বাংলাদেশ অনলাইন : | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার পর্যন্ত ট্রাম্প এই মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনগত রাতে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রণক্ষেত্রের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক চাপের কারণেই ট্রাম্প এই নমনীয়তা দেখিয়েছেন। খবর : আলজাজিরার।
কূটনৈতিক চাপ ও পাকিস্তানের অনুরোধ
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধের কথা উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা যাতে ভেস্তে না যায়, সেজন্য পাকিস্তানকে আরও কিছুটা সময় দিতে চায় ওয়াশিংটন। এছাড়া ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানের ‘খণ্ডিত’ নেতৃত্বকে একটি সুসংহত প্রস্তাব তৈরির সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তন
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আশা করেছিল, ইরান তাদের দেওয়া সব শর্ত—যেমন পরমাণু কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া—বিনা শর্তে মেনে নেবে। কিন্তু ইরানের অনড় অবস্থানের কারণে ট্রাম্প এখন একটি ‘ইউনিফাইড প্রপোজাল’ বা ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাবের অপেক্ষা করছেন। এটি মার্কিন অবস্থানে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেখানে তারা সরাসরি চাপ দেওয়ার বদলে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পথ বেছে নিয়েছে।
সামরিক সতর্কবার্তা ও জেডি ভ্যান্সের সফর
যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গত দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হয়েছে। যা তেহরানের জন্য পরোক্ষ হুঁশিয়ারি। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না আসায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পূর্বনির্ধারিত ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাব পর্যালোচনার পরই পরবর্তী সশরীরে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অবরোধ ও অনিশ্চয়তা
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকছে। ট্রাম্পের মতে, এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। যা তাদের সমঝোতায় আসতে বাধ্য করবে। তবে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
Posted ৯:১১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh