বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটিতে মেয়র জোহরান মামদানির প্রস্তাবিত প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধির ঘোষণায় সিটির বাড়ি মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কুইন্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন বাড়ির মালিক জরুরি সমাবেশে অংশ নিয়ে এ প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সম্পত্তির ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের অভিযোগ, কর বৃদ্ধি করলে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ক্যামব্রিয়া হাইটস এলাকার বাড়ির মালিক ভিভিয়ান ক্যাম্পবেল বলেন, “এই বাড়িটি আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ। নব্বইয়ের দশকে কলেজ শেষ করার পর এটি কিনেছিলাম। এখন অবসরপ্রাপ্ত; নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভর করে চলি। সম্প্রতি নতুন বারান্দা ও ছাদ নির্মাণে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার ব্যয় করেছি। এ অবস্থায় কর বাড়ানো হলে তা আমাদের মতো মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে।” সমাবেশে উপস্থিত আরেক বাসিন্দা জেমস জনসন বলেন, “কুইন্সের মানুষ কোনো রাজনৈতিক দরকষাকষির অংশ হতে চান না। আমাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো উচিত নয়।”
পিয়েরি বেঞ্জামিন নামের এক বাড়ির মালিক বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণা ও বিতর্কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। এখন সময় এসেছে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের।” মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সিটির সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের জন্য গভর্নরের সম্মতি আদায় করা, যা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। অন্যটি হলো নগরীর সম্পত্তি করের হার সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা।
মেয়রের ভাষ্য, বিকল্প না থাকলে নগর কর্তৃপক্ষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাজস্ব উৎস ব্যবহার করতে হবে। তবে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সম্পত্তি কর বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গভর্নর এ বছর পুনর্র্নিবাচনের মুখোমুখি হওয়ায় ধনীদের ওপর কর আরোপের বিষয়ে তার অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতিতে কুইন্সের বাড়ির মালিকরা কর বৃদ্ধির প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিজেদের বাড়িঘর রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রঙ্কসে প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ
নিউইয়র্ক সিটির প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় প্রপার্টি ট্যাক্স প্রায় ৯.৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ব্রঙ্কসে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত মেয়র নির্বাচনে এই কমিউনিটির অনেকেই মামদানিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘোষণার পর তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের সদস্য ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এম এন মজুমদার ফেস্টুন হাতে নিয়ে বলেন, “কেউ না এলেও আমি একাই মামদানির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাবো। এটা অন্যায়। প্রতিবাদটা ব্রঙ্কস থেকেই শুরু হোক।”
প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল (বাক)। সংগঠনটি প্রস্তাবিত ট্যাক্স বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এম এন মজুমদার, এ ইসলাম মামুন, মো. আলাউদ্দীন, জামাল হোসেন, জামাল আহমেদ, জামাল চেয়ারম্যান ও জহিরুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, প্রপার্টি ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আরও চাপে পড়বে, বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এটি হবে বাড়তি বোঝা। বক্তারা মেয়রের কাছে ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং জনস্বার্থে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করেন, দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
Posted ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh