বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
নিউইয়র্কের ফেডারেল জাজ ফ্রেডেরিক ব্লক নিউইয়র্ক স্টেট সিডিপ্যাপ কর্মসূচি পিপিএল-এ স্থানান্তরের সময়সীমা আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন। যারা এখনো সিডিপ্যাপ হোমকেয়ারে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ কর্তৃক মনোনীত একমাত্র সেবাপ্রদানকারী পিপিএল এর সাথে সংযুক্ত হননি তারা আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তাদের সর্বশেষ হোমকেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা পেতে পারেন ‘যদি’ সেই প্রতিষ্ঠান সমুহ এখনো ব্যবসায় থাকেন। তবে যারা নিউইয়র্ক স্টেটে সিডিপ্যাপ হোমকেয়ারের মাধ্যমে সেবা পেতে চান এবং সেবা প্রদানকারী হিসেকে কাজ করতে চান তাদেরকে আগামী ৬ জুনের মধ্যে পিপিএলের সাথে সংযুক্ত হতে হবে। আদালতের অনুমতিক্রমে এ সময়সীমা আরো বাড়ানো যেতে পারে।
সিডিপ্যাপ একটি মেডিকেইডভিত্তিক হোম কেয়ার প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেরাই কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার অধিকার পান।
এতদিন পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি আলাদা হোম কেয়ার এজেন্সি এই সেবা পরিচালনা করতো। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা দেন যে, রাজ্য এখন থেকে শুধু একটিমাত্র হোম কেয়ার এজেন্সি, পিপিএলের মাধ্যমে এই প্রোগ্রাম পরিচালনা করবে। নিউইয়র্ক স্টেট আশা করে, এই পরিবর্তনের ফলে ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সেবার মান ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে। তবে রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের সমস্যা সামনে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার উপভোক্তার মধ্যে ৪০ হাজার জন এখনো স্থানান্তর সম্পন্ন করতে পারেননি।
এছাড়া ৬০ হাজার উপভোক্তা ইতোমধ্যে সিডিপ্যাপ প্রোগ্রাম ত্যাগ করেছেন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিচর্যা সেবায় চলে গেছেন। এসব জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী এলিজাবেথ জোইস বলেন, সব সমস্যার সমাধান একসাথে করার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না, তাই সময় বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সেবাগ্রহণকারী ব্যক্তি চাইলে সাময়িকভাবে আগের হোম কেয়ার এজেন্সির মাধ্যমে তাদের কর্মীদের বেতন দিতে পারবেন, যতক্ষণ না তারা পিপিএলে সম্পূর্ণরূপে স্থানান্তরিত হন। এই রূপান্তরের জন্য একটি প্রস্তাবিত চুক্তি তৈরি হয়েছে, যেখানে ভোক্তাদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।
ক্যাটাগরি এ: যেসব উপভোক্তা ও তাদের কর্মীরা ইতোমধ্যে পুরোপুরি পিপিএলে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তাদের পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের বেতন নিশ্চিত করবে ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এবং সেটা ১ এপ্রিল থেকে বা শেষবার আগের হোম কেয়ার এজেন্সি থেকে বেতন পাওয়ার দিন থেকে গণনা করে প্রদান করা হবে।
ক্যাটাগরি বি: যাদের পরিচর্যা পিপিএলে চলে এসেছে, কিন্তু কিছু বা সব কর্মী এখনো পিপিএলে নিযুক্ত হননি। এই পরিস্থিতিতে ভোক্তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, তারা চান কি না কর্মীরা আগের হোম কেয়ার এজেন্সির মাধ্যমে বেতন পাক যতদিন না তারা পিপিএলে পুরোপুরি যোগ দেন। তবে শর্ত হলো, সেই হোম কেয়ার এজেন্সি অবশ্যই বৈধভাবে কার্যকর থাকতে হবে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে পারবে না। ক্যাটাগরি সি: যারা এখনো পিপিএলে স্থানান্তরিত হননি। তারা তাদের কর্মীকে আগের হোম কেয়ার এজেন্সির মাধ্যমে বেতন দিতে পারবেন যতক্ষণ না স্থানান্তর সম্পূর্ণ হয়।
এই প্রস্তাবিত চুক্তির অধীনে একটি দ্রুত অনবোর্ডিং প্রোগ্রাম চালু করা হবে, যা সহায়তা করবে এমন উপভোক্তাদের, যারা আগের হোম কেয়ার এজেন্সি বেছে নিতে পারছেন না বা যাদের আগের হোম কেয়ার এজেন্সি আর সেবা দিতে পারছে না। ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এবং পিপিএলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করবে এবং রূপান্তর প্রক্রিয়ায় থাকা সকল ভোক্তা ও কর্মীদের সহায়তা করবে।
গভর্নরের মুখপাত্র স্যাম স্পোকোনি এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রস্তাবিত চুক্তি রাজ্যের সিডিপ্যাপ রূপান্তরকে সম্পূর্ণরূপে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং যারা ইতোমধ্যে পিপিএলে রেজিস্ট্রার করেছেন, তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি অবশিষ্ট থাকা হাজার হাজার ভোক্তা ও কর্মীদের জন্য একটি সময়সীমার সুযোগ তৈরি করেছে। গভর্নর হোকুলের মুখপাত্র স্যাম বলেন, নিউইয়র্ক রাজ্যের সিডিপ্যাপ সংস্কারের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলারের অন্ধকার টাকা প্রচারণা ব্যর্থ হয়েছে।
এই প্রস্তাবিত চুক্তি রাজ্যের চলমান সিডিপ্যাপ রূপান্তরের জন্য সমর্থন নিশ্চিত করবে এবং আমাদের সংস্কার পূর্ণাঙ্গভাবে চলতে থাকবে।সিডিপ্যাপ উপভোক্তা ও কর্মীদের জন্য আগামী ১৫ মে ও ৬ জুন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। যারা এখনো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার যাতে পরিচর্যার সেবা বিঘ্নিত না হয়। তথ্য ও সহায়তার জন্য ভোক্তারা পিপিএল অথবা তাদের আগের হোম কেয়ার এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
Posted ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh