শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

পিলখানা ট্র্যাজেডি : বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক শোকের দিন

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

পিলখানা ট্র্যাজেডি : বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক শোকের দিন

ফাইল ছবি

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় ও শোকাবহ দিন। ১৬ বছর পর এ দিবসটি আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ভিন্ন পরিবেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন।

সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ওই নৃশংস ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই মূল্যায়ন করে থাকেন। অন্তর্বর্তী সরকারেরও মূল্যায়ন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধেও বাংলাদেশ একসঙ্গে এত জন সেনা কর্মকর্তাকে হারায়নি।

এই ভয়াবহ ঘটনায় স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় শপথ গ্রহণকারী দেশের সুরক্ষা কবচ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় তার মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের, যা সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ দিনটি শুধু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, হৃদয়বিদারক এবং শোকাবহ দিনটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা সময়ের চাহিদা।

প্রতিবছর দিনটি যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হলে সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে, যা শহীদ পরিবারগুলোর অন্তরে সান্ত্বনাবোধ তৈরি করবে। এই দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মানসিকতা জাগ্রত করবে। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনীর অবদান এবং আত্মত্যাগ সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে এই দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের মাধ্যমে সর্বস্তরের সেনা সদস্যদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্বের প্রতি আরো অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ থেকে শক্তি নিয়ে সেনা সদস্যরা জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি আরো দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন। ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শহীদ সেনাদিবস ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের।

সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও এই দাবি জানায়। শহীদ সেনা পরিবারগুলোর অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার এ দাবি পূরণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং পৈশাচিক ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করতেই তৎপর ছিল।

বর্বর ওই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এবং তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া বিডিআরের খুনি সদস্যদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য উঠে আসে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দুই বছর আগে থেকেই এর পরিকল্পনা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০০৭ সালেই বিপথগামী বিডিআর সদস্যরা ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগে বেশ কয়েকবার তাপসের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বিডিআর সদস্য তোরাব আলীর বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যারিস্টার তাপস বিডিআর ডিজি (মহাপরিচালক) ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা অনুুমোদন করেন।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শেখ সেলিমের সঙ্গেও ১০-১২ জন বিডিআর সদস্য দেখা করেন। বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের জানানো হয়েছিল, ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটনে শেখ হাসিনা সরকারের সম্মতি আছে। সে সময় পিলখানাজুড়ে জয় বাংলা স্লোগান শোনা গেছে। সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির কাছেও একই স্বীকারোক্তি দেন হত্যাকারীরা। কিন্তু হত্যা পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন করা তো দূরের কথা, তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদেরও বাইরে থেকে যান।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৪ ডিসেম্বর বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বর হত্যাযজ্ঞে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও প্রকৃত ঘটনার স্বরূপ উদঘাটন, ঘটনার ষড়যন্ত্রকারী, আলামত ধ্বংসকারীদের চিহ্নিত করার জন্য ৯০ দিনের সময় দিয়ে একটি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমানকে এই কমিশনের সভাপতি করা হয়।

এ ছাড়া শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যরা গত ১৯ ডিসেম্বর পিলখানা ট্র্যাজেডির ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটিতে) অভিযোগ করেন। ৫৮ জনের এই তালিকায় আরো রয়েছেন শেখ হাসিনার তৎকালীন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযোগকারীরা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সেদিন জানান, শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুই শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) ধ্বংসের নীলনকশা প্রণয়ন করে। সেই লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সর্বপ্রথম শিকারে পরিণত হয় তৎকালীন বিডিআরে কর্মরত পেশাদার, সৎ, দক্ষ, মেধাবী ও সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক অফিসারদের একটি অংশ। শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর ওই সব দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে নিজের স্বৈরশাসন পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে প্রথম ও প্রধানতম অন্তরায়-বিপত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের ওপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করার মাধ্যমে নিজের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

সেদিন যে পদবির সেনা কর্মকর্তারা শহীদ হন : বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত সেই হত্যাযজ্ঞে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৫৬ জন বিডিআরে প্রেষণে এবং একজন র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের একজন মেজর জেনারেল, দুজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, ১৬ জন কর্নেল, ১২ জন লে. কর্নেল, ২৪ জন মেজর এবং দুজন ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন। দুজন ক্যাপ্টেনের একজনের মেজর পদে পদোন্নতি প্রাপ্য ছিলেন এবং মেজর হিসেবেই তাঁর এবং অপর এক নিহত মেজরের লাশ দ্বিতীয় দফা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের পর ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর সমাহিত করা হয়। বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের গুলিতে সেদিন একজন সৈনিকও নিহত হন।

এ ছাড়া বিদ্রোহে নিহত বিডিআর মহাপরিচালকের স্ত্রী এবং লে. কর্নেল পদমর্যাদার একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী, আটজন বিডিআর সদস্য এবং আটজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। মোট ৭৪ জন নিহত হন। নিহত আট বিডিআর সদস্যের মধ্যে সুবেদার মেজর নূরুল ইসলামকে বিদ্রোহে বাধাদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হয়। বেসামরিক ব্যক্তিদের মধ্যে পিলখানায় কর্মকর্তাদের বাসার দুজন কর্মচারী এবং পিলখানার বাইরের তিনজন ছিলেন।

Posted ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কাঁঠাল সমাচার

(2231 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.