বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ধ্বংসের কারণ

জাফর আহমাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫

পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ধ্বংসের কারণ

“কত জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের ওপর আমার আযাব অকস্মাত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রাতের বেলায় অথবা দিনের বেলা যখন তারা বিশ্রামরত ছিল। আর যখন আমার আযাব তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল তখন তাদের মুখে এ ছাড়া আর কোন কথাই ছিলনা যে, ‘সত্যিই আমরা জালেম ছিলাম’। (সুরা আল-আরাফ ৪-৫) আল্লাহতা’আলা আরো বলেছেনঃ “পুর্ববর্তী ইবরাহিমের জাতি এবং আদ, সামুদ ও নুহের জাতিসমুহ এবং মাদায়েন বাসী ও মুতাফিকাতধারীদের ইতিহাস কি তারা জানে না? তাদের কাছে নবীরা সুস্পষ্ট নির্দেশমালা নিয়ে এসেছিলো। আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল। পক্ষান্তরে ঈমানদার নারী-পুরুষেরা পরস্পরের মিত্র ও সহযোগী। তারা ভাল কাজের আদেশ করে ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে।”(তাওবা : ৭০-৭১)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রায় সারা কুরআনেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির ইতিহাস বিশ্ববাসীর শিক্ষাগ্রহনের জন্য উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহ বলেন:“তাদের প্রত্যেককে আমি দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যেককে ধ্বংস করে দিয়েছি। আর সেইজন পদের ওপর দিয়ে তো তারা যাতায়াত করেছে, যার ওপর নিকৃষ্টতম বৃষ্টিবর্ষণ করা হয়েছিল। তারা কি তার অবস্থা দেখে থাকেনি ? প্রকৃতপক্ষে এরা পরকালে ফিরে যেতে হবে তা চিন্তা করেনা।”(সুরা ফুরকান ঃ ৩৯-৪০ )“জনপদের লোকেরা কি এখন এ ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার শাস্তি কখনো অকস্মাত রাত্রিকালে তাদের ওপর এসে পড়বেনা, যখন তারা থাকবে নিদ্রামগ্ন ? অথবা তারা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে যে, আমার মযবুত হাত কখনো দিনের বেলায় তাদের ওপর এসে পড়বে না, যখন তারা খেলা-ধুলায় মত্ত থাকবে ?এরা কি আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে নির্ভীক হয়ে গেছে? অথচ যে সব সমাপ্রদায়ের ধ্বংস অবধারিত তারা ছাড়া আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে আর কেউ নির্ভীক হয়না।”(সুরা আরাফঃ ৯৭-৯৯)) “যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনতো এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করতো, তাহলে আমি তাদের জন্যে আকাশ ও পৃথিবীর বরকত সমুহের দুয়ার খুলে দিতাম।

কিন্তু তারা তো প্রত্যাখ্যান করেছে। কাজেই তারা যে অসৎকাজ করে যাচ্ছিল তার জন্য আমি তাদের পাকড়াও করেছি।”(সুরা আরাফ : ৯৬) এ সকল জাতির ধ্বংসের মুল কারণ হিসাবে তাদের নবী ও রাসুলদের অস্বীকার, অসৌজন্যমুলক আচরণ ও হত্যা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহতা’আলা বলেন:“এদের পুর্বে নুহের কওম, আসহাবুর রাস, সামুদ,আদ, ফেরাউন, লুতের ভাই, আউকাবাসী এবং তুব্বা কওমের লোকেরাও অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেকেই রসুলদের অস্বীকার করেছিল। এবং পরিণামে আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য কার্যকর হয়েছে।” (সুরা ক্বাফ ঃ ১২-১৪) এ ছাড়া ধ্বংসের আরো বিভিন্ন কারণউল্লেখকরাহয়েছে। যখনই কোনজাতিআল্লাহর হেদায়াত হতে মুখ ফিরিয়ে তাগুতের নেতৃত্বে ঔদ্যত্যে প্রদর্শন করে এবং পৃথিবীকে মানুষের বাস অনোপযোগী করে তুলে এবং পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব দুঃসহ এক অভিশাপে পরিণত হয়, তখন আল্লাহর আযাব এসে তাদের নাপাক অস্তিত্ব থেকে দুনিয়াকে মুক্ত করে। নিম্নে আল-কুরআনে উল্লেখিত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমুহের ধ্বংসের কারণ বর্ণনা দেয়া হলো:-

আদ আল-কুরআনের সুরা আরাফ, হুদ, মুমিন ও আহক্বাফ, শুআরা, আল আনকাবুত ও হা-মীম আস-সেজদায় এ জাতির আলোচনা করা হয়েছে। হযরত হুদ (আঃ) কে এ জাতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। আদ ছিল আরবের প্রাচীনতম জাতি। তাদের অতীতকালের প্রতাপ-প্রতিপত্তি ও গৌরব গাঁথা প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছিল। তারপর দুনিয়ার বুক থেকে তাদের নামনিশানা মুছে যাওয়াটাই প্রবাদের রূপ নিয়েছিল। কুরআনের বর্ণনামতে এ জাতির আবাসস্থল ছিল‘ আহকাফ’এলাকা। এ এলাকাটি হিজায, ইয়ামন ও ইয়ামামার মধ্যবর্তী ‘রাবয়ুলখালী’র দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুসারে এদের আবাস ভুমি ওমান থেকে ইয়ামান পর্যন্ত বিস্তৃৃত ছিল। আল-কুরআন থেকে তাদের ধ্বংসের কারণ জানা যায়। জুলুমই ছিল তাদের ধ্বংসের প্রধান কারণ।

এধরণের আরেকটি পরিচিত জাতির নাম সামুদ জাতি। আল-কুরআনের সুরা আরাফ, হুদ, হিজর ও নামল এ জাতির আলোচনা করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম আরবের যে এলাকাটি আজো ‘আল-হিজর’ নামে খ্যাত সেখানেই ছিল এদের আবাস। আজকের সউদী আরবের অন্তর্গত মদীনা ও তাবুকের মাঝখানে হিজায রেলওয়ে ষ্টেশন রয়েছে, তার নাম মাদায়েনে সালেহ । এটিই ছিল সামুদ জাতির কেন্দ্রীয় স্থান। সামুদ জাতি পাহাড় কেটে যে সব বিপুলায়তন ইমারাত তৈয়ার করেছিল এখনো হাজার হাজার একর এলাকা জুড়ে সেগুলো অবস্থান করছে। তাবুক যুদ্ধের সময় নবী সঃ যখন এ এলাকা অতিক্রম করেছিলেন তখন তিনি মুসলমানদের এ শিক্ষণীয় নিদর্শনগুলো দেখান এবং এমন শিক্ষাদান করেন যাতে একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তির শিক্ষাগ্রহণ করা উচিৎ। তাদের ধ্বংসের কারণ ছিল, তারা দাম্ভিক ছিল এবং অন্যের ওপর জুলুম করেছিল। ফলে তারা ভুমিকম্পের দ্বারা পাকড়াও হলো।

এভাবে আরেক পরিচিত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিহলো, লুত জাতি। আল কুরআনের সুরা-আরাফ ও সুরা-ক্বাফ এ জাতির আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমান যে এলাকাটিকে ট্রান্সজর্ডান বলা হয় সেখানেই ছিল এ জাতিটির বাস। ইরাক ও ফিলিস্থিনের মধ্যবর্তী স্থানে এ এলাকাটি অবস্থিত। এদের শহরগুলোর মধ্যবর্তী এলাকাসমুহ এমনই শ্যামল সবুজে পরিপূর্ণ ছিল যে মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃৃত এলাকা যেন একটি বাগান মনে হত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করত। কিন্তু আজ এ জাতিরনাম-নিশানা দুনিয়ারবুক থেকে নিশ্চিহ্নহয়ে গেছে। এমনকিতাদের জনপদগুলো কোথায়অবস্থিত ছিলতাওআজসঠিকভাবেজানাযায়না। মৃতসাগরইতাদের একমাত্র স্মৃতিচিহ্নহিসাবেটিকেআছে।
বর্তমানেএটি‘লুতসাগর’নামেপরিচিত। পাথরবৃষ্টিদিয়েধ্বংসকরাহয়। সুরা হুদে তাদের জনপদকে উল্টিয়েদিয়েধ্বংসেরকথাওবলাহয়েছে। কারণতারাপৃথিবীরএমননিকৃষ্টকাজপ্রথমচালুকরেছিলযাআগে কেউ কখনোকরেনি, তাহলো মেয়েদের বাদ দিয়ে পুরুষদের দ্ধারা কামপ্রবৃত্তিচরিতার্থ করা। আল্লাহতায়ালাবলেন:“আরলুতকেআমিপয়গম্বর করেপাঠাই। তারপর স্মরণ করো, যখন সে নিজের নিজের সম্প্রদায়ের লোকদের বললঃ“তোমরা কি এতটাই নিলর্জ্জ হয়ে গেলে যে, দুনিয়ায় ইতিপূর্বে কেউ কখনো এমন অশ্লীল কাজ করে চলেছো ? প্রকৃত পক্ষে তোমরা একেবারেই সীমা লংঘনকারী গোষ্ঠী। ”(সুরা ফুরকান ঃ ৮০-৮১)

সাবা জাতি আরেক সমৃদ্ধশালী জাতি। আল্লাহতা’আলাতাদের সামনে জীবনোপকণেরদ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং পয়গাম্বরদের মাধ্যমে এ সব নিয়ামাতের শুকরিয়া আদায় করার আদেশ দান করেছিলেন। কিন্তু ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে তারা আল্লাহকে অস্বীকার করে। ফলে আল্লাহ‘সাইলুলআরিম’ বাঁধভাঙ্গা বন্যার মাধ্যমে সাবা এলাকা ধ্বংসকরে দেন। যে এলাকা একসময় জান্নাত সদৃশ ছিল তা আগাছা ও জংগলে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আল্লাহ তা’আলা বলেন:-“সবার জন্য নিজেদের আবাসেই ছিল একটি নিদর্শন।

দুটি বাগান ডাউনে ও বামে। খাও তোমাদের রবের রিযিক থেকে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। স্বাস্থ্যকর শহর এবং ক্ষমাশীল পালনকর্তা। অতঃপর কিন্তু তারা মুখ ফিরালো। শেষ পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে পাঠালাম বাঁধভাঙ্গা বন্যা। এবং তাদের দুটি বাগানে জায়গায় অন্য দুটি বাগান দিয়েদিলাম যেখানে ছিল তিক্ত ও বিস্বাদ ফল ও ঝাউগাছ ও সামান্য কিছু কুল। এ ছিল তাদের কুফুরীর প্রতি দান যা আমি তাদেরকে দিয়েছি এবং অকৃতজ্ঞ মানুষ ছাড়া অন্য কাউকে আমি এহেন প্রতিদান দেই না।”(সুরা সাবা ঃ ১৫-১৭

আল কুরআনে ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর মধ্যে আরো যাদের নাম উল্লেখ রয়েছে, তারা হলো, আহলে মাদইয়ান, সাবাজাতি, তুব্বাজাতি, বনী ইসরাঈল জাতি, আসহাবে উখদুদ, আসহাবুল কারিয়্যাহ, আসহাবুস সাবত, আসহাবুল রাস ও আসহাবে ফিল উল্লেখযোগ্য। তাদের প্রত্যেকের ধ্বংসেরকারণছিলআবাধ্যতা, সীমালংঘন, জঘন্যতম কাজে লিপ্ত হওয়া সহ মানুষের ওপর জুলুম করা এবং বিভিন্নভাবে নিজেদের ওপর ও জুলুম করা। আল কুরআনে এই জাতিরগুলে াইতিহাস উল্লেখ করে পৃথিবীবাসীকে সাবধান করা হয়েছে। উল্লেখিত ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমুহের ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন এবং এর আলোকে সঠিক কর্মপন্থা গ্রহণ করুন।

Posted ২:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.