বাংলাদেশ অনলাইন : | শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : এএফপি
মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে সরকার অচল (শাটডাউন) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতাদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের সরকারি ব্যয় প্যাকেজ থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) অর্থায়ন বাতিলের দাবি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং মিনিয়াপোলিসে প্রাণঘাতী ঘটনার পর নতুন করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি। খবর বিবিসির।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ও সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে পাঁচটি ব্যয় বিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাস হতে পারে, তবে ডিএইচএস–সংক্রান্ত বিলটি স্বল্পমেয়াদি সময়ের জন্য বাড়ানো হবে। যাতে করে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে আরও আলোচনা করা যায়।
যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সরকার অচল হয়ে যাবে।
কেন এই বিল পাস হওয়া কঠিন?
এই ব্যয় বিলটি ইতোমধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে, তবে সিনেটে পাস হতে হলে ৬০টি ভোট প্রয়োজন। সেখানে রিপাবলিকানদের আছে মাত্র ৫৩টি আসন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের কিছু ভোট ছাড়া বিলটি পাস সম্ভব নয়।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেপ্তারের আগে অবশ্যই ওয়ারেন্ট নিতে হবে। তারা কীভাবে নিজেদের পরিচয় দেবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম থাকতে হবে। অভিযানের সময় মুখোশ ব্যবহারের মতো বিষয়েও বিধিনিষেধ দরকার।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, আইসিইকে নিয়ন্ত্রণে আনা ও সংস্কার না করা পর্যন্ত আমি তাদের অর্থায়ন করে এমন কোনো আইনে ভোট দেব না।
রিপাবলিকান সিনেট নেতা জন থুন জানিয়েছেন, ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে।
‘আংশিক শাটডাউন’ হলে কী হবে?
যদি সরকার অচল হয়, তাহলে পুরো ফেডারেল সরকার বন্ধ হবে না। অনেক সংস্থার অর্থায়ন আগেই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগ, এফবিআই ও ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ রয়েছে।
তবে ডিএইচএসের সঙ্গে একই ব্যয় বিলে থাকা কিছু বিভাগ—যেমন প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ট্রেজারি এবং ফেডারেল আদালত ব্যবস্থা—প্রভাবিত হতে পারে।
এর ফলে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, চিকিৎসা গবেষণা বন্ধ হওয়া বা শ্রম পরিসংখ্যান প্রকাশে দেরি হতে পারে। এছাড়া কর বিভাগ (আইআরএস) ক্ষতিগ্রস্ত হলে ট্যাক্স রিফান্ড প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হতে পারে।
ডিএইচএসের আওতায় রয়েছে আইসিই, কোস্ট গার্ড, সিক্রেট সার্ভিস ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন। জরুরি কর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও, অর্থায়ন ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা বেতন পাবেন না।
আগের শাটডাউনের অভিজ্ঞতা
২০২৫ সালের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সরকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, যা টানা ৪৩ দিন স্থায়ী ছিল। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন। তখন প্রায় ১৪ লাখ ফেডারেল কর্মী হয় বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন, নয়তো ছুটিতে পাঠানো হয়।
সে সময় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমও অনিশ্চয়তায় পড়ে এবং সারা দেশে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮১ সালের পর থেকে মোট ১৬ বার সরকার শাটডাউনের মুখে পড়েছে, যদিও অনেকগুলোই ছিল স্বল্পমেয়াদি।
Posted ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh