বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) গ্রিনকার্ড সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কিত নির্দেশনার ব্যাখ্যা দিয়ে আংশিকভাবে অবস্থান পরিবর্তন করেছে। গত ২৯ মে সংস্থাটি জানায়, গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করা সব অভিবাসীকেই নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে না; বরং প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদন নিউইয়র্ক টাইমস ও মিন্ট নিউজের।
আগের নির্দেশনায় কী ছিল : বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল যে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতি পরিবর্তন করে গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ব্যতীত আবেদনকারীদের দেশত্যাগ করতে হবে। এই ঘোষণার পরপরই অভিবাসন আইনজীবী, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সম্ভাব্য গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি কার্যকর হলে প্রতিবছর ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের আবেদন করা প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ভুক্তভোগী হতেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট প্রায় ১৪ লাখ গ্রিনকার্ড অনুমোদন করা হয়েছিল।
নতুন ব্যাখ্যায় কী বলছে ডিএইচএস : গত ২৯ মে প্রকাশিত নতুন ব্যাখ্যায় ডিএইচএস জানায়, এটি কোনো নতুন নীতি নয়; বরং অভিবাসন কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বিবেচনামূলক ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। দুটি শ্রেণির অভিবাসী এই নীতির আওতায় বেশি প্রভাবিত হতে পারেন, যারা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং যেসব দেশের নাগরিকরা সরকারি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরশীল বলে বিবেচিত হন।হোয়াইট হাউজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মূল নির্দেশনাটি বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হালনাগাদের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। এমনকি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশনা প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কিছু কর্মকর্তাও এর প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না।
সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা ও বর্তমানে থিংক ট্যাংক থার্ড ওয়ের সামাজিক নীতি বিভাগের প্রধান সারাহ পিয়ার্স বলেন, ‘জনমতের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রশাসন এখন নিজেদের তৈরি করা জটিলতা সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে।’ তার ভাষায়, বর্তমান প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘দেশের জন্য সর্বোত্তম কী হবে- তা বিবেচনা না করে চমক সৃষ্টি করাকে অগ্রাধিকার দেয়া।’
পারিবারিক গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের ঝুঁকি : আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রাথমিক নির্দেশনাটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হতো, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন সেইসব অভিবাসী, যারা অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিনকার্ডের আবেদন করছিলেন। কারণ তারা দেশ ছেড়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।
এখনও রয়ে গেছে অনেক প্রশ্ন : নতুন ব্যাখ্যার পরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়নি, যেসব দেশের জন্য বর্তমানে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রয়েছে, সেসব দেশের আবেদনকারীদেরও বিদেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে কিনা। এছাড়া ‘জাতীয় স্বার্থ’ বিবেচনায় কারা ছাড় পাবেন, তারও কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা মানদণ্ড এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নতুন ব্যাখ্যা কিছুটা স্বস্তি দিলেও গ্রিনকার্ড প্রত্যাশী হাজারো অভিবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
Posted ১:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh