বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
গত সপ্তাহের ভয়াবহ তুষারঝড়ের পর নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় বরফের স্তূপের ওপর দিন দিন জমে উঠছে আবর্জনার পাহাড়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক দিন পিছিয়ে পড়েছে ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম। তবে মেয়র জোহরান মামদানি স্যানিটেশন কর্মীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, টানা ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করেও চরম ঠান্ডা ও বরফের কারণে গতি ব্যাহত হয়েছে। প্রচণ্ড তুষারপাত ও গভীর শৈত্যপ্রবাহ নিউইয়র্কজুড়ে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। শহরের অনেক এলাকায় কয়েক দিন ধরে পড়ে থাকা আবর্জনার স্তূপ চোখে পড়ার মতো। বরফে ঢাকা নোংরা রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লার ব্যাগ যেন তুষারঝড়-পরবর্তী এক দীর্ঘস্থায়ী ‘হ্যাংওভার’।
বরফ গলানোর যন্ত্র (স্নো মেল্টার) ব্যবহার করা হলেও শক্ত হয়ে যাওয়া বরফ ও বরফের ঢিবি সরানো সহজ হচ্ছে না। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্যানিটেশন কমিশনার জেবিয়ার লোজান বলেন,“এটা যেন পাথরের বোল্ডার ভাঙার মতো। ফুটপাত খোলার জন্য কর্মীদের বরফ কেটে কাটতে হয়েছে। এতে কাজের গতি স্বাভাবিকভাবেই কমে গেছে। তবুও এটিই আমাদের বড় অগ্রাধিকার ছিল।”
এই পরিস্থিতির কারণে আবর্জনা সংগ্রহে দেরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবারের নির্ধারিত সেবা এলাকায় অনেক বাসিন্দা সন্ধ্যা ৬টার আগে ময়লা সংগ্রহের সেবা পাবেন না, যা রাত পেরিয়ে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলবে। এদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অভিনেতা মাইকেল রাপাপোর্ট আপার ইস্ট সাইডের পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি সিটি কাউন্সিল সদস্য ইন্না ভার্নিকভও মেয়রের সমালোচনা করেন। তবে মেয়র মামদানি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “স্যানিটেশন বিভাগ বর্তমানে আবর্জনা সংগ্রহে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে আছে। তবে তারা যা কিছু আছে, সব শক্তি দিয়েই কাজ করছে। আমরা চাই, নিউইয়র্কবাসী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারুক।” এদিকে অনেক সাধারণ নাগরিক পরিস্থিতি বুঝে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। এক নিউইয়র্কবাসী বলেন, “এত ঠান্ডার মধ্যে কাজ করা খুব কঠিন। একটু সহনশীল হওয়া উচিত।”
গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার স্যানিটেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তুষার অপসারণ কার্যক্রম এখনও চলছে।বিবৃতিতে বলা হয়, “আবর্জনা সংগ্রহ হচ্ছে, বরফ সরানো ও গলানো হচ্ছে। আমরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছি। প্রতিটি শিফটে শত শত ট্রাক ১২ ঘণ্টা করে কাজ করছে। পুরোপুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।”
Posted ১২:৩৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh