে। এরপর সাজ্জাদ ভদ্রলোকের কয়েকটি কবিতা আমাকে ই-মেইল করলেন। সেসব কবিতা পড়ে গদ্য লিখলাম। প্রকাশও হলো বাংলা রিভিউতে। সেই সূত্রে কয়েকদিন পর ফেসবুকে পরিচয় কাজী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে।
আমার গদ্যভাষার বেশ প্রশংসা করলেন। শুনে আমি লজ্জায় মরি! আমাকে হয়তো সমঝদার পাঠক বিবেচনা করে তার কয়েকটি কবিতার বই পাঠিয়ে দিলেন। ব্যস্ততার ফাঁকে-ফাঁকে কবিতাগুলো পড়তে আরম্ভ করি। যত পড়ি ততই মুগ্ধ হই। ছন্দের কী নিপুণ শৈল্পিক কারুকাজ! চিত্রকল্পও অনন্য, যেন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। শব্দের বুননরীতিতে রয়েছে কবির স্বকীয় ভঙ্গি, যা দীর্ঘ বছর চেষ্টা করেও আমাদের অনেক কবিই আয়ত্ব করতে পারেননি।
একদিন মনে হলো, এসব কবিতার শৈল্পিক সৌন্দর্যে আমি একাই কেন মুগ্ধ হবো? বাংলা কবিতার মনস্বী পাঠকদের ভেতরও এই মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিলে কেমন হয়? এই ইচ্ছায় প্ররোচিত হয়েই লিখতে আরম্ভ করি এই বইয়ের গদ্যগুলো। স্বীকার করতেই হচ্ছে, নানা ব্যস্ততায় কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতার প্রকৃত সৌন্দর্য এসব গদ্যে আমি উদ্ভাসিত করতে পারিনি। সেটা হয়তো সম্ভবও হয় না। যে সৌন্দর্য অন্তর্গহনে ঝিরঝির আনন্দের ঢেউ তুলে যায় সেই ঢেউ কি যথার্থ উপায়ে শব্দে তুলে আনা যায়? তবে শব্দের গ্রন্থিতে যতটুকু বাঁধতে পেরেছি তাতেই কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতার শিল্প-সুষমায় পাঠক অভিভূত হবেন। আগ্রহী হবেন তার কবিতার অন্তর্বোধ পর্যটনে।
উল্লেখ্য গত মাসে কাজী জহিরুল ইসলামের কবিতা নিয়ে আরো একটি গবেষণা গ্রন্থ বাজারে আসে। সেটি লিখেছেন কবি সোহেল মাহমুদ। সেই গ্রন্থে কবি সোহেল মাহমুদ কবির ৩০টি কবিতা নির্বাচন করেন এবং প্রতিটি কবিতা আলাদা আলাদা বিশ্লেষণ করেন। কাজী জহিরুল ইসলাম সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অত্যুজ্জ্বল নক্ষত্র। তার রচিত কবিতা শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যের গহনেই নিয়ে যায় না, সমাজকে আলোকিত রাস্তায় উত্তরণের পথও নির্দেশ করে। এই গ্রন্থটি সম্পর্কে কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, আবু তাহের একজন দক্ষ খনিশ্রমিকের মতো আমার কবিতার গহনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তুলে এনেছেন বহু কিছু যা পাঠ করে পাঠক হয়ত আমার কবিতার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। আমি তাহেরের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাবার পাশাপাশি তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানাই।
Posted ৩:২৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh