বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামসের বিরুদ্ধে আনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় ফেডারেল দুর্নীতি মামলাটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়েছে। গত ২ এপ্রিল (বুধবার) ফেডারেল জজ ডেল হো মামলাটি “উইথ প্রিজুডিস” (স্থায়ী বাতিল) ঘোষণা করেন, যার অর্থ অ্যাডামসকে একই অভিযোগে ভবিষ্যতে আর কখনও অভিযুক্ত করা যাবে না। এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৮ মাসের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে ডেমোক্র্যাট মেয়রের জন্য, যিনি ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত সেপ্টেম্বরে অ্যাডামসের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়: ঘুষ, ষড়যন্ত্র, এবং প্রচারণা অর্থায়নে অনিয়ম। অভিযোগে বলা হয়, তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তাসমেত বিদেশি ধনকুবের ও কর্পোরেশনগুলোর কাছ থেকে অবৈধ অনুদান নিয়েছেন অ্যাডামস, বিনিময়ে রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন। এছাড়াও, মানহাটনে তুরস্কের কনস্যুলেট ভবনের জন্য ফায়ার সেফটি নীতিমালা উপেক্ষা করতে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ওপর চাপ প্রয়োগ, এক লাখ ডলারের বেশি ব্যয় সম্বলিত বিলাসবহুল ভ্রমণ উপহার না জানানো, এবং “স্ট্রো ডোনার” (নামভিত্তিক অনুদানকারী) ব্যবহার করে ১০ মিলিয়ন সরকারি ম্যাচিং ফান্ড আদায়ের অভিযোগ ছিলো মামলায়।
বিচারক হো ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (ডিওজে)-এর মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ মেনে নিলেও তাদের যুক্তিতে কঠোর ভাষায় প্রশ্ন তোলেন। ডিওজে দাবি করেছিলো, মামলাটি জাতীয় নিরাপত্তা (ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে অ্যাডামসের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে) এবং দুর্বল প্রমাণের কারণে বাতিল করা প্রয়োজন। তবে বিচারক এই যুক্তিকে “অসঙ্গত” আখ্যা দিয়ে বলেন, “ডিওজে যদি সত্যিই মনে করে মামলাটি দুর্বল, তাহলে একে ভবিষ্যতের জন্য ঝুলিয়ে রাখার যুক্তি কী?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলা চলমান রাখলে অ্যাডামসের উপর “রাজনৈতিক তরবারি” ঝুলে থাকত, যা তার প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটাত।
মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ডিওজে এবং সিটি হল উভয় ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ভারপ্রাপ্ত ইউএস অ্যাটর্নি ড্যানিয়েল সাসুন অভিযোগ করেন, মামলা বাতিলের পেছনে “কুইড প্রো কো” (অর্থাৎ, অভিবাসন নীতিতে সহযোগিতার বিনিময়ে মামলা প্রত্যাহার) থাকতে পারে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাসুনসহ ডিওজে’র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। একইভাবে, নিউইয়র্ক সিটির চারজন ডেপুটি মেয়রও ইস্তফা দেন এবং অ্যাডামসের বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি ওঠে।
গভর্নর ক্যাথি হোচুল অ্যাডামসকে সরানোর পরিবর্তে তার ক্ষমতা সীমিত করেন।
মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে অ্যাডামসের আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরো বলেছেন, “এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্ররোচিত ছিল। মেয়র সর্বদা নির্দোষ ছিলেন, আজ ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” অ্যাডামস নিজেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আনুগত্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে গতকাল ঈউঈ-এর তহবিল কাটছাঁটের বিরুদ্ধে মামলায় নিউইয়র্ক সিটিকে যুক্ত করেছেন।
নির্বাচনী দৌড়ে এই রায় অ্যাডামসের জন্য সময়োপযোগী। আগামী ২৪ জুন ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির আগে তিনি নিজেকে “ট্রাম্পের ঋণমুক্ত” প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। তবে তিনি কোন দল থেকে নির্বাচন করবেন—ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র, নাকি রিপাবলিকান—তা এখনও স্পষ্ট করেননি। অ্যাডামস ছাড়াও তার প্রশাসন ও নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ইংগ্রিড লুইস-মার্টিন (অ্যাডামসের উপদেষ্টা): ঘুষ ও মানি লন্ডারিং অভিযোগে অভিযুক্ত।
মোহামেদ বাহি (মুসলিম সম্প্রদায়ের লিয়াজোঁ): অবৈধ অনুদান সংগ্রহের ষড়যন্ত্রে দোষ স্বীকার করেছেন। এডওয়ার্ড ও জেমস কাবান(সাবেক ঘণচঈ কমিশনার ও তার যমজ ভাই), ডেভিড ব্যাংকস (সাবেক স্কুল চ্যান্সেলর) সহ অনেকে তদন্তের পর পদত্যাগ করেন। বিচারক হো তার রায়ে স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত মামলার গুণগত দিক বা অ্যাডামসের নির্দোষ/দোষী হওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়। তিনি কেবল আইনের সীমার মধ্যে ডিওজে’র অনুরোধ যাচাই করেছেন। আইন বিশেষজ্ঞ জেমস স্যাম্পল মন্তব্য করেছেন, “আইনের দৃষ্টিতে অ্যাডামস এখন নির্দোষ। এই মামলার অভিযোগে তিনি কখনও দোষী সাব্যস্ত হবেন না।”
এই মামলার বাতিলের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার জটিলতারই প্রতিচ্ছবি। অ্যাডামসের পুনরায় নির্বাচনী মাঠে নামা নিউইয়র্কের ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা-ই এখন দেখার অপেক্ষা।
Posted ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh