বাংলাদেশ অনলাইন : | মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
ইতিহাস গড়ে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ অভিষেক বিশ্ব রাজনীতিতে আনতে যাচ্ছে নতুন মোড়। নতুন মার্কিন প্রশাসন কেমন হবে, তার বিশ্লেষণে গভীর মনোনিবেশ করছেন বিশ্বনেতারা। এ তালিকা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কি বড় কোনো পরিবর্তন আসবে, কেমন হবে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক, প্রশ্ন সবার।
কখনো আদালতের দ্বারে দ্বারে। কখনও দুর্বৃত্তের বুলেট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণ রক্ষা। চার বছরের দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে শেষ পর্যন্ত ফিরে পেলেন হোয়াইট হাউসের দখল। ফিরলেন বীরের বেশে। হলেন বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের ক্ষমতাধর ব্যক্তি। দাপুটে ভূমিধস জয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন মসনদে অদম্য ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ এক ইতিহাস। ইতিহাসের এ নায়ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় এখন লাভ ক্ষতির হিসাব কষছে পুরো বিশ্ব।
দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা। ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে ক্ষতির মুখে লাখ লাখ অভিবাসী। রয়েছেন বাংলাদেশিরাও। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ‘নাটকীয় কোনো পরিবর্তন’ ঘটবে না বলে মত বিশ্লেষকদের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতৃত্ব থেকে দূরে সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অন্যান্য দেশের মতো আর্থিক সহায়তায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তনে আপাতত বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাত্রায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন অনেকে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশনস বিভাগের চেয়ারপারসন ড. মো. আবু নাসের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মৌলিক কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। যে পরিবর্তনটা হতে পারে, সেটা হলো যে বাইডেনের সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি খুব গুরুত্ব দেয়া হত। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতাসীন হওয়ার পর হয়ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ফোকাস এরিয়াতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার তেমন গুরুত্ব পাবে না।
লেখক, গবেষক ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা হাসান ফেরদৌস বলেন, ‘খুব শিগগিরই দেখবো যে ট্রাম্প তারা কথা মতো, কাগজপত্রবিহীন অবৈধ অভিবাসীদেরকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করবেন।’
কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্ক কেমন হবে তার ওপরেই মূলত নির্ভর করবে বাংলাদেশের হিসাব-নিকাশ। অন্যদিকে অবৈধ অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধের আঁচ লাগবে দেশটিতে থাকা কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিদের ওপরও।
এ অবস্থায় নিরঙ্কুশ জনসমর্থনে অনেকটাই একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরাটা কেমন হবে তার জবাব খুঁজতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়।
Posted ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh