বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপের মধ্যে একদিনে এক হাজারেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাজ্যগুলোর দেওয়া তথ্য নিয়ে রয়টার্সের করা টালিতে দেখা গেছে, এদিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১০১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে সরকারিভাবে ঘোষিত মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের মোট সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ ২৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি দৈনিক মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর গত মাসে দেশটিতে করোনাভাইরাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ফের বাড়তে শুরু করে দৈনিক গড় ৭৬৯ হয়ে দাঁড়ায়। রয়টার্সের টালি অনুযায়ী মধ্য এপ্রিলের পর দৈনিক মৃত্যুর এটিই সর্বোচ্চ গড়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা ভ্রমণকারীদের জন্য উড়োজাহাজে, ট্রেন ও বাসে এবং বিমানবন্দর ও ট্রেন স্টেশনে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যান্য অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বড় ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন এই হুমকির মুখে টিকা দেওয়ার গতি বাড়ানো শুরু করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। টিকা নেওয়ার জন্য সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে অর্থ ও অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এখন কিছু কোম্পানি ও রাজ্য কর্মীদের চাকরি বাঁচাতে হলে এবং নিয়মিত পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া এড়াতে চাইলে বাধ্যতামূলকভাবে টিকা নিতে হবে বলে জানিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে কোভিডজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭০ শতাংশ বেড়েছে। হাসপাতালে রোগীর স্রোত অব্যাহত আছে। যুক্তরাষ্ট্র গত ১২ দিন ধরে দৈনিক গড়ে এক লাখেরও বেশি রোগী শনাক্তের কথা জানাচ্ছে। ছয় মাসের মধ্যে এই গড় সর্বোচ্চ বলে জানাচ্ছে রয়টার্সের টালি। যুক্তরাষ্টের দক্ষিণাঞ্চল নতুন এ প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। শনাক্ত নতুন রোগীদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোটও আছেন। মঙ্গলবার পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ এলেও শেষ খবর পর্যন্ত অসুস্থতার কোনো লক্ষণ ছিল না বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোভিড আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে কোভিড আক্রান্ত ১৮৩৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে। করোনাভাইরাসের মূল ধরন আলফ ভ্যারিয়েন্ট থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা তিন কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি।
সেপ্টেম্বরের মাঝমাঝি থেকে ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ : ইউএস ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিষ্ট্রেশন (এফডিএ) আমেরিকানদের যারা ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের দুই ডোজ গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তৃতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য অনুমোদন দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল বুধবার বিকেলে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দানকালে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। এফডিএ’র অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের ঘোষণার আলোকে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) সুপারিশ করেছে যে, কাদের জন্য তৃতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার প্রয়োজন পড়বে বা নেয়া উচিত। যারা আট মাস আগে ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নেয়া সম্পন্ন করেছেন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাদের তৃতীয় ডোজ দেয়া শুরু হবে। যারা আগের দুটি ডোজ মডার্না অথবা ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তারা ওই ভ্যাকসিনগুলোই নিতে পারবেন। কিন্তু যারা এখন জনসন এন্ড জনসনের ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত তৃতীয় ডোজের সুপারিশ করা হচ্ছে না। জনসন এন্ড জনসনের ভ্যাকসিনের ডোজ যেহেতু একটি, সেজন্য যারা জনসন নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই আরেকটি ডোজ নেয়ার প্রয়োজন পড়বে।
করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিডিসির মতে এখন যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে তাদের ৯৯ শতাংশই ডেল্টা ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছে। গত ১৬ আগস্ট সমাপ্ত এক সপ্তাহে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১২৮,৩৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৫৫৩ জন মারা গেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৃতীয় ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের যেভাবে শ্রেণীকরণ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: ১) যাদের সলিড টিউমার ও হেমাটোলজিক ম্যালিগনেন্সির জন্য চিকিৎসা চলছে; ২) সিএআর-৭ সেল অথবা হেমাটোটোপায়োটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছেন; ৩) যাদের মাঝারি অথবা গুরুতর প্রাথমিক ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি অর্থ্যাৎ ডাইজর্জ সিনড্রোম রয়েছে; ৪) এইচআইভি ইনফেকশনে আক্রান্ত; ৫) যারা হাই-ডোজ কর্টিকোস্টেরয়োডিকস এর সক্রিয় চিকিৎসাধীন, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ সেবন করেন, ক্যান্সারের জন্য কেমোথেরাপি নিচ্ছেন।
এ সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য আগ্রহীরা COVID-19 Vaccines for Moderately to Severely Immunocompromised People | CDC) যোগাযোগ করতে পারেন। যারা উপরোক্ত শ্রেনিগুলোর মধ্যে পড়েন না, এই পর্যায়ে তাদের তৃতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। যারা উপরোক্ত শ্রেনিতে পড়েন তারা আগে মডার্নার ভ্যাকসিন নিয়ে থাকলে তৃতীয় ডোজও মডার্নার ভ্যাকসসিন নেবেন। ফাইজারের ভ্যাকসিন গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে তৃতীয় ডোজ ফাইজারের ভ্যাকসিন হবে। যদি কোন কারণে কোন একটি ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা না থাকে, শুধু সেক্ষেত্রে সিডিসি অন্য ভ্যাকসিন নেয়ার অনুমতি দিয়েছে। যারা তৃতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য উপযুক্ত তারা তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে অথবা কমিউনিটি ভিত্তিক ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্রের অবস্থান জানতে নিচের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন: https://vaccinefinder.nyc.gov/ I https://covid19vaccine.health.ny.gov/.
Posted ৭:০০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট ২০২১
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh