বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ছে

বাংলাদেশ ডেস্ক :   |   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ছে

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক হামলার ঘটনাটিকে ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে ধরে অনুসন্ধান করছে পুলিশ। এটি এমন সময়ে ঘটলো যখন দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইসলামোফোবিক বা ইসলামভীতি সংক্রান্ত ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয় সময় সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) বলছে, গত বছর তারা ‘মুসলিম তাই বৈষম্যের শিকার’ হওয়ার ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ পেয়েছে। ১৯৯৬ সালে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংস্থাটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের বৈষম্যের অভিযোগের সংখ্যা বেড়েছে। ইসলামিক সেন্টারের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীর সুইসাইড নোট পেয়েছে সান ডিয়েগো পুলিশ।

এর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ওই চিরকুটে মসজিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির কথা উল্লেখ নেই। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, চিরকুটে ‘রেসিয়াল প্রাইড’ সংক্রান্ত লেখা আছে। রেসিয়াল প্রাইড বলতে সাধারণত জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বকে বোঝানো হয়। সোমবারের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সিএআইআর। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির সান ডিয়েগো শাখার নির্বাহী পরিচালক তাজিন নিজাম আহ্বান জানান, প্রার্থনায় অংশ নেওয়া বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় কাউকে যেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে না হয়। নিজেদের ওয়েবসাইটে ইসলামিক সেন্টারটিকে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনার পর একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তারা হামলার পর আত্মহত্যা করেছেন। সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এটিকে একটি হেট ক্রাইম হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। চরম উগ্র ও বিদ্বেষমূলক কথাবার্তার সঙ্গে ঘটনাটির নিশ্চিতভাবেই যোগসূত্র আছে।’ সিএনএন ও এএফপি

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৫

ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় স্যান ডিয়েগো সিটির এক ইসলামিক সেন্টারে বন্দুকধারীদের হামলায় সন্দেহভাজনসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের দুজন সন্দেহভাজন কিশোর। হামলার এক পর্যায়ে তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। জানা গেছে, গত সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্যান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকার ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে তিনটি মৃতদেহ পড়ে ছিল, যাদের একজন ওই মসজিদের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত তিনজনের মধ্যে একজন মসজিদে কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা রক্ষী আমিন আবদুল্লাহ, অপরজন মনসুর কাজিহা, যিনি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত মসজিদের স্টোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অপর ব্যক্তির নাম ইসলামিক সেন্টারের কর্মী নাদের আওয়াদ, যিনি কমিউনিটি সদস্যদের বাঁচাতে নিজে গুলির মুখে পড়েন। স্যান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট জানান, যে দুই সন্দেহভাজনের মৃতদেহ একটি গাড়িতে পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী কিশোরের নাম কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সীর নাম সেলেব ভ্যাকুয়েজ। তারা দুজনই স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা। সন্দেহভাজনদের একজন ইসলঅমিক সেন্টা থেকে মাইলখানেক দূরে অবস্থিত ম্যাডিসন স্কুলের ছঅত্র বলে পুলিশ জানিয়েছে। গুলির ঘটনার আগে ক্লার্ক এর মা পুলিশকে জানিয়েছিল যে তার পুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল বলেন, হামলার পর সন্দেহভাজন দুই তরুণ একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। পরে অল্প দূরে একটি গাড়ির ভেতর তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের বয়স ১৭ ও ১৯ বছর। পুলিশের ধারণা, তারা নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ আরও জানায়, ইসলামিক সেন্টার থেকে বের হওয়ার পর ওই দুইজন কাছাকাছি এলাকায় কাজ করা এক ল্যান্ডস্কেপ কর্মীর দিকেও গুলি চালায়। তবে তিনি অক্ষত ছিলেন। ঘটনাটি বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যুক্ত হয়েছে এফবিআই। পুলিশ প্রধান বলেন,এটি প্রতিটি কমিউনিটির সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। তিনি আরও জানান, ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের সব শিশুই নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, গুলিতে নিহত ৩ জনের একজন ছিলেন ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী। পরিস্থিতির ভয়াবহ পরিণতি ঠেকাতে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করেছেন। ওয়াহল জানান, তদন্তকারীরা এখন ঘটনাটির পেছনের কারণ ও পুরো পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।

সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ প্রথমে ইসলামিক সেন্টারে সক্রিয় বন্দুকধারীর উপস্থিতির কথা জানায়। পরে তারা বলে, পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’ মসজিদের ইমাম ত্বহা হাসান বলেন, ইসলামিক সেন্টারটি এমন একটি জায়গা, যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম সবাই একত্রিত হয়ে নামাজ, শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমাদের ইসলামিক সেন্টার একটি উপাসনালয়।’ সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘এ সিটিতে ঘৃণা-বিদ্বেষের স্থান নেই।’ তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থনা আপনাদের সঙ্গে আছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, যাতে আপনারা এ সিটিতে নিরাপদ অনুভব করতে পারেন, সে জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা সব করব।

এই স্পর্শকাতর সময়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সম্পদের ঘাটতি রাখা হবে না। হামলাকারীদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ছে এবং বহু রাজনীতিক ও ভাষ্যকার নিয়মিত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের দপ্তর জানিয়েছে, তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছেন। তাঁর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঘটনাস্থলে কাজ করা উদ্ধারকর্মীদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সবাইকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হামলার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে। মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা এবং সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় বার্ষিক হজযাত্রার ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই হামলার ঘটনা ঘটলো।

মসজিদে কী ঘটেছিল? : গত ১৮ মে সোমবার সকাল প্রায় পোনে ১০টার দিকে পুলিশ এক মায়ের কাছ থেকে ফোন পায়, যিনি তার নিখোঁজ অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সম্পর্কে জানান। স্কট ওহল বলেন, তিনি আমাদের যে তথ্য দিচ্ছিলেন, তাতে পরিস্থিতির ঝুঁকির মাত্রা বাড়তে থাকে। তিনি বিশ্বাস করছিলেন তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ, এবং তিনি আরও জানান যে তার কয়েকটি অস্ত্র, গাড়িয়ে নিয়ে ছেলে নিখোঁজ। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে পুলিশ এক সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পেয়ে একস্ট্রম অ্যাভিনিউয়ের ৭০০০ নম্বর ব্লকে পৌঁছায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার মিনিটের মধ্যেই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ওহল বলেন, মসজিদে গুলির খবর পাওয়ার পর প্রায় ১০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ইসলামিক সেন্টার ফর সান ডিয়েগোতে প্রবেশ করেন। কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছে ভবনের বাইরে তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

এরপর পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে সক্রিয় বন্দুকধারী পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিযান শুরু হয়। ওহল বলেন, ভবনের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করতে দরজা ভাঙতে হয়েছে। সেখানে ৫০ থেকে ১০০ জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অস্ত্র ব্যবহার করেননি। পুলিশ এলাকা নিরাপদ করার সময় কয়েক ব্লক দূরে আবার গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে এক ল্যান্ডস্কেপ কর্মীর দিকে গুলি চালানো হলেও তিনি আহত হননি বলে ওহল জানান। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের একটি গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। টেলিভিশনের আকাশপথের ফুটেজে দেখা যায়, এক ডজনের বেশি শিশু হাত ধরে মসজিদের পার্কিং এলাকা থেকে বেরিয়ে আসছে, চারপাশে পুলিশি যানবাহন মোতায়েন ছিল। ওহল বলেন, আমাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়েছে বাচ্চাদের দৌড়ে বেরিয়ে আসা—শুধু বেঁচে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ভিন্ন কোনো প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি হেট ক্রাইম হিসেবেই তদন্ত করা হবে।

হামলার স্থান কোথায়? : মসজিদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ, যেখানে ৫ হাজারের বেশি মুসল্লি নিয়মিত আসেন। কমপ্লেক্সটিতে আল-রশিদ স্কুলও রয়েছে, যেখানে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ ও কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য সান ডিয়েগোর মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণ করা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও শিক্ষা দেওয়া। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার খুতবা, শিক্ষামূলক আলোচনা ও কমিউনিটি সেমিনার আয়োজন করা হয় এবং সব ধর্মের মানুষকে স্বাগত জানানো হয়। হামলার পরপরই ইসলামিক সেন্টারের ইমাম তাহা হাসানে এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য। মানুষ এখানে নামাজ পড়তে, উদযাপন করতে, শিখতে আসে—শুধু মুসলমান নয়, সব শ্রেণির মানুষই আসে। মসজিদটি সান ডিয়েগোর কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

হামলাকারীদের সম্পর্কে কী জানা গেছে? : গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া দুই সন্দেহভাজন কিশোর ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওহল বলেন, তাদের বয়স ১৭ ও ১৯ বছর। তাদের সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। দিনের শুরুতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগকারী মা তদন্তকারীদের বলেন, দুইজনই ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক পরেছিল এবং তারা একটি নিখোঁজ ঘোষিত গাড়িতে একসঙ্গে চলাচল করছিল। ওহল বলেন, আমরা আরও জানতে পেরেছি, তাদের একজন কোনো না কোনোভাবে ম্যাডিসন হাই স্কুলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তদন্ত চলাকালে স্কুলটিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। মা একটি নোটও খুঁজে পেয়েছিলেন বলে জানান ওহল। তবে তিনি এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, এতে অবশ্যই বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই কিশোর তিনজনকে হত্যা করে, যাদের মধ্যে মসজিদের এক নিরাপত্তাকর্মীও ছিলেন। পরে তারা আত্মহত্যা করে।

ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে কী জানা গেছে? : নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন কেন্দ্রটির নিরাপত্তাকর্মী, যিনি হামলাকে আরও ভয়াবহ হওয়া থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওয়াহল বলেন, নিঃসন্দেহে তার কর্মকাণ্ড ছিল বীরত্বপূর্ণ। তিনি আজ অনেকের জীবন বাঁচিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখনও তিন নিহতের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে কমিউনিটি নেতারা নিরাপত্তাকর্মীর নাম আমিন আব্দুল্লাহ বলে শনাক্ত করেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি আট সন্তানের জনক ছিলেন।

প্রতিক্রিয়া: কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সিএআইআর-সান ডিয়েগোর নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম এক বিবৃতিতে বলেন, নামাজ বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে কারও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা উচিত নয়। জোহরান মামদানি বলেন, ইসলামবিদ্বেষ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয় ও বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোম বলেন, তিনি আজকের সহিংস হামলায় আতঙ্কিত এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষের পরিস্থিতি কেমন: আমেরিকান অধিকারকর্মীরা বহু বছর ধরে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। তারা এর পেছনে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি, তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ, অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী আন্দোলন এবং গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ঘিরে উত্তেজনাকে দায়ী করছেন।

সিএআইআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তারা ৮ হাজার ৬৮৩টি মুসলিমবিরোধী ও আরববিরোধী অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে, যা ১৯৯৬ সালে তথ্য প্রকাশ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা মুসলিমরা ক্রমেই সরকারি নীতি, রাজনৈতিক বক্তব্য ও জনসন্দেহের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। এদিকে এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে রিপাবলিকান রাজনীতিকদের মধ্যে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অধিকারকর্মীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে হুমকি ও হামলার ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

Posted ১২:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.