Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রিয় হোটেলপাড়া এখন নীরব, সর্বত্র আতঙ্ক

বাংলাদেশ অনলাইন   |   শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রিয় হোটেলপাড়া এখন নীরব, সর্বত্র আতঙ্ক

কলকাতার নিউমার্কেটসংলগ্ন মীর্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে মঙ্গলবার (আগস্ট) গভীর রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের সাত পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর নিউমার্কেট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, লিনসে স্ট্রিট, মীর্জা গালিব স্ট্রিট ও ফ্রি-স্কুল স্ট্রিটজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অনেকের প্রশ্ন, প্রশাসনের নজরদারি ও অনুমোদন ব্যবস্থায় ঘাটতি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল।

নিউমার্কেটের আশপাশের এই এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি পর্যটকদের ‘প্রিয় হোটেলপাড়া’ হিসেবে চেনা হয়। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় একটি অংশ এখানে থাকেন। রফি আহমেদ কিদোয়াই স্ট্রিট, লিনসে স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, কলিন লেন, মীর্জা গালিব স্ট্রিট ও এস এন ব্যানার্জি রোডে রয়েছে তাদের পছন্দের বহু হোটেল ও গেস্টহাউস।

কম খরচে থাকার ব্যবস্থা, নিউমার্কেটের নৈকট্য, ফুটপাতের খাবারের দোকান, মানি এক্সচেঞ্জ এবং বাংলাদেশ ও কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসের কাউন্টার—সব মিলিয়ে চিকিৎসার জন্য আসা পর্যটকদের কাছে এলাকাটি বেশ সুবিধাজনক। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের কাছে এটি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে আছে।

বাংলাদেশি পর্যটকদের এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কলকাতার অনেক হোটেল ব্যবসায়ী এই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে হোটেল ও গেস্টহাউস গড়ে তুলেছেন। হোটেলের তুলনায় গেস্টহাউস চালু করা সহজ হওয়ায় আবাসিক বাড়ির মালিকদের অনেকে পুরো বাড়ি বা বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়ে অন্য এলাকায় কম ভাড়ার বাসায় গিয়ে থাকছেন।

হোটেলের সামনে ফুল দিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য। ২০ আগস্ট ২০২৬

এই এলাকার আবাসিক ভবনকে হোটেল বা গেস্টহাউসে রূপান্তরের এমন উদাহরণ কম নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়গুলো জানা থাকা সত্ত্বেও পৌরসভা এসব হোটেল ও গেস্টহাউসের অনুমোদন দিয়েছে। কোনো কোনো ভবনে পার্টিশন দিয়ে ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়মও মানা হচ্ছে না। অর্থের বিনিময়ে এসব অনিয়ম উপেক্ষা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চিকিৎসার কাজে কলকাতায় এলে নিউমার্কেট এলাকার এসব হোটেল ও গেস্টহাউসকে অগ্রাধিকার দেয়। এতে থাকার খরচ কম পড়ে, কাছেই পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় বাজারঘাট। রয়েছে প্রচুর মানি এক্সচেঞ্জের কাউন্টারও। এসব সুবিধাই বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশি পর্যটকদের এই এলাকায় টেনে এনেছে।

তবে সরু অলিগলির মধ্যে গড়ে ওঠা এসব হোটেল ও গেস্টহাউসে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা মালিকদের অনেকের চিন্তার বাইরে ছিল। তারা নির্বিঘ্নেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতের অগ্নিকাণ্ড সেই বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলের হোটেলের সামনে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে অনেক মানুষ ফুল নিয়ে উপস্থিত হন। একই সঙ্গে প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ এখন এলাকায় কড়াকড়ি শুরু করেছে।

তদন্ত কমিটি গঠন করে এসব হোটেল ও গেস্টহাউসের বৈধতা এবং সেখানে চলা কথিত অবৈধ কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হোটেল ও গেস্টহাউসের মালিকেরা।

কলকাতায় হোটেলপাড়ায় একটি ভবনে ছোট অনেকগুলো হোটল ও গেস্টহাউস রয়েছে

বাংলাদেশি পর্যটক সোহেল বলেন, এখন তাদের সত্যিই ভয় ধরে গেছে। আগে বিষয়টি নিয়ে এভাবে ভাবতে হয়নি। তারা কলকাতায় এসে চিকিৎসা নিয়েছেন, ঘুরেছেন এবং এসব হোটেলে থেকেছেন। কিন্তু এখন জানতে পারছেন, মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য ব্যবহৃত এসব হোটেল ও গেস্টহাউসের অনেকগুলোরই অনুমতি নেই। তার ভাষায়, বিষয়টি ভাবাই কঠিন।

সোহেল আরও জানান, এখন তিনি শুনছেন, একটি পাঁচতলা ভবনের মধ্যে বিভিন্ন নামে ১০টি পর্যন্ত হোটেল বা গেস্টহাউস রয়েছে। প্রতিটি তলায় প্লাইউড বা বোর্ড দিয়ে ছোট ছোট হোটেল তৈরি করা হয়েছে। এসব হোটেল পরিচালনার বৈধ লাইসেন্স নেই বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। অনেক জায়গায় অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাও নেই। এমনকি অনেক হোটেলে ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কোনো অডিটও হয়নি।

আরেক বাংলাদেশি পর্যটক মো. উজ্জ্বল খান জানান, অনেক হোটেলে ঢোকা ও বের হওয়ার পথ এতটাই সরু যে বিপদের সময় দ্রুত বের হওয়া সম্ভব নয়। অনেক হোটেলে নেই ফায়ার এক্সিট বা জরুরি সময়ে বের হওয়ার আলাদা পথ। কোথাও আবার লোহার সিঁড়ি তৈরি করে দোতলা বা তিনতলায় ওঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উজ্জ্বল খানের অভিযোগ, কোথাও একটি বিদ্যুৎ-সংযোগ থেকেই এসি ও টেলিভিশনের মতো একাধিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি।

এই এলাকার মীর্জা গালিব স্ট্রিটের ব্যবসায়ী সমর দাস বলেন, ‘কলকাতার হোটেলপাড়ার এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশের পর্যটকদের মনে ভীতি তৈরি করেছে। তাহলে তাঁরা কি এসব হোটেল-গেস্টহাউস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন?’

এ ঘটনার পর অনেক পর্যটক তড়িঘড়ি করে হোটেল ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন।

 

Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.