| বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশে সবাই সত্যিকার স্বাধীনতা ও নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছে। ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কূটকৌশলে ২০০৮ সালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে দিল্লি নিজের অভিলাষ কায়েমে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
শেখ হাসিনা এক এক করে ভারতের প্রতিটি চাহিদা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথায় জিঘাংসা বাস্তবায়নে বিডিআর সদরে সাতান্ন জন সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার হীন উদ্দেশ্যে ভারতীয় পরিকল্পনায় দেশপ্রেমিক ও ইসলামপন্থীদের প্রশাসন ও সব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে সংখ্যালঘু ও দলীয় অযোগ্য ক্যাডার বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়।
গুম, খুন, লুটপাট করে চিরতরে ভারতের গোলাম বানিয়ে দেশকে কার্যত করদরাজ্যে পরিণত করেন শেখ হাসিনা। সশস্ত্র বাহিনীতে দলীয়করণ করা হয়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সব অঙ্গ সংগঠন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, পরিণত হয় সন্ত্রাসী বাহিনীতে। জঙ্গি নাটকের মাধ্যমে মানুষকে গুম-খুন করার অসংখ্য ঘটনা চলমান থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয় কসাইখানায়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাঠান আওয়ামী লীগ নেতারা। জাতীয় সংসদ রূপান্তরিত হয় ভাঁড়দের আখড়ায়। প্রশাসন লীগ ক্যাডারদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিচার বিভাগের দলীয়করণ হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ যখন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সামরিক বাহিনী নামানো হয় ঠিক সে সময়ে সামরিক বাহিনীর কিছু দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ২ আগস্ট ’২৪-তে যে ঘোষণাটি পাঠ করেন; তা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
ঘোষণার কথা ছিল: ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ করছি, সরকার তাদের সাথে কোনোরূপ আলাপ-আলোচনা না করে এ আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য হিংস্র রক্তাক্ত পথ বেছে নেয়। প্রথমে ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র গুণ্ডাবাহিনীকে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দেয়। তাদের বর্বরোচিত আক্রমণে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং অসংখ্য আন্দোলনকারীকে গুরুতর আহত ও গুম করা হয়। শুধু তা-ই নয়, এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করতে বর্বর বাহিনীর সাথে যুক্ত হয় আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত বিজিবি, র্যাব, আনসার ও পুলিশের নির্বিচার আক্রমণ; ব্যবহার করা হয় হেলিকপ্টার ও স্নাইপার, যা যুদ্ধক্ষেত্রেও সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।
এ আক্রমণ এতটাই বর্বর ও নৃশংস ছিল যে, হত্যার শিকার প্রতিটি মানুষের শরীর বুলেটে ঝাঁজরা হয়ে যায়, অন্ধ করা হয় বহু ব্যক্তিকে। আন্দোলন দমাবার জন্য সরকার কারফিউ জারি করে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নামায় স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীকে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দেশের গৌরব আমাদের এ প্রাণের সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীতে কর্মরত বর্তমান প্রজন্ম আমাদের অনুজ, আমাদের ছোট ভাইবোন ও সন্তান। তারা ইউনিফর্ম পরিধান করে বিধায় অনেক কিছুই খোলাখুলি বলতে পারে না। তাই অগ্রজ হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তাদের গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা।
সুতরাং আমরা জনগণের বিরুদ্ধে এসব হীন কাজ থেকে সামরিক বাহিনীকে বিরত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাই।’ এত অল্প সময়ে নিজ দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় অর্থে লালিত বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিশাল এ হতাহতের নজির বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসে এ দেশে তো বটেই, বিশ্বের কোথাও মিলবে না। এমন হত্যাকাণ্ডের নিন্দা বা ধিক্কার ও প্রতিবাদের উপযুক্ত ভাষা আমাদের জানা নেই। বিপুল এ প্রাণহানির দায় অবশ্যই সরকারের।
এ ঘোষণা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ সেই কাঙ্খিত বিজয় আসে। ছাত্র-জনতার সাথে সামরিক বাহিনীর যে সমর্থন ও সহযোগিতা- তা এই আন্দোলনকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশে সবাই সত্যিকার স্বাধীনতা ও নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে।
Posted ১২:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh