বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আমেরিকার গ্রিনকার্ডধারীরা সর্বোচ্চ কতদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করতে পারবেন, প্রশ্নটি নিয়ে বেশির ভাগ গ্রিনকার্ডধারী দ্বিধাসংশয়ের মধ্যে থাকেন। এর সহজ উত্তর হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে গ্রিনকার্ডধারী কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যান, তাহলে তাকে অবশ্যই ছয়মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে হবে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। কেউ যদি টানা ৬ মাসের বেশি বাইরে থাকেন, তাহলে ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস বর্ডার প্রাটেকশন এজেন্টরা তার গ্রিনকার্ড বাতিল বা সংশ্লিষ্ট গ্রিনকার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে তার স্থায়ী বসবাসের অধিকার ত্যাগ করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কোনো গ্রিনকার্ডধারী সর্বোচ্চ ১ বছর (৩৬৫ দিন) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কাটাতে পারেন।
কোনো গ্রিনকার্ডধারী যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ৬ মাসের কম সময় থাকেন, তাহলে তিনি সাধারণত কোনো সমস্যা ছাড়াই পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু কোনো গ্রিনকার্ডধারী যদি ৬ মাসের বেশি অথবা সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশকালে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে তার স্থায়ী বাসস্থান বা তার কাজের প্রমাণাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
কেউ যদি কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া এক বছর বা তার বেশি সময় বাইরে কাটান, তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে, তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। অতএব, তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার অনুমতি নাও দিতে পারেন। কোনো গ্রিনকার্ডধারীকে কোনো কারণে যদি এক বছরের বেশি সময় বাইরে থাকতে হয়, যা এক বছর থেকে দুই বছর বা বেশি সময় হয়, সেক্ষেত্রে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার আগেই কেন তার ফিরে আসতে বিলম্ব হবে, তা ব্যাখ্যা করে পুনরায় প্রবেশ করার জন্য ‘রি-এন্ট্রি পারমিট’ এর জন্য আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীরা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (টঝঈওঝ) ভিজিট করতে পারেন।
গ্রিনকার্ডধারীদের প্রবেশ অস্বীকার করার পক্ষে রায়:
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত এক মামলার রায়ে ইমিগ্রেশন অফিসারদের দ্বারা গ্রিনকার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে পুন:প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করা আরও সহজ করে দিয়েছে। ৬-৩ ভোটে কোর্ট রায় দিয়েছে যে, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন বর্ডার এজেন্টদের কাছে গ্রিনকার্ডধারীরা কোনো অপরাধ করেছে কিনা তা প্রমাণ করার জন্য সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াও তাদেরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশে বাধা দিতে পারে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ মামলা সূত্রপাত হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন চীনা বংশোদ্ভুত গ্রিনকার্ডধারী নিউ জার্সিতে প্রায় তিন লাখ ডলার মূল্যে নকল শর্টস বিক্রয়ের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি নৈতিক স্খলনের কারণে গ্রিনকার্ড হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন।
তিনি বাইরে গেলে তাকে গ্রিনকার্ডের অধিকার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্যারোলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এক বছর পর, তিনি ট্রেডমার্ক জালিয়াতির অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের প্রবেশন দেওয়া হয়। প্রবেশন শেষে তাকে ডিপোর্ট করার কার্যক্রম শুরু করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
Posted ১২:১৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh