বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

বাংলাদেশে ছাত্র-গণহত্যার প্রতিবাদে টাইমস স্কোয়ারসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচণ্ড বিক্ষোভ

বাংলাদেশ ডেস্ক:   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশে ছাত্র-গণহত্যার প্রতিবাদে টাইমস স্কোয়ারসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচণ্ড বিক্ষোভ

বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে তাদের দলীয় অস্ত্রধারী বাহিনী ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে অসংখ্য নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর সমবেদনা জানিয়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সিটিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা। গত ১৮ ও ২১ জুলাই নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দুটি পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উভয় সমাবেশেই বিক্ষুব্ধ প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল। গত ২১ জুলাই রোববার সন্ধ্যায় টাইমস স্কয়ারে একটি অভূতপূর্ব উপস্থিতি দেখা গেছে। আমেরিকান বাংলাদেশি এমপাওয়ারমেন্ট ইনিশিয়েটিভ দ্বারা আয়োজিত একটি বিশাল বিক্ষোভে সাত সহস্রাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টটি ছিল বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রদর্শন এবং এটি সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশন, সাউথ এশিয়ান পলিসি ইনিশিয়েটিভ, এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সহ অসংখ্য সংগঠনের সমর্থন পেয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বড় বড় প্ল্যাকার্ড বহন করে এবং “হাসিনাকে নামিয়ে দাও”, “হাসিনা কিলার” এবং “বাংলাদেশ ছাত্রদের বাঁচাও” স্লোগান দেয়। কিছু প্ল্যাকার্ডে “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে ধরে রাখুন”, “হাসিনা বাংলাদেশে গণহত্যা চালাচ্ছেন!”, “যোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের অধীনে গণহত্যা বন্ধ করুন!”, “বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অধীনে গণহত্যা বন্ধ করুন!”, “শ্যুটিং বন্ধ করুন” ইত্যাদি বার্তা রয়েছে। দৃষ্টিতে নিরপরাধ মানুষ!”, “চপার থেকে লোকেদের গুলি করা বন্ধ করুন!”, “সাঁজোয়া কর্মী বাহক থেকে লোকেদের গুলি করা বন্ধ করুন!”, “লিফ্ট কারফেস এবং বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করুন”, এবং “খুনিকে নীচে নামিয়ে দিন! শেখাসিখ!”।
সাউথ এশিয়ান পলিসি ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ইমরান আনসারী একটি আবেগঘন বক্তৃতা দিয়ে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমরা এখানে এসেছি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে। হাসিনা শাসনামলে ৩০০ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক ক্ষতির প্রতিক্রিয়ায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আরো হাজার হাজার নিখোঁজ এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব এবং বিজিবি কর্তৃক পরিচালিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং গণহত্যার সুস্পষ্ট কর্মকাণ্ড। শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। আনসারী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে তিনি ক্ষমতায় থাকার তার নৈতিক, নৈতিক এবং আইনি বৈধতা হারিয়েছেন। তিনি হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ ও বিজিবিকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এসব মিশন থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।
বিক্ষোভে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ তামজিদ, রাসেল উদ্দিন, নুর রামিন, ও হোসেন শুভ, যারা আয়োজক কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত চার দিনে ১৭৪ জন নিহত হয়েছে, হাজার হাজার গুরুতর আহত হয়েছে এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। উপরন্তু, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ নেই, যা যোগাযোগ বন্ধ এবং নাগরিকদের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। টাইমস স্কয়ারের বিক্ষোভ ছিল বাংলাদেশের ছাত্র ও জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনে একটি শক্তিশালী প্রদর্শনী, যা চলমান সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলায় অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
টাইমস স্কয়ারে প্রথম সমাবেশ
বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রতি সমর্থনে এবং পুলিশের গুলিতে ও সংহিস ঘটনায় নিহতের প্রতিবাদে ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ম্যানহাটানের টাইমস স্কয়ারসহ সিটির জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস ও বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে পৃথক পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাইমস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী ও নতুন প্রজন্ম সহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এসময় তারা ব্যাপক বিক্ষোভ করেন এবং দেশের আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। এই সমবেশের মূল শ্লোগান ছিলো ‘সেভ বাংলাদেশী স্টুডেন্টস’। সমাবেশের সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও আয়োজকারী বাদল মির্জা, ফাহাদ হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, ওসমান গণি, নাফিসা সাঈদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মেরী জোবায়দা, কাজী ফৌজিয়া, কাজী জহিরুল ইসলাম, পারভেজ সাজ্জাদ প্রমুখ যোগ দেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এই সমাবেশ চলে। এসময় সমাবেশকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাসহ তাদের দাবী-দাওয়া সম্বলিত পোস্টার, প্লেকার্ড বহন করে।
বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ
বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশের কোটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবীর সমর্থনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশী ছাত্র ও অভিভাবকদের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে প্রবাসের সাংবাদিকরাও অংশ নেন। এতে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান ছাড়াও সাংবাদিক তাসের মাহমুদ, মনির হায়দার, কাজী জেসিন, মনিজা রহমান ও শাহেদ আলম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
প্রবাসী নাগরিক সমাজ, নিউইয়র্ক
গত মঙ্গলবার ১৬ জুন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত সমাবেশ থেকে কোটা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান প্রবাসী বাংলাদেশীরা। সমাবেশ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় নিহতের ঘটনায়। নিহতদের স্মরণে সমাবেশে গায়েবানা জানাজাও হয়। সমাবেশে অধ্যাপক ড. শওকত আলী, আব্দুল লতিফ সম্রাট, রিটা রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ খান, গোলাম ফারুক শাহীন, অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, আহবাব চৌধুরী খোকন, বদরুল হক আজাদ, জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজায় ইমামতি ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন আব্দুল লতিফ সম্রাট। এছাড়াও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় ৭৩ ষ্ট্রীটে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
এদিকে গত ১৭ জুলাই বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল অফিসের সামনে সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক-এর ব্যানারে মানববন্ধনের ও প্রতিবাদ সমাবেশের আনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা দেশে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নির্যাতন এবং নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সমাবেশ থেকে কোটা সংস্কারের দাবী মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানানো হয়। অন্যথায় প্রবাসী রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় তারা। সমাবেশে ফাহাদ হোসেন, ওসমান গনি, আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল অফিসে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল আসিফ স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
জ্যামাইকায় বিক্ষোভ সমাবেশ
নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউ ও ১৬৮ স্ট্রীটের কর্ণারে নিউইয়র্কের ইয়র্ক কলেজ বাংলাদেশ স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের আয়োজনে বাংলাদেশের কোটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবীর সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দ আল আমীন রাসেলের নেতৃত্বে সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী এই সমাবেশে যোগ দেন। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশেনের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এতে নিহতদের স্মরণে নিরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া করা হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা দীহান হোসেন, শারমীন, সুমন খান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট রাব্বী সৈয়দ, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ঢাবি অ্যালামনাই’র শোক
বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ’র সভাপতি সাইদা আকতার লিলি ও সাধারণ সম্পাদক গাজী সামসউদ্দীন। গাজী সামসউদ্দিন প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা ছাত্র সমাজের কোটা সাংস্কার আন্দোলনের যুক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। ছাত্র সমাজের প্রতিবাদ ও আন্দোলন কোনভাবেই বুলেট আর নির্যাতনের মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না বরং আলোচনায় বসে এর সমাধান করা উচিত বলে নেতৃবৃন্দ মত প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা ছাত্র সমাজকে তাদের দাবির প্রতি নিষ্ঠাবান থাকার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান মুহুর্তে জাতি এক মহা সংকটকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে সকল মহলকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জাতীয় স্বার্থে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।নেতৃবৃন্দ যে সমস্ত তরুণ ও মেধাবী ছাত্র এই আন্দোলনের নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।
জাবি অ্যালামনাই’র উদ্বেগ
জাহাঙ্গীরনগর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সদস্যরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রেরিত এক বার্তায় অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও নির্যাতনের আশংকাজনক ঘটনা ঘটছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যা মেনে নেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ সরকারের পদক্ষেপগুলোকে আমরা অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক মনে করি। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী এবং সাংবাদিকদের উপরে পুলিশী হামলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণগ্রেফতার ও মামলারও শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখা এবং মত প্রকাশের সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে যেভাবে বিভিন্ন কৌশলে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে তা আমরা হতাশাজনক মনে করি। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবির ন্যায্যতা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত।
প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ’র সংহতি প্রকাশ
দেশে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ। এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি হাফিজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মর্তুজা বলেছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে চলে আসা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরে যে সহিংসতার সূচনা ঘটেছে, তা চরম দুর্ভাগ্যজনক। সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ ও সরকারÑসমর্থক বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং পুলিশের হামলায় এরই মধ্যে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা এবং এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই।নেতৃবৃন্দ বলেন, কোটাব্যবস্থার সংস্কার সময়ের দাবি। সমাজের নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসীসহ অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কোটা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের বংশপরম্পরায় সুবিধা দেওয়ার নামে ৩০ শতাংশ কোটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সেজন্য কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবি যৌক্তিক। আমরা সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
গণহত্যার প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির
বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসা শিক্ষার্থীদের উপর বর্তমান সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র শাখা গত ২০ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে এক সভার আয়োজন করে। সভায় সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুর রহমান সভাপতিত্ব করেন এবং পরিচালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা আবু তালেব চৌধুরী চান্দু। বক্তব্য রাখেন জাপার প্রধান উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস মজুমদার, জাপার উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট হারিসউদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি শফিউল আলম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল করিম, প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস ওয়াহিদ, যুব সম্পাদক মো: আবদুল আউয়াল মুন্না ও দপ্তর সম্পাদক আবদুল মোতালেবসহ আরোঅনেকে। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চালাচ্ছে তা বাংলাদেশের সকল আন্দোলনের ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছে। আমরা এই ছাত্র আন্দোলন সমর্থন করছি। এ আন্দোলনে নাম না জানা অসংখ্য ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আমরা সেই শহীদদের রুহের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। যারা আহত হয়ে বাংলাদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের সুস্থতা কামনা করি।
হত্যার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিবকে সিটিজেন ফোরামের স্মারকলিপি
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদ এবং ন্যায় বিচারের দাবিতে জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশী-আমেরিকান সিটিজেন মুভমেন্ট ফোরাম নিউইয়র্ক। গত ২২ জুলাই সোমবার অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সমাবেশে আন্দোলনে নিহত ছাত্রদের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ফ্যাসীবাদী নীতির তীব্র সমালোচনা করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আহবাব চৌধুরী খোকনের সভাপতিত্বে এবং আনোয়ার জাহিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে অনেকে বক্তব্য রাখেন। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং তাদের ওপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদ এবং ন্যায় বিচারের দাবি জানান। পরে গোলাম ফারুক শাহিনের নের্তৃত্বে বাংলাদেশী-আমেরিকান সিটিজেন মুভমেন্ট ফোরাম নিউইয়র্ক, ইউএসএ’র পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশী প্রবাসী নাগরিক সমাজ প্রতিবাদ সভা
গত ১৮ জুলাই জ্যাকসন হাইটসে আলী ইমাম সিকদারের সভাপতিত্বে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উপর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সভায় বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সংগ্রাম তারা এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। বাংলাদেশে সংগ্রামে বিল্পবী ছাত্র সমাজ কোটা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তারা জীবন ও রক্ত দানে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। বক্তাগণ শহীদ আবু সাঈদসহ নাম না জানা শতশত শহীদানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এ জীবন দান এবং রক্তদান অতীতে সকল স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসকের নির্যাতন, নিপীড়ন, জুলুম ও অত্যাচারকে হার মানিয়েছে। বক্তাগণ আরো বলেন, বাংলাদেশে কোটা বিরোধী যে সংগ্রাম শুরু হয়েছে তা দমন করার জন্য ভারতীয় শাসক এবং র’ ভীষনভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে। ছাত্রদের আন্দোলনকে দমানোর জন্য ভারত থেকে অস্ত্র সহ ব্যক্তিরা বাংলাদেশে এখন অবস্থান করছেন এবং তারা আন্দোলন দমাতে সার্বক্ষনিক কাজ করছে। এ মহুর্তে দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের উচিত ৬৯’ এর মতো ঝাপিয়ে পড়া এবং নতুন ৬৯’ সৃষ্টি করার। বক্তাগণ ছাত্র সমাজের এই ন্যায় সংগত আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন ঘোষনা করেন। আগামী ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ এবং জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে বাফেলো সিটি হলের সামনে গায়েবি জানাজা ও বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ
রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করার হুমকি দিয়ে বিক্ষুব্দ প্রবাসীদের বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে প্রথমে গায়েবি জানাজা, ছাত্রদের বিদেয়ী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া এবং স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাফেলো সিটি হলের সামনে নায়াগারা স্কয়ার এলাকা।
গত ১৯ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজের পরে দুপুর ৩ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয় এই বিক্ষোভ সমাবেশ। ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক এলাকায় বসবাসরত প্রায় হাজার খানেক প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশ গ্রহণ করেন এই বিক্ষোভ সমাবেশে। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে কয়েকশ ছাত্রকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক বাহিনী। পুলিশ, বিজিবি, সরকারি দলের ছাত্র শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী বাহিনী অংশ নেয় ছাত্র হত্যার মতো এই ন্যাক্কারজনক কাজে। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে এমন জঘন্য হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছেন।
দেশপ্রেমিক বাফেলোবাসিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে গৃহবধূ কিংবা বৃদ্ধ প্রবাসীরাও এসেছিলেন তাদের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটাতে। বাফেলো সিটি হলে কর্মরত বাংলাদেশী বংশদ্ভুত ও নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি ওয়েস্ট গঠন সমন্বয় কমিটির অন্যতম নেতা জাভেদ মোস্তফা সাম্প্রতিক ছাত্রহত্যার বিষয়টি বাফেলো মেয়রকে অবহিত করলে মেয়র স্ব-ইচ্ছায় তার ক্ষমতা বলে বিক্ষোভের পারমিশন দিয়ে ছিলেন। সিটি হলে কর্মরত কর্মকর্তারা সরাসরি এই বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ না নিলেও বিক্ষোভকারীদের প্রতিটা পদক্ষেপ তারা সচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সামান্য সময়ের নোটিশে প্রবাসীদের এতো বড় সমাবেশ বাফেলোবাসি আগে কখনও দেখেনি। কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এই বিক্ষোভ সমাবেশে দলে দলে যোগ দিয়েছিলেন।
১৮ই জুলাই বিকেলে মেয়র অফিস থেকে বিক্ষোভ সমাবেশের পারমিশন পাওয়ার সাথে সাথে বাফেলো বাংলার অফিসে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাফেলো সিটি হলে কর্মরত প্রবাসী কমিউনিটি লিডার জাভেদ মোস্তফা, পিবিসি টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন এর সম্পাদক মতিউর রহমান লিটু, কমিউনিটি একটিভিস্ট আব্দুর রহিম, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জিন্নাহ এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম জনি।
ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে একদিকে মুহুর মুহুর স্লোগান চলতে থাকে অন্যদিকে কমিউনিটি লিডাররা তাদের বক্তব্য দিয়ে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করার আহবান জানান। বাংলাদেশের প্রতিটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পরা ছাত্র বিক্ষোভ দমন করতে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এমন জাতীয় ইস্যুতে সকলকে দলমত নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ত্যাগ করার আহবান জানানো হয়েছে।
সেফ দ্যা বাংলাদেশী স্টুডেন্ট শীর্ষক প্রতিবাদ সভা
গত ২০ ই জুলাই নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় সেফ দ্যা বাংলাদেশী স্টুডেন্ট শীর্ষক প্রতিবাদ সভা ও মানব বন্ধন করেন নিউইয়র্কের সংগঠন ‘বাংলাদেশ এসেম্বলি অব ইউএসএ। এই প্রতিবাদ সভা ও মানব বন্ধন র‍্যালিতে এ উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মো: শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইসলাম (কলিম), সহ সভাপতি আলমগীর হোসেন সরকার, মহিলা সম্পাদক জাকিয়া সোলাইমান, দপ্তর সম্পাদক আতিকুল ইসলাম রফিক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন,মিয়া ফয়েজ আহমেদ (জুয়েল), যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, জয়নাল আবেদীন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জ্যামাইকা ফ্রেন্ড সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ইমদাদুল হক, জাহিদুর রহমান, বেলায়েত হোসেন,শফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান,ফারুক হোসেন পাটোয়ারী, মামুন সরকার, আলআমিন, জিসান, নুরুল ইসলাম, গোলাম দস্তগীর, ফকরুল ইসলাম মনজুসহ অনেকে।
ওহাইওতে কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদী মানববন্ধন
ওহাইও অঙ্গ রাজ্যের কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ বাংলাদেশ এ চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন এর সাথে সংহতি জানিয়ে এক প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে গত ১৭ জুলাই। বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষকবৃন্দ এবং তাদের পরিবার অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ, নিপীড়ন ও শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতি বন্ধ, কোটা সংস্কার সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান সমৃদ্ধ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ছাত্র হত্যার বিচার এবং কোটা সংস্কার করার দাবি জানানো হয়।

Posted ১১:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.