বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী ইমিগ্রান্টদের সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রেজিষ্ট্রেশন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছিল, আদালত তাতে সম্মতি দিয়ে রায় দিয়েছে যে অবৈধদের রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। তা না হলে তারা ভবিষ্যতে বৈধতা লাভের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে না।
অবৈধভাবে বসবাসকারী ইমিগ্রান্টদের রেজিস্ট্রেশনের আবশ্যকতা সম্পর্কে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে আদেশ জারি করার পর ইমিগ্রেশন অধিকার প্রবক্তাদের পক্ষ থেকে এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত প্রশাসনের আদেশকে বহাল রাখে। আদালত এই মর্মে আরো নির্দেশ দান করে যে, যেসব অবৈধ ইমিগ্রান্ট রেজিষ্ট্রেশন করবেন, তাদেরকে রেজিষ্ট্রেশনের প্রমাণপত্র বহন করতে হবে। তা না হলে তাদেরকে এর খেসারত দিতে হতে পারে।
গত শুক্রবার থেকে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে। ওয়াশিংটনের ফেডারেল বিচারক ট্রেভর নীল ম্যাকফ্যাডেনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ দান করেছিলেন।
বিচারক ট্রেভর বলেন যে, ইমিগ্রেশন আইন বাস্তবায়নে নিয়োজিতরা আমেরিকান নাগরিক নয় এমন বিদেশি, যারা যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আদেশ কার্যকর করছিলেন। আদালতের রায়ে এখন প্রশাসনের জন্য তা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের এ রায়ের পর ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে আদালতের আদেশ পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম এক বিবৃতিতে বলেছেন, যারা আমাদের দেশে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমার সুস্পষ্ট বার্তা হচ্ছে: ‘আপনারা এখনই চলে যান। আপনারা যদি আমাদের দেশ থেকে এখন চলে যান তাহলে ভবিষ্যতে আপনার এদেশে ফিরে আসার সুযোগ পেতে পারেন এবং আমাদের স্বাধীনতা উপভোগ এবং আপনাদের আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন বিদ্যমান সকল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করবে এবং এক্ষেত্রে আমরা কোনো বাছবিচার করবো না যে কোন আইন প্রয়োগ করা হবে এবং কোনটি করা হবে না।
আমরা আমাদের দেশের ও সকল আমেরিকানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কে আমাদের জন্য উত্তম ভূমিকা রাখতে পারে, তা বিবেচনায় রাখবো।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব যে সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য, তা উপলব্ধি করা কঠিন নয়। ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ ইমিগ্রান্টদের গণ-বহিস্কার করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার আওতায় ২২ লাখ থেকে ৩২ লাখ অবৈধ ইমিগ্রান্ট ডিপোর্টেড বা বহিস্কৃত হতে পারে। ইমিগ্রেশন অধিকার প্রবক্তাদের একটি সংগঠন ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল’ সেন্টারের পক্ষ থেকে গত ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আদালতের রায়কে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। করেছে।
সেন্টারটির ডেপুটি লিগ্যাল ডাইরেক্টর নিকোলাস এসপিরিতু বলেছেন যে, দুর্ভাগ্যক্রমে এই হতাশাজনক রায়ের অর্থ হচ্ছে, ট্রাম্প তার অসম্ভব একটি ইচ্ছাকে কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, যারা ট্রাম্পের এই আদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছেন সেইসব কমিউনিটি সদস্যদের প্রতি আমাদের আহবান থাকবে, তারা যাতে অবিলম্বে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রেজিষ্ট্রেশনের কী পরিণতি হতে পাবে বা সম্ভাব্য ভালো দিক থাকতে পারে, তা উত্তমরূপে অনুধাবন করেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত সকলকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। যারা স্বেচ্ছায় তা করবেন না, তারা জরিমানা অথবা মামলার মুখোমুখি হতে পারেন। রেজিষ্ট্রেশন করতে ব্যর্থতা অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে এবং তাদেরকে কারাদণ্ড ভোগ করতেও হতে পারে। অবৈধ ইমিগ্রান্টদের ১৪ বছর তদুর্ধ বয়সী প্রত্যেকের জন্য রেজিষ্ট্রেশণ বাধ্যতামূলক। ১৪ বছরের কম বয়সীদের মা-বাবা বা অভিভাবককে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ রেজিস্ট্রেশন কানাডিয়ান নাগরিকদের ক্ষেত্রে এবং যারা শীত মওসুমে ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ স্থানে কাটানো পছন্দ করেন তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিনেরও বেশি সময় যাবত অবস্থান করছেন।
ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন অনুুযায়ী যারা আমেরিকান নাগরিক নন এবং দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাস তাদেরকে সরকারের রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।
এই আইন ১৯৪০ সাল থেকে কার্যকর, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে ইমিগ্রান্ট ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছিল। রেজিষ্ট্রেশনের বর্তমান প্রয়োজনীয়তা ১৯৫২ সালের ইমিগ্রেশন এবং ন্যাশনালিটি আইন থেকে উদ্ভূত।
রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা জরুরী পরিস্থিতিতে কার্যকর করা হয়েছে। মামলা দায়েরকারীদের পক্ষের অ্যাটর্নিরা আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরোধিতা করে বলেন, অবৈধ ইমিগ্রান্টদের রেজিষ্ট্রেশন বিষয়ক আইন চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি চালু হলেও তা কখনো সর্বজনীনভাবে ব্যবহার করা হয়নি। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর আইনটি সীমিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এন্ট্রি-এক্সিট রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ২৫টি দেশের ১৬ বছর বা তদুর্ধ বয়সী পুরুষতে ননসিটিজেন পুরুষদের রেজিষ্ট্রেশনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছিল। তখন ১৩,০০০ এর বেশি বিদেশিকে ডিপোর্ট করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কিন্তু ২০১১ সালের এ আইনের প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয় এবং ২০১৬ সালে আইনটি বাতিল করা হয়।
কেউ যদি অবৈধভাবে অবস্থান করতে থাকেন তাহলে তাদের কঠোর জরিমানা ও হেনস্তার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। যারমধ্যে থাকবে— কোনো সুযোগ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। কাউকে যদি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু তিনি যদি না ছাড়েন তাহলে যতদিন থাকবেন ততদিনের জন্য দৈনিক ৯৯৮ ডলার করে জরিমান দিতে হবে।
এছাড়া কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। সর্বশেষ সতর্কতায় বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসী যাদের ফেরত পাঠানো হবে তারা আর কখনোই বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।
স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে ইমিগ্রান্টদের বিমান ভাড়া দেয়া হবে
স্বেচ্ছায় যেসব অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে যাবেন তাদের নগদ অর্থ ও একমুখী বিমানের টিকিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এছাড়া স্বেচ্ছায় যারা ফিরে যাবেন তাদের মধ্যে যারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন তাদের আবারও বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফক্স নোটিশিয়ালস ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। এতে অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠানোর একটি প্রোগ্রামের চালু করার ব্যাপারে তথ্য জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই প্রোগ্রামের আওতায় আমরা তাদের ভাতা দেব। আমরা তাদের কিছু অর্থ এবং বিমানের একটি টিকিট দেব। এরপর আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করব— যদি তারা ভালো হয়— যদি আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে তাদের দ্রুত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করবো।
গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগেই তিনি বলেছিলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোকে প্রাধান্য দেবেন তিনি। তিনি ক্ষমতা নেওয়ার পর অনেক অভিবাসীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়।
বিশেষ করে ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর অবৈধ অভিবাসীদের হাত-পা শিকলে বেঁধে ফেরত পাঠানোর ঘটনা ঘটে। এছাড়া কয়েকদিন আগে বেশ কয়েকজন অভিবাসীকে এল সালভাদরের কুখ্যাত কারাগারে পাঠানো হয়। এখন তিনি শক্ত অবস্থান থেকে কিছুটা নমনীয় হয়ে বলছেন, যেসব অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে চলে যেতে চায় তাদের আর্থিক সহায়তা করে ফেরত পাঠানো হবে।
Posted ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh