জাফর আহমাদ : | বৃহস্পতিবার, ০৫ জুন ২০২৫
হজ্জ ইসলামের ঐতিহাসিক ও অবিস্বরণীয় একটি গুরুত্বপূর্ণস্তম্ভ। হজ্বের প্রতিটি হুকুম পালন কালে অবশ্যই এর ঐতিহাসিক চেতনাকে সামনে নিয়ে পালন করতে হবে। অন্যথায় হজ্ব অনুষ্ঠান স্্েরফ একটি অনুষ্ঠানই থেকে যাবে। হজ্জের প্রায় সব ক’টি অনুষ্ঠানের পিছনে মুসলিম মিল্লাতের অবিসংবাদিত নেতা ও পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর ধৈর্যশীলা মহিয়ষী সহর্ধমিনী বিবি হাজেরাসহ তাঁদের সংগ্রামমুখর জীবনের একান্ত সহযোগী তাঁরই সুযোগ্য পুত্র হযরত ইসমাইল আঃ এবং তাঁদের সম্মিলিত দো’আর ফসল শেষ নবী মানবতার মহান বন্ধু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ত্যাগ ও কোরবানীর ইতিহাস বিজড়িত। যারা আল্লাহর মেহমান হয়ে আল্লাহর ঘরের কাছে যাবেন তারা হৃদয়ের কান পেতে শুনবেন, সেখানকার আকাশ-বাতাসে শিরকের মুলোৎপাটনকারী এ দু’জন সংগ্রামী মানুষের দু’আ আজো গুঞ্জরিত হচ্ছে। মক্কা-মদীনার অলি-গলি, মাঠ-ঘাট ও ধূ ধূ মরুভূমির প্রতিটি অনু-পরমানুতে এবং হজ্জের সমগ্র পরিবেশে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংগ্রামমুখর জীবনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। হৃদয়ের চক্ষু দিয়ে দেখবেন মক্কা, মদীনা ও তায়েফের রাস্তায় এখনো মানবতার দরদী নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লাল রক্তের কাঁচা দাগ যেন এখনো শুকায়নি। তপ্ত বালিকায় রাসুলের প্রিয় সাথী হযরত বেলালের (রাঃ) পোড়া গোশতের দাগ যেনো লেগে আছে। মদীনার মাকবারাতুল বাকিতে দেখবেন শিরক উচ্ছেদে শত শত সাহাবায়ে কেরামের শাহাদাতের নযরানার উজ্জল নিদর্শন। উহুদের প্রান্তরকে এখনো কাঁপিয়ে তুলে হক-বাতিলের দ্ধন্ধে শাহাদাত বরণকারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতি প্রিয়জন ও সম্মানিত চাচাজান বীর সেনানী সাউয়েদুনা আমির হামজা (রাঃ)। মিনায় কুরবানীর প্রাক্কালে চোখের সামনে নিয়ে আসবেন, শিরকের মুলোৎপাটনকারী পিতা ও পুত্র তথা হযরত ইবরাহিম (আঃ) ও পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) এর ত্যাগ ও আল্লাহর আনুগত্যের বাস্তব নমুনার ইতিহাস।
আল্লাহর ঘরের মেহমান সম্মানিত হজ্বযাত্রী ভাই-বোনেরা! হজ্জের প্রতিটি অনুষ্ঠানের পেছনে এর ঐতিহাসিক ঘপনাকে স্মরণ করবেন। বিশেষত: কুরবানীর প্রাক্কালে হযরত ইবরাহিম আ: এর কুরবানীর ইতিহাসসহ তাঁর গোটা জীবনকে নিজেদের মধ্যে মন্থর করবেন। তাঁর জীবনে চুড়ান্ত বা বড় কুরবানীর আগে আরো কিছু কুরবানী দিয়েছিলেন, সেগুলো আপনারও চেষ্টা করবেন। তাঁর কুরবানী ছিল নিম্নরূপ:
প্রথম কুরবানী:
প্রথমত সকল প্রকার মিথ্যা প্রভু তথা তাগুত থেকে মুখ ফিরিয়ে এক ও লা-শরিক আল্লাহর কাছে নিশর্ত আত্মসমর্থন করতে হবে বা পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হতে হবে। অর্থাৎ সকল প্রকার মিথ্যা প্রভুর তথা শিরকের গলায় ছুরি চালিয়ে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। হযরত ইবরাহিম (আঃ) সে কাজটিই আগে করেছিলেন। তিনি যে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, সেটি ছিল পুরোহিত পরিবার, যে পরিবার নক্ষত্র পুজার দেশবাসীর নেতৃত্ব দিতো। যে পরিবেশে তিনি বেড়ে উঠেন সে সমাজটি ছিল আপাদামস্তক শিরক ও মূর্তি পুজায় নিমজ্জিত। প্রথমত: তিনি নিজ জাতি ও পরিবারের গড্ডালিকা প্রবাহে গা এলিয়ে দেননি দ্বিতীয়তঃ পৈতৃক মন্দিরের পৌরহিত্যের মহাসম্মানিত যে গদিটি তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল, যেখানে বসলে তিনি অনায়াসেই জাতির নেতা বনে যেতেন। চারদিক থেকে নযর-নিয়ায এসে জড় হত এবং জনগণ ভক্তি -শ্রদ্ধা ভরে মাথা নত ও হাত জোড় করে বসত। সাধারণ মানুষ হতে বাদশাহ পর্যন্ত সকলকে আজ্ঞানুবর্তী গোলাম বানিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি এ বিরাট স্বার্থের উপর পদাঘাত করে সত্যের জন্য দুনিয়া জোড়া বিপদের গর্ভে ঝাপিয়ে পড়লেন। তিনি নিজ জাতি ও পরিবারকে উদাত্ত কন্ঠে জানিয়ে দিলেনঃ “তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক বলে মনে কর তাদের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নাই।” তিনি আরো বললেন ”আমি সব দিক হতে মুখ ফিরিয়ে বিশেষভাবে কেবল সেই মহান সত্তাকেই ইবাদাত-বন্দেগীর জন্য নির্র্দিষ্ট করলাম, যিনি সমস্ত আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল নহি।” এ পুর্ণাঙ্গ মানুষটি যৌবনের শুরুতেই যখন আল্লাহকে চিনতে পারলেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে বললেনঃ ”ইসলাম গ্রহণ কর-স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন কর, আমার দাসত্ব স্বীকার কর। তিনি উত্তরে পরিস্কার ভাষায় বললেন: আমি ইসলাম কবুল করলাম, আমি সারা জাহানের প্রভুর উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করলাম, নিজেকে তার নিকট সোপর্দ করলাম।
দ্বিতীয় কুরবানী:
দ্বিতীয় কুরবানী হলো দেশ ও জাতিকে অসংখ্য রবের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ জন্য কায়েমী স্বার্থবাদীসহ দুনিয়া জোড়া তাবত তাগুতী শক্তি কমর বেঁধে বিরোধীতায় নেমে যাবে। তখন আল্লাহতে পূর্ণ আস্থা রেখে এর মোকাবেলা করতে হবে। হযরত ইবরাহিম (আঃ) যে পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থায় আগমন করেছিলেন শিরকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এমনকি রাষ্ট্র শক্তি পরিপূর্ণভাবে শিরকের পৃষ্ঠপোষকতা করতো। তিনি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি আরো জানতেন যে তাওহীদের সন্ধান পেয়েছেন তা তারা কখনো মেনে নেবে না। বরং এ জন্য তাঁকে কঠিণ নির্যাতন ও শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে। তবু তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে উঠে দাঁড়ালেন। রাত-দিন তিনি কেবল একটি চিন্তা করতে থাকলেন, দুনিয়ার মানুষকে অসংখ্য রবের গোলামীর নাগপাশ হতে মুক্ত করে কিভাবে এক আল্লাহর বান্দায় পরিণত করা যায়। তিনি প্রথমে নিজের পিতাকে, নিজের খান্দানকে, নিজের জাতিকে, এমনকি রাজাকে পর্যন্ত শিরক থেকে বিরত থাকতে এবং তাওহীদের আকীদা কবুল করতে দাওয়াত দিলেন। এর ফলশ্রুতিতে তিনি একদিকে একা অপরদিকে গোটা দেশ ও জাতি তাঁর মোকাবেলায় এক সাড়িতে এসে দাড়ালো। কিন্ত এর পরও হতোদ্যম হননি, তার মুখ অবসন্ন হয়নি। তখন সিদ্ধান্ত হলো আগুনে পুড়িয়ে মারার। তাতেও তিনি বিরত হলেন না। বরং এ কাজের জন্য লেলিহান অগ্নিগর্ভে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে পছন্দ করলেন। এটা তাঁর দ্ধিতীয় কুরবাণী।
তৃতীয় কুরবানী:
আরাম-আয়েশের গলায় ছুরি চালাতে হবে। ইসলামের জন্য প্রয়োজনে নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করার মাসসিকতা থাকতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যুগে যুগে কালে কালে আল্লাহর প্রিয়জনেরা এ পথ অবলম্বন করার অসংখ্য নজির দেখতে পাওয়া যায়। মানবতার মহান বন্ধুকেও আমরা এ পথ অবলম্ভন করতে দেখেছি। হযরত ইবরাহিম (আঃ) আগুন থেকে বাঁচার পর এ দেশে থাকা তাঁর জন্য আর সম্ভব হলো না। তাওহীদের জন্য তিনি বহিস্কৃত জীবনই পছন্দ করলেন। তাওহীদের দাওয়াতের জন্য তিনি দেশের পর দেশ ঘুরতে থাকলেন। কিন্তু চারদিকে শিরক আর শিরকের অনুসারী থাকায় কোথাও তিনি ঠাই পেলেন না। তিনি সিরিয়া, ফিলিস্থিন, মিসর ও হিযাযে গিয়েছেন। মোট কথা আরাম আয়েশকে পিছনে ঠেলে দিয়ে গোটা জীবনই দেশ দেশান্তরে ঘুরতে হয়েছে।এ টি তাঁর তৃতীয় কুরবানী।
শেষ ও চুড়ান্ত কুরবানীঃ
দেশত্যাগ ও নির্বাসনের দুঃখ-কষ্ট ভোগ করার পর বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ তাকে সন্তান দান করলেন। তিনি তার জন্যও একই ধর্ম ও কর্তব্য ঠিক করলেন। সব কঠিন পরীক্ষায় পাশ করার পর চুড়ান্ত ও শেষ কঠিণ পরীক্ষা অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত হযরত ইবরাহিম আঃ সবকিছু অপেক্ষা রাব্বুল আলামীনকেই বেশী ভালবাসেন কিনা, তার ফয়সালা হতে পারত না। তাই বৃদ্ধ বয়সে একেবারে নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তার সন্তান লাভ হয়েছিল সে প্রিয় সন্তানকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করতে পারেন কি না তারই পরীক্ষা নেয়া হলো। পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন। তখন চুড়ান্তরূপে ঘোষনা করা হলো যে, এখন তুমি প্রকৃত মুসলিম হওয়ার দাবীকে সত্য বলে প্রমান করেছ। এক্ষণে তোমাকে সারা পৃথিবীর ইমাম বা নেতা বানানো যায়। আল কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে এ কথাই বলা হয়েছে:-“এবং যখন ইবরাহীমকে তার রব কয়েকটি ব্যাপারে পরীক্ষা করলেন এবং সে সব পরীক্ষায় ঠিকভাবে উত্তীর্ণ হলেন তখন তাকে জানিয়ে দেয়া হলো যে, আমি তোমাকে সমগ্র মানুষের ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করছি। তিনি বললেন, আমার বংশধরদের সম্পর্কে কি হুকুম ? আল্লাহ তায়ালা বললেন যালেমদের জন্য আমার ওয়াদা প্রযোজ্য নয় ।” সুরা বাকারা-১২৪
এ আলোচনা থেকে আমাদের চোখের সামনে একটি বিষয় বার বার ভেসে উঠতে দেখি, তা হলো “শিরক”। কুরবানী ও গোটা হজ্বে মুল প্রতিপাদ্য হলো ‘শিরক’ উচ্ছেদ। সুতরাং আসুন নিম্নলিখিত শিক্ষাগুলো প্রথমত নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করি, দ্বিতীয়তঃ দেশ ও জাতির চরিত্রকে শিরকমুক্ত করে তাওহীদের দিকে নিয়ে যাই।
শিরক উচ্ছেদ করা: শিরক একটি জুলুম। শিরকের গুনাহ আল্লাহ তা’আলা কখনো মাফ করবেন না। শিরক সমস্তনেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। এ শিরক বর্তমানে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে আমাদের সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করেছে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় এ শিরককে পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ শিরক মুক্ত জীবন ও সমাজ গঠণ করার জন্যই হযরত ইবরাহীম আঃ ও হযরত মুহাম্মদ সাঃ আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাছাড়া মহান আল্লাহর সম্মানিত মেহমান হিসাবে তালবিয়া পাঠে বলা হচ্ছে ”আমি উপস্থিত। আমি এসেছি, তোমার কোন শরীক নাই, আমি তোমারই নিকটে এসেছি। তুমি একক-কেহই তোমার শরীক নাই।” এ কথাটির দ্বারা আমাদের বাস্তব জীবনকে রূপায়ন করতে হবে।
দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে,পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করাঃ জন্মসূত্রে মুসলমান নয় বরং একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হতে হবে, সারা জাহানের প্রভুর উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে, নিজেকে তার নিকট সোপর্দ করতে হবে। জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজ কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু মাত্র পাচ ওয়াক্ত নামাযে আল্লাহকে প্রভু হিসাবে স্বীকার করা হলো কিন্তু জীবনের বিশাল অংশকে মানুষের তৈরী আদর্শের হাতে সোপর্দ করলে তিনি মুসলিম নন বরং একজন খাঁটিঁ মোনাফিক। প্রতি নামাযেই অসংখ্যবার বলা হচ্ছে: “আমরা তোমারই গোলামী করি আর তোমারই সাহায্য চাই”। অথচ নামাযের বাইরে তার বিপরীত কাজ করা হচ্ছে। এ এক মিথ্যাচার ছাড়া কি হতে পারে ? আর এ মিথ্যাচারকে বিশ্ব সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে বলা হয়, “হে প্রভু তোমার ডাকে আমি উপস্থিত। আমি এসেছি, তোমার কোন শরীক নাই,আমি তোমারই নিকটে এসেছি। সকল প্রশংসা একমাত্র তোমার জন্যে। সব নিয়ামত তোমারই দান, রাজত্ব আর প্রভুত্ব সবই তোমার। তুমি একক-কেউই তোমার শরীক নাই।” অথচ বাস্তবক্ষেত্রে তার বিপরীত কার্য পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি বা মুনাফেকী আচরণ আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিত্যাগ করতে হবে।
হজ্ব ও কুরবাণী চেতনার অনুধাবন করা:-হজ্জের অনুষ্ঠানগুলো ঐতিহাসিক চেতনাকে সামনে রেখে পালন করতে হবে। আর এ চেতনাকে হযরত ইবরাহীম আঃ ও হযরত ইসমাইল আঃ ন্যায় শিরক উচ্চেদে এবং মানুষকে অসংখ্য মিথ্যা রবের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার আপোষহীন সংগ্রামের কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং এ সংগ্রাম নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার বাধ্যতামূলক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই হজ্জ ও কুরবাণীর স্বার্থকতা ও সুফল পাওয়া যাবে।
Posted ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh