বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

শিষ্টাচার শিখতে হবে ও মানতে হবে

জাফর আহমাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫

শিষ্টাচার শিখতে হবে ও মানতে হবে

শিষ্টাচার মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য বিষয়। ব্যক্তি জীবনে হোক বা সামাজিক জীবনে হোক দেশে হোক বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটি পালন করতে হবে। শিষ্টাচার বিষয়টি ইসলাম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

শিষ্টাচার ছাড়া মানুষ মানুষ থাকে না, সমাজ সমাজ থাকে না ও রাষ্ট্র রাষ্ট্র থাকে না। এক মানুষ অন্য মানুষের সাথে শিষ্টাচারমূলক আচরণ করতে হবে। এক সমাজ অন্য সমাজের সাথে শুত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকার পরও সামাজিক শিষ্টাচার তাকে প্রর্দশন করে যেতে হবে। তদ্রুপ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক রাষ্ট্র প্রতিবেশী হোক বা দুরের হোক, ছোট হোক অথবা বড়, সবল হোক বা দুর্বল, সকল রাষ্ট্রের সাথে নূন্যতম শিষ্টাচারটুকু প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় ব্যক্তি,সমাজ ও রাষ্ট্র জংলী বা সভ্যতার নিকৃষ্ট কীট হিসাবে চিহ্নিত হবে।

আদর্শ,সুশৃংখল ও পরিশীলিত সমাজ গঠনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব অপরিসীম। আদব বা শিষ্টাচারকে ইসলামের সারবস্তু বললেও অত্যুক্তি হবে না। সর্বোত্তম ও ভালো ব্যবহার ও সুন্দরভাবে কথা বলা হলো আদবের উপাদান। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এর ব্যপ্তি। পৃথিবীতে যত জীবন ব্যবস্থা রয়েছে তার মধ্যে আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম। ইসলামই আদব আর আদবই ইসলাম। ইসলাম মানুযষের আহার-পানীয় গ্রহণে, অন্যের সাথে কুশল বিনিময়ে, সালাম আদান, অনুমতি গ্রহণে, ওঠাবসা, কথা বলা, আনন্দ ও শোক প্রকাশে, সামাজিক ও ব্যবসায়ীক লেনদেনে যেই নীতিমালা প্রদান করেছে সেটিই শিষ্টাচার বা আদব।

কোন মুসলিম কাঙ্খিত মানের ও সুসভ্য মানুষ রূপে গড়ে উঠবে এবং নিজেদেরকে অন্যান্য জাতি অপেক্ষা ভিন্ন বৈশিষ্টামন্ডিত করতে সক্ষম হবে তখনই যখন ইসলামী কৃষ্টি-কালচার নিজের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট ও পার্থিব জীবনের সকল বিভাগে প্রতিপালন করবে। আদবের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সা: বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: সূত্রে বর্ণিত। নবী সা: বলেছেন,“উত্তম পথ, গাম্বীর্যপূর্ণ উত্তম আচরণ এবং পরিমিতবোধ নবুয়াতের পঁিচশ ভাগের এক ভাগ।(আবু দাউদ: ৪৭৭৬, কিতাবুল আদব, বাবু ফিল ওকারি, হাদীসটি হাসান সহীহ, বুখারী ও আহমাদ)
আমাদের দৈনন্দিন জীবন ইসলামী নীতি-আদর্শের আলোকে পরিচালিত হওয়াকে আদব বা শিষ্টাচার বলে। অথবা মানুষের সামগ্রীক জীবন ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম যেই আদব বা শিষ্টচার প্রদান করেছে, সেই আলোকে নিজেকে পরিচালিত করার নাম আদব। অথবা যা সত্য ও সুন্দর যা মার্জিত ও রুচীসম্মত ইসলাম যাকে সত্যয়ন করেছে তা-ই আদব।্ যেমন: আল কুরআন বলছে,“(হে নবী) অবশ্যই তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।”(সুরা ক্বলম:৪) অর্থাৎ এখানে ’মহান চরিত্র’ মানে মহান আদব বা শিষ্টাচারের অধিকারী। আল কুরআন থেকে শিষ্টারের আরো কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়, আল্লাহ তা’আলা বলেন,(হে নবী!) “তুমি ক্ষমা বা কোমলতার পথ অবলম্বন করো, লোকদের সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলো মানে তাদের সাথে অযথা বিতর্কে জড়িও না।।”(সুরা আ’রাফ:১৯৯) আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন,“ (হে নবী!) সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান নয়। তুমি অসৎ কাজকে সেই নেকী দ্বারা নিবৃত্ত করো যা সবচেয়ে ভাল। তাহলে দেখবে যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল সে অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গিয়েছে। ধৈর্যশীল ছাড়া এ গুণ আর কারো ভাগ্যে জোটে না এবং অতি ভাগ্যবান ছাড়া এ মর্যাদা আর কেউ লাভ করতে পাওে না।”(সুরা হামিম আস সাজদা:৩৪-৩৫) আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন,“যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল সব অবস্থায়ই অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে ও অন্যের দোষ-ত্রুটি মাফ করে দেয় এ ধরনের সৎলোকদের আল্লাহ অত্যন্ত ভালোবাসেন।”(সুরা আলে ইমরান: ১৩৪)

আল কুরআন আরো বলছে,“রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা তাদের সাথে কথা বলতে থাকলে বলে দেয়, তোমাদেও সালাম। তারা নিজেদের সামনে সিজদায় অবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেয়।”(সুরা ফুরকান:৬৩-৬৪) আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তারা যখন ব্যয় করে তখন অযথা ব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না বরং উভয় প্রান্তিকের মাঝামাঝি তাদের ব্যয় ভারসাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। তারা আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্যকে ডাকে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন কোন সংগত কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।

এসব যে-ই করবে সে তার গোনাহের শাস্তি ভোগ করবে।(সুরা ফুরকান:৬৭-৬৮) আল্লাহ আরো বলেন,“ যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং কোন বাজে জিনিসের কাছ দিয়ে পথ অতিক্রম করতে থাকরে ভদ্রলোকের মত অতিক্রম করে যায়।”(সুরা ফুরকান:৭২) এগুলো ছাড়াও আল কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মানুষের জীবন ঘনিষ্ট শিষ্টাচারের শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ আরো বলেন,“(হে নবী) এটা আল্লাহর বড়ই অনুগ্রহ যে, তোমার ব্যবহার তাদের প্রতি বড়ই কোমল।”(সুরা আলে ইমরান:১৫৯)

ইয়াযীদ ইবনে বাবানূস রহ: বলেন, আমরা আয়েশা রা: এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, হে উম্মুল মুমিনিন! রাসুলুল্লাহ সা: -এর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য কি ছিল? তিনি বলেন, কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র। আপনারা সুরা মুমিনুন পড়ে থাকেন। তিনি বলেন, পড়ুন: ‘কাদ আফলাহাল মু’মিনুন”। ইয়াযীদ রহ: বলেন, আমি পড়লাম, ‘কাদ আফলাহাল মু’মিনুন…… লিফুরুজিহিম হাফিজুন” পর্যন্ত(আয়াত:১-৫) তিনি বলেন, এটাই ছিল রাসুলুল্লাহ সা: এর চরিত্র বৈশিষ্ট্য।(আল আদাবুল মুফরাদ: ৩০৮, পর্ব: বদান্যতা, কৃপণতা ও চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি চরিত্রবান হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কওে, নাসাঈ ও হাকিম)
আনাস ইবনে মালিক রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সা: গালি-গালাজকারী, অশালীন ও লা’নতকারী ছিলেন না। তিনি আমাদের কারো উপর অসন্তুষ্ট হলে, শুধু এতটুকু বলতেন, তার কী হলো। তার কপাল ধূলিমলিন হোক।(বুখারী:৬০৩১, কিতাবুল আদাব, বাবু লাম ইয়াকুনুন নাবীয়্যু……, বুখারী:৬০৪৬, আ.প্র:৫৫৯৬, ইফা:৫৪৯২)

আনাস রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দশটি বছর নবী সা: এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কখনো আমার প্রতি উহ্ শব্দটি করেননি। এ কথা জিজ্ঞোস করেননি, তুমি এ কাজ কেন করলে এবং কেন করলে না?(বুখারী:৬০৩৮, কিতাবুল আদাব, বাবু হুসনিল খুলুখ……, বুখারী:২৭৬৮, মুসলিম: ২৩০৯, আ.প্র:৫৬০৩, ইফা:৫৪৯৯)

ইবনে মাসরূক রহ: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা:-এর নিকট গেলাম, যখন তিনি মু’আবিয়াহ রা:-এর সাথে কুফায় পদার্পণ করেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সা: এর কথা উল্লেখ করতেন। অত:পর বললেন: রাসুলুল্লাহ সা: স্বভাবগতভাবে অশালীন ছিলেন না, আর ইচ্ছে করে অশালীন কথা বলতেন না। তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন: তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম স্বভাবে যে সবচেয়ে উত্তম।(বুখারী:৬০২৯, ৩৫৫৯,কিতাবুল আদাব, বাবু লাম ইয়াকুনুন নাবীয়্যু……, বুখারী:৩৫৫৯ আ.প্র:৫৫৯৪, ইফা:৫৪৯০)

জাবির রা: হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন: তোমাদের যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সর্বোত্তম তোমাদের মধ্যে সে-ই আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং কিয়ামতের দিবসেও আমার খুবই নিকটে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার নিকট সবচেয়ে বেশী ঘুণ্য সে ব্যক্তি কিয়ামাত দিবসে আমার নিকট হতে অনেক দূরে থাকবে তারা হলো: বাচাল, ধৃষ্ট-নির্লজ্জ এবং অহংকারে মত্ত ব্যক্তিরা। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল(সা:)! বাচাল ও ধৃষ্ট-দাম্ভিকদের তো আমরা জানি কিন্তু মুতাফাইহিকুন কারা? তিনি বললেন:
অহংকারীরা।(তিরমিযি:২০১৮, অনুচ্ছেদ:৭১, উন্নত চারিত্রিক গুণ, সহীহাহ:৭৯১, সহীহুল জামে:২২০১)

ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পরিধি যত বিস্তৃত. ইসলামী আদব বা শিষ্টাচার ততটাই বিস্তৃত। সেই হিসাবে যার দীন নাই. তার মধ্যে আদব বা শিষ্টাচার নাই অথবা যার মধ্যে শিষ্টাচার নাই তার মধ্যে দীন নাই।

Posted ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.