বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার – জেএমসি’র ভবন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই সম্প্রসারণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে গত ২৭ এপ্রিল রোববার বেলা ১১টায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান দ্বিতল ভবনটি উন্নীত হবে চার তলায়। ফলে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ার বিদ্যমান সমস্যার অবসান ঘটবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমান নির্বাহী কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ড। আনুমানিক তিন মিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সম্পূর্ণভাবে অনুদানের অর্থে।
বহুল কাক্সিক্ষত এই প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল দুই পর্বের। প্রথম পর্ব শুরু হয় সকাল ১১টায়। জেএমসির মূল ভবনের মিলনায়তনে। মুসল্লি ও শুভাকাংখীদের উৎসবমুখর উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির সেক্রেটারি আফতাব মান্নান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ইমাম কাওকাব পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন অনুষ্ঠানের শুরুতে। এসময় মঞ্চে আসীন ছিলেন জেএমসি ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ডা: নাজমুল এইচ খান ও নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট ডা: মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।

সেক্রেটারি আফতাব মান্নান অনুষ্ঠানে সকলকে স্বাগত জানিয়ে মসজিদ ভবন সম্প্রসারণ কাজের সূচনা পর্বকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় এক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, চার দশক আগে যে স্বপ্ন নিয়ে জেএমসি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ তা সফলতার পথে। তিনি বলেন, স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সহযোগিতায় এই প্রকল্পকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ সকলের সহযোগিতায় আমরা অবশ্যই সফলকাম হবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু ও কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস। জন ল্যু বলেন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইতিহাসে এই মুহূর্তটি একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের শুভাকাংখী ও স্থানীয় কমিউনিটির অকৃত্রিম বন্ধু জন ল্যু বলেন, ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সহায়ক। জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্পকে একটি সময়োচিত উদ্যোগ বলে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে নতুন প্রজন্মসহ সকল বয়সের মানুষের জন্য নতুন এক সুযোগের সৃষ্টি হবে। তিনি বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির অবদানের কথা স্মরণ করেন।
কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস বলেন, জেএমসি কুইন্স কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সার্বিক মূল্যবোধ, বহুজাতিকতা, নাগরিক ও অভিবাসীদের অধিকার যখন হুমকির মুখে, তখন জেএমসির মতো প্রতিষ্ঠান সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তিনি জেএমসির সম্প্রসারণ কাজের সাফল্য কামনা করে স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

জেএমসির প্রেসিডেন্ট ডা: মাহমুদুর রহমান বলেন, বড় বড় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মীয় গোষ্ঠির দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরই অবদান। জেএমসি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা: নাজমুল এইচ খান, ভবন সম্প্রসারনের ব্যাপারে তাদের স্বপ্ন ও তা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মূল ভবনটি চতুর্থ তলায় সম্প্রসারিত হলে তা হবে এক যুগান্তকারী ঘটনা। ভবিষ্যত প্রজন্ম যুগ যুগ ধরে এর সুফল ভোগ করবে। তিনি বলেন, এটি একটি সাহসী উদ্যোগ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় তিন মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এক মিলিয়ন ডলার হাতে নিয়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ কাজের অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে অর্থের যোগানও হয়ে যাবে।

জেএমসিতে মুক্ত হাতে দান করার জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি গভীর ম্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা লগ্নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইমাম ড. শামসি আলী, জেএমসি’র প্রাক্তন কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ এম বিল্লাহ, হালিম চৌধুরী ও রফিক রহমান। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন জেএমসির ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ।

দ্বিতীয় পর্বে ভবন প্রাঙ্গণে সকলের উপস্থিতিতে সম্মি¥লিতভাবে উদ্বোধন করা হয় গ্রাউন্ড-ব্রেকিংয়ের কাজ। এসময় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ ও নতুন প্রজন্মের সন্তানরাও অংশগ্রহণ করে। গোটা অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি ও ট্রাস্টিবোর্ড কর্মকর্তাগণ। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার এনাম মো: হক, জয়েন্ট সেক্রেটারি মো: ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ এম রহমান লাবু, সদস্য – ডা: মুজিবুর রহমান, মো: আহসান, জুলকার হায়দার, রেজাউল করিম চৌধুরী, মো: সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে সবাইকে মেজবানিতে আপ্যায়িত করা হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের কাংখিত এই সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে মুসল্লিদের ধারণ ক্ষমতা যেমন বাড়বে তেমনি হাফেজী স্কুল, উইক এন্ড ইসলামী শিক্ষা, মহিলা ও বয়স্কদের জন্য সৃষ্টি হবে অধিকতর সুবিধা। জেমমসির এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বড় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে। গত ১৪ এপ্রিল সকালে জেএমসি কর্তৃপক্ষের সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসময় জেএমসি পরিচালনা কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ডের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজে আনুমানিক ৬ মাস এবং অঙ্গসজ্জাসহ পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন হতে আরো ৬ মাস লাগতে পারে বলে জানান জেএমসি পরিচালনা কমিটি। সম্প্রসারণ কাজ চলাকালীন মুসল্লিগণ যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
জেএমসির নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আরো ৫ হাজার ৬৫০ বর্গফুট আয়তন বাড়বে। ফলে বর্তমান ৯ হাজার ৮৪০বর্গফুট মিলে মোট আয়তন দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৪৩৪ বর্গফুট। বর্তমান দ্বিতীয় তলা থেকে হিফজ স্কুল তৃতীয় তলায় সরানো হলে সেখানে অতিরিক্ত আরো ১৮০জন মুসল্লির নামাজের স্থান সংকুলান হবে। এছাড়া প্রথম তলা থেকে অফিস স্টোরেজ সরালে আরো ৬০ জন মুসল্লির নামাজের জায়গা বাড়বে। বর্তমান ভবনের দুই রুমের মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে মিম্বার নিয়ে আসা হবে মাঝামাঝি স্থানে। ইমামের অফিস স্থানান্তর করা হবে চতুর্থ তলায়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় ১৯৯২ সালে বর্তমান ঠিকানার প্রাইভেট বাড়িটি ভেঙ্গে জেএমসির নতুন ভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্টিত হয় জেএমসির নতুন ভবন। ১৯৯৭ সালের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জেএমসি ভবন তথা আল মামুর মসজিদ ভবনের ঘোষণা দেয়া হয়। ভবনটি নির্মাণে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। পরবর্তীতে ভবনটি দ্বিতল করা এবং পাশাপাশি আরো একটি প্রাইভেট হাউজ ক্রয় করে মসজিদ ভবনটির পরিধি বাড়ানো হয়।
Posted ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh