বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ডাক্তারের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ৩৯টি দেশের ইমিগ্রান্ট ডাক্তারদের চাকুরিচ্যুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী নিউইয়র্কের একটি প্রশিক্ষণ হাসপাতালে ডাক্তার হাঁটু ও নিতম্ব প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করতে এমন একজন নাইজেরীয় সার্জন, টেক্সাসের গ্রামাঞ্চলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত একজন ভেনিজুয়েলান ডাক্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী একজন ইরানি বংশোদ্ভুত চক্ষু বিশেষজ্ঞ, যিনি আরকানসাসে চোখের অস্ত্রোপচার করতেন, তারা আর তাদের কাজে ফিরে যেতে পারবেন না বা তাদের রোগীদের আর সেবা দিতে পারবেন না।
গত জানুয়ারি মাসে কার্যকর ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতির অংশ হিসেবে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি যাদের কাছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ট্রাভেল ডকুমেন্ট রয়েছে তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বন্ধ করা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বন্ধ রাখা হয়ে এবং যাদের গ্রিনকার্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয়েছে। উল্লিখিত তিন ডাক্তারকে চাকুরিচ্যুত করার কারণে তারা বাধ্য হয়েছে রোগী দেখা বন্ধ করতে। ইমিগ্রান্ট ডাক্তারদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বর মাসে, যা জানুয়ারিতে কার্যকর করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ইতঃমধ্যে অনুভূত হচ্ছে।
কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ হাজার ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া খুব কমসংখ্যক ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য গ্রামাঞ্চলে যেতে চান। ফলে আমেরিকান গ্রামীণ কমিউনিটি এবং বিশেষ করে ওইসব কমিউনিটি বয়স্ক সদস্যরা দীর্ঘকাল যাবত জটিল শারীরিক সমস্যায় কাটাচ্ছে। ট্রাম্পের ইমিগ্রান্ট বিরোধী অভিযানের গত বছরের জানুয়ারি মাসে জারিকৃত নির্বাহী আদেশের আওতায় প্রশাসন বহু ধরনের পদক্ষেপের মধ্যে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের আটক ও বহিস্কার করা অব্যাহত রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশের সুযোগ হ্রাস করেছে এবং ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই কঠোর করা হয়েছে। নথিভুক্ত ব্যক্তিদের আটক করেছে, শরণার্থীদের ভর্তি কমিয়েছে এবং ভিসা যাচাই-বাছাই কঠোর করেছে, অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে বিদেশি ডাক্তারদের চাকুরিতে নিয়োগ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনি প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যান্ড্রু উইজনার। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, এটি বিশেষ শ্রেনির ইমিগ্রান্টদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের একটি অভিযান, যেখানে বিশেষ শ্রেনির ইমিগ্রান্টদের কথা বিবেচনায় রাখা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ডাক্তারের প্রয়োজনীয়তার ওপর দৃষ্টি দেওয়া হয়নি, যাদের প্রয়োজন জরুরী। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এক বিবৃতিতে বলেছে যে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো’ থেকে আগত ইমিগ্রান্টদের আবেদনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাদের সম্পর্কে যাচাই ও পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য। অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকান মেডিকেল কলেজের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৬৫,০০০ ডাক্তারের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি আগামী দশকগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে আমেরিকানদের আয়ু দীর্ঘতর হওয়া এবং অধিক সংখ্যক ডাক্তার অবসর গ্রহণের কারণে।
দুই ক্যাটাগরির ৩৯ দেশ : চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি কার্যকর হবে হয়েছে। যে দেশগুলোর চিকিৎসা পেশাজীবীদের ওপর এর প্রভাব পড়বে সেসব দেশের চিকিৎসা পেশাজীবীরা নতুন করে আমেরিকান ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হবেন এবং যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন, তাদের বেশিরভাগ চাকুরিচ্যুত হতে পারেন। এ নিষেধাজ্ঞা দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগে আছে ওইসব দেশ, যে দেশগুলোর ওপর আমেরিকান সাময়িক নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা ও ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দেশগুলো হচ্ছে: আফগানিস্তান, বার্মা, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, লাওস ও সিয়েরা লিওন সরকারের ইস্যুকৃত ট্রাভেল ডকুমেন্টধারী ব্যক্তিবর্গ।
দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে ওইসব দেশ, যাদের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে। কিন্তু ওই দেশগুলোর অনেক চিকিৎসা পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ক পারমিট এবং ফ্যামিলি-বেজড ইমিগ্রান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। এগুলো হচ্ছে: বুরুন্ডি, কিউবা, টোগো, ভেনিজুয়েলা, তুর্কমেনিস্তান (তুর্কমেনিস্তানের নিষেধাজ্ঞা অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য), অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, বেনিন, কোট ডি আইভরি (আইভরি কোস্ট), ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, মালাবি, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে।
Posted ১২:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh