Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে কোন দেশ কী প্রতিক্রিয়া জানাল

বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক :   |   রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে কোন দেশ কী প্রতিক্রিয়া জানাল

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। শুক্রবার তারা এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তার আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ৮০টির বেশি দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করে।

মার্কিন প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এ শুল্ক আরোপের ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। শুল্কের আওতায় পড়া অনেক দেশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে বাণিজ্যঘাটতি আছে, তা কমানো। সে লক্ষ্যেই তাঁর এই শুল্ক আরোপ। তবে তাঁর এই নীতি বড় ধরনের আইনি বাধার মুখেও পড়েছে। এর আগে তাঁর বহুল আলোচিত পাল্টা শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

গত ২৩ জুলাই রাতে কার্যকারিতা শেষ হওয়া বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে এবার এই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। এতে ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আইনের অপব্যবহার করছেন, এমন সমালোচনা উঠেছে। দেখে নেওয়া যাক, এই শুল্কের বিরুদ্ধে কোন দেশ কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে দেশটির সম্পৃক্ততা আছে, এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন। গরুর মাংস, স্বর্ণ ও তামার বড় রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া আধুনিক দাসত্বের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে বলে তিনি জানান।

ফ্যারেল বলেন, শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে।
নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে অর্থবহ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন মার্কিন শুল্ক সত্ত্বেও তাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের মধ্যে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, তার আওতায় কয়েকটি শিল্প খাত অতিরিক্ত শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।

মুখপাত্র বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যেন জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি না করে, সে বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বসহ দেখে। যুক্তরাষ্ট্রও যুক্তরাজ্যের গৃহীত পদক্ষেপের কথা স্বীকার করেছে। তাই নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাজ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়নি।
জাপান

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মিনোরু কিহারা বলেন, জাপানে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নেই—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করা দুঃখজনক। কেননা জাপানের শিল্প ও বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।

মিনোরু কিহারা আরও বলেন, গত বছর দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, সে অনুযায়ী জাপানি পণ্যে মোট শুল্কহার ১৫ শতাংশের বেশি হবে না—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিক্রিয়ায় একধরনের সতর্ক আশাবাদ আছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইইউর আগের যে বাণিজ্য সমঝোতা, নতুন এই শুল্কনীতি যে সেখান থেকে বিচ্যুত হয়েছে, বিষয়টি সে রকম মনে হচ্ছে না।

কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ বিবৃতিতে যে শুল্ক-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এই নীতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চীন

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্কের নিন্দা জানিয়েছে। তারা যথারীতি এভাবে একতরফা শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের যে অবস্থান, তার পুনরাবৃত্তি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, শুল্কযুদ্ধ ও বাণিজ্যযুদ্ধে কোনো পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা হয় না।

গত মে মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আবার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত

নতুন শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিকারকেরা।

দেশটির এক শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন জানিয়েছে, যেসব দেশের কিছু পণ্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পণ্য-শুল্ক ছাড় পাবে, সেই তালিকায় ভারত নেই।

কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান অশ্বিন চন্দ্রন বলেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে ভারতের বস্ত্র ও পোশাক খাত আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ হারাতে পারে। অর্থাৎ সেগুলো অন্য দেশে চলে যাবে, এমন সম্ভাবনা আছে।

Posted ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.