বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে গত সোমবার থেকে। এর ফলে যাত্রী ভোগান্তি ও নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এ নজীরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সরকারি অচলাবস্থা এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মী সংকট মোকাবিলাতেই এই পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে সোমবারের মধ্যেই আইসিই এজেন্টদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন: “আমি সোমবার আইসিই-কে সেখানে সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছি এবং তাদের ইতিমধ্যেই বলেছি, ‘প্রস্তুত থাকো।’ আর কোনো অপেক্ষা নয়, আর কোনো খেলা নয়!” হোয়াইট হাউসের বর্ডার জার টম হোমান একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, আইসিই-র উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের প্রস্থান পয়েন্টগুলোর দায়িত্ব নেবেন। এতে টিএসএ কর্মীরা কেবল সিকিউরিটি স্ক্রিনিংয়ের কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ পাবেন, যা দীর্ঘ লাইন কমাতে সাহায্য করবে।
কেন এই সংকট? : গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তহবিল বন্ধ থাকায় টিএসএ কর্মীরা বিনা বেতনে কাজ করছেন। ১৭০ দিনের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময় বেতনহীন থাকায় কয়েকশ কর্মী পদত্যাগ করেছেন এবং অনেকে কাজে যোগ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফি সতর্ক করেছেন যে, শুক্রবারের মধ্যে আরও কর্মী চলে গেলে আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নিউ ইয়র্কে ‘সিকিউরিটি লাইন হেল’ : বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটির জেএফকে এবং লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সামাজিক মাধ্যমে যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। নিরাপত্তা জোনে পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘সিকিউরিটি লাইন হেল’ বা নরক যন্ত্রণা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নিরাপত্তা নাকি অভিবাসন তল্লাশি? : আইসিই এজেন্ট মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিয়াটল-টাকোমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এজেন্টরা কি শুধু ভিড় সামলাবেন নাকি কোনো গোপন অভিবাসন তল্লাশি চালাবেন? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিমানবন্দরে তারা ‘অবৈধ অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার’-এর ওপরও জোর দিতে পারেন।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা : এদিকে কংগ্রেসে ডিএইচএস-এর তহবিল নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড ও আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো যৌথভাবে দ্রুত সমাধানের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
Posted ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh