বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
নিউইয়র্ক সিটির ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট, লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় তরুণ প্রজন্মকে কীভাবে নিজ শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, তার বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে ব্রঙ্কসে আয়োজিত এক বিশেষ গণশুনানিতে। শিক্ষার্থী, ভাড়াটে ও কমিউনিটি নেতাদের সরাসরি বক্তব্য শুনে সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি আশ্বাস দিয়েছেন, নিউইয়র্ককে ভাড়াটেদের জন্য আরও বাসযোগ্য ও সাশ্রয়ী করতে তার প্রশাসন ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ২৮ মে সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের হোসটোস কমিউনিটি কলেজের রেপার্টরি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘স্টুডেন্টস রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিং’-এ কয়েকশ শিক্ষার্থী, ভাড়াটে, অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় বাসিন্দা সরাসরি সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানির সামনে তাদের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ‘মোর পারফেক্ট ইউনিয়ন’-এর উচ্চশিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগ ‘মোর পারফেক্ট ইউনিভার্সিটি’ এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানি শুরু থেকেই ব্যাপক জনসমাগমে মুখর ছিল। মিলনায়তনে উপস্থিত বহু শিক্ষার্থীর মাথায় ছিল মেয়র মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার জনপ্রিয় স্লোগান—“ঞযব জবহঃ ওং ঞড়ড় উধসহ ঐরময” লেখা হলুদ ও লাল রঙের ক্যাপ।শুনানিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও তরুণ ভাড়াটে আবাসন সংকট, উচ্ছেদের ভয়, নিম্নমানের আবাসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের জীবনে সৃষ্ট সংকটের কথা তুলে ধরেন। সাউথ ব্রঙ্কসে বেড়ে ওঠা এক কলেজ শিক্ষার্থী ও ভাড়াটে অধিকারকর্মী জানান, লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তার পরিবারকে বহু বছরের পরিচিত এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে।ব্রঙ্কসের বাসিন্দা এবং ‘সিইউএনওয়াই কেয়ার্স’-এর লিড অ্যাডভোকেট ব্রিটানি লাঞ্জানো বলেন, ব্রঙ্কসে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় চার বছর আগে তিনি কুইন্সে চলে যেতে বাধ্য হন। তার ভাষায়, সে সময় কুইন্সে একই ধরনের বাসা ভাড়া ব্রঙ্কসের তুলনায় প্রায় এক হাজার ডলার কম ছিল।
অন্যদিকে ন্যাশনাল ক্লিন ওয়াটার কালেক্টিভ ইয়ুথ কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্বকারী এক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, নিউইয়র্কবাসী যখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পরিশোধ করছে, তখনও কেন অনেক এলাকায় নিরাপদ ও মানসম্মত পানীয় জলের মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।এই গণশুনানির মাত্র দুই দিন আগে মেয়র মামদানির প্রশাসন ‘ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা’ শীর্ষক একটি উচ্চাভিলাষী আবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করে। শুনানিতে মেয়র জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২২ বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মূলধনী বিনিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটিতে ২ লাখ নতুন সাশ্রয়ী ও স্থায়ী রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড (ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত) আবাসন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে আরও ২ লাখ বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মেয়র বলেন, আবাসন সংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন বাড়ি নির্মাণই নয়, ভাড়াটেদের অধিকার রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে টেন্যান্ট ইউনিয়ন বা ভাড়াটে সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কোনো ভবনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাড়াটে একত্রিত হয়ে অভিযোগ জানালে সিটি কর্তৃপক্ষ ভবনটির ছাদ থেকে বেসমেন্ট পর্যন্ত সমন্বিত পরিদর্শন ও তদন্ত পরিচালনা করবে।তিনি জানান, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসাধু বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে “ফিক্স দ্য সিটি” নামে নতুন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে ৬৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
শুনানিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “আমরা কখনোই চাই না আপনারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে বেঁচে থাকার জন্য নিউইয়র্ক সিটি ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমরা চাই আপনারা এখানেই থাকুন, এখানেই শিক্ষা গ্রহণ করুন, কাজ করুন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন। আমাদের প্রশাসন সিটির ৭০ শতাংশ ভাড়াটেকে আর অবহেলার চোখে দেখবে না।” আবাসনের গুণগত মান প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, আবাসন সংকটের অর্থ শুধু উচ্চ ভাড়া নয়; অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও বসবাস করতে হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিদর্শক ও আইন প্রয়োগকারী কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বারবার আইন লঙ্ঘনকারী মালিকদের সম্পত্তি প্রয়োজন হলে অলাভজনক সংস্থা কিংবা ভাড়াটেদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করা হবে।
উল্লেখ্য, হোসটোস কমিউনিটি কলেজ দীর্ঘদিন ধরেই ব্রঙ্কসের সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আগামী ৮ জুন কলেজ প্রাঙ্গণেই নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের বার্ষিক ব্রঙ্কস পাবলিক হিয়ারিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সাধারণ বাসিন্দারা ভাড়া বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং ভাড়াটেদের অধিকার নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
আর্সেনাল জার্সির পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ আদায়
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের থিমযুক্ত বিশেষ কুর্তি পরে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। গত ২৭ মে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস বরো এলাকায় স্থানীয় শত শত মুসলিম বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনি ঈদের এই বার্ষিক জামাতে অংশ নেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের দিন তিনি আর্সেনাল ক্লাবের নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সির আদলে তৈরি একটি দীর্ঘ হাতার কুর্তি পরে নামাজে অংশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
গেলো মে মাসেই দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়ে আর্সেনাল প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতায় বিশ্বজুড়ে ক্লাবটির সমর্থকদের মাঝে এমনিতেই আনন্দের বন্যা বইছে। ঈদের নামাজ শেষে মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার ২০ লক্ষাধিক অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেয়া এক বার্তায় নিউইয়র্কবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি পত্রে উল্লেখ করেন, ইসলামের চিরন্তন আদর্শ অনুযায়ী কোরবানি বা আত্মত্যাগ কোনো বোঝা নয়, বরং এটি মানবজাতিকে বৃহত্তর কল্যাণের অংশ হতে এবং অভাবী মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে।
Posted ১:১০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh