বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

বিচারপতি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)

জাফর আহমাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিচারপতি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)

একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার যতগুলো দিক ও বিভাগ প্রয়োজন সেই সবগুলো দিক ও বিভাগ দিয়েই সমগ্র মানব সম্প্রদায়ের জন্য দ্বীন ইসলাম নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়া সাল্লাম ছিলেন সেই সমস্ত বিভাগের একজন দক্ষ মহামানব। একজন পূর্ণাঙ্গ মহামানব হিসাবে তিনি যেমন একজন ন্যায়পরায়ন প্রশাসক, তেমনি তিনি ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ন বিচারপতি। দক্ষতার সাথে তিনি যেমন প্রশাসন পরিচালনা করেছেন, তেমনি তিনি ন্যায় ও ইনসাফের সাথে বিচার ব্যবস্থাও পরিচালনা করেছেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় আল্ল­াহর বিধান অনুয়ায়ী অনেক বিচার-ফয়সালা করেছেন। পক্ষপাতিত্ব, প্রভাবিত, আবেগতাড়িত হয়ে কোন বিচার কার্য পরিচালনা করেছেন এমন একটি ছোট্ট ঘটনাও তার বিচারপতি জীবনের ইতিহাসে পাওয়া যাবেনা। তিনি ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করতে গিয়ে কোনদিন নিজের আহাল, আত্মীয়-পরিজন ও জলিল-কদর কোন সাহাবীর পক্ষও অবলম্বন করেননি। তিনি বলতেন, যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাও চুরি করে, তবে আমি তার বেলায়ও হাত কাটার নির্দেশ দিবো।’ এ জন্য তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে একজন শ্রেষ্টতর মহামানবের সাথে সাথে তিনি একজন শ্রেষ্ট বিচারপতিও বটে। তাঁর এ ন্যায়বিচারের কারণেই হাজরা থেকে সান’আ মাউত সুন্দরী তনয়া, মূল্যবান অলঙ্কাক পরহিতা, একাকিনী দিনে-রাতে পথ চলেছেন, কেউ তার দিকে চোখ তুলে থাকাবে দুরের কথা তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও বোধ করতো না।
তাঁর জীবদ্দশায় কয়টি বিচার তাঁর আদালতে এসেছে জানা না থাকলেও অবশ্যই তা নগন্যই হবে। কারণ সমাজ ও সভ্যতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে অপরাধ প্রবণতা একেবারেই কমে গিয়েছিল। মানুষ অপরাধ করলে বিবেকের অবিরত কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে নিজের মামলা নিজেই দায়ের করতো। প্রসিদ্ধ সেই মহিলার ঘটনা আমরা জানি যে যেনা করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিচারালয়ে নিজের কৃত অপরাধের বিচার প্রার্থনা করলেন। বিচারপতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে প্রথমত সন্তান প্রসব, দ্বিতীয়ত আড়াই বৎসর দুগ্ধ পান করাবার নির্দেশ দিলেন। মহিলা কেঁদে কেঁদে এই ভয়ে চলে গেলেন যে, এ সময়ের মধ্যে যদি আমি বিনাবিচারে মৃত্যুবরণ করি তবে আহকামুল হাকিমিন মহান আল্ল­াহর বিচারের কাঠগড়ায় কি জবাব দেবো। এই ছিল একজন শ্রেষ্ট বিচারপতির ন্যায়বিচারের সামজিক প্রভাব।

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ইনসাফ ও ন্যায় বিচার দারুনভাবে উপেক্ষিত। বিশেষ করে যখন যেই সরকার ক্ষমতায় আসেন, তাদের মনমর্জি ও হুকুম তামিল করতে গিয়ে ন্যায় বিচার আদালতের কঠিণ দেয়ালে মাথা টুকে নিজেকে রক্তাক্ত করে। ন্যায়বিচারের করুণ আর্তনাদ ও গগণ বিদারী কান্না আমাদের বর্তমান বিচারপতিদের হৃদয়কে ক্ষণিকের জন্য আহত করে না। কত নিরাপরাধ নিরীহ বনী আদম ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে চার দেয়ালের ভেতর পৃথিবীর আলো বাতাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার কি কোন ইয়ত্তা আছে? মানবতা বা মানবিক মূল্যবোধ তো আজ গো-বেচারা, মনে হয় বয়সের ভারে নূজ, পাইক-পেয়াদাদের মতো বড় বড় লেজার-বুক নিয়ে এ অফিস থেকে ও অফিসে ঘুরতে ঘুরতে প্রাণ ওষ্ঠাগত। কে তার কথা শুনে।

মানবতার রক্ষক বিচারপতিরাই আজ মানবতাকে দুর কোন মহাসাগরের কালা পানির দেশে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। আদালতকে বলা হয় মানুষের ন্যায় বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল। মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণের বিশেষ স্থান এটি। আশাহত মানুষগুলো এ দ্বার থেকে ও দ্বার শেষাবদি এক বুক আশা নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দাড়িপাল্ল­ার এ অফিসটির দ্বারস্থ হয়। কিন্তু এখানে এসে দেখা যায় মানবতার সাথে কি পরিমাণ অসদাচরণ করা হয়। যেনো দাঁড়িপাল্লাটি কোন একদিকে সারাক্ষণ হেলে থাকে। আশার কিছু তো পাই-ইনি বরং উল্টো তাকে কিছুটা প্রমোদ গুণতে হয়।

এ অফিসের হর্তাকর্তারা যদি অন্যদের মতোই বিচার-ফয়সালা করেন তবে মানুষ সাগরে ঝাঁপ দেয়া ছাড়া আর কি কোন রাস্তা আছে? একবার একটি কার্টুন দেখেছিলাম, মর্মার্থ ছিল, “এক ভিক্ষুক কিছু টাকা ভিক্ষা করে মাথায় ছাপড়াচ্ছে আর বলছে, আমি এখন এই টাকা কোথায় রাখবো, ঘরে রাখলে চোরে নিবে, মাটির নিচে পূতেঁ রাখলে ঔই পোকা খাবে, ব্যাংকে রাখলে সরকার খাবে।” বর্তমান বিচার ব্যবস্থাও তা-ই হয়েছে। মানুষ কোথায় যাবে? সমাজপতি, পুলিশ ও সর্বশেষ আদালত সবই একই রোগে আক্রান্ত। ন্যায়-অন্যায়, মানবিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার কোন কিছুই সেখানে পরখ করা হয় না।
পৃথিবীর দেশে দেশে বিচারপতিদের সৌজন্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিচারালয়ের ন্যায়-ইনসাফ ও নিরপেক্ষতার কিছু ইতিহাস আলোচনা করতে চাই।

সম্মানিত বিচারপতিগণ যদি আহকামুল হাকিমের তথা সমস্ত বিচারপতিদের বিচারপতি আল্ল­াহ রাব্বুল আলামিনের সামনে একদিন দাঁড়াতে হবে এ বিশ্বাস পোষণ করেন, তবে তাঁদেরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিচার ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টি দিতে বলবো। তাতে একদিকে নিজেদের মধ্যে যেমন ন্যায়-ইনসাফ ও নিরপেক্ষতাকে স্থান দিতে পারবেন অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে প্রশান্তি নেমে আসবে, উপকৃত হবে বিশ্ব মানবতা। প্রথমত হাশরের দিনের কথা একটু স্বরণ করুন, যখন ক্ষমতার সর্বময় দন্ড হাতে নিয়ে বিচাপতির আসনে আসীন হবেন আহকামুল হাকিমিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, তখন দুনিয়ার বিচারপতিদের কি অবস্থা হবে? যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসৃত পন্থায় বিচার-ফয়সালা করেছেন তাদের জন্য কোন চিন্তা থাকবে না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসৃত নীতি ও বিচার ফয়সালা ছাড়া মানব সমাজে কখনো ন্যায়, ইনসাফ ও আদল প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
সুরা রহমানে তাকীদ করা হয়েছে : ওজনে বাড়াবাড়ি করো না, ঠিক ঠিকভাবে ইনসাফের সাথে ওজন করো এবং পাল্লায় কম করে দিয়ো না।”(আয়াত ৮-৯) যেহেতু আমরা এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বলোকে বসবাস করছি যার গোটা ব্যবস্থাপনাই সুবিচার ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই আমাদেরকেও সুবিচার ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যে গণ্ডীর মধ্যে আমাদেরকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে সেখানে যদি আমরা বে-ইনসাফী করি এবং হকদারদের যে হক আমাদের যিম্মায় দেয়া হয়েছে, তা যদি হরণ করি তাহলে তা হবে বিশ্ব প্রকৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল। এ মহাবিশ্ব প্রকৃতি জুলুম তো দুরের কথা, দাঁড়িপাল্ল­ার ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে কেউ যদি খরিদ্দারকে এক তোলা পরিমাণ জিনিষ কম দেয় তাহলে সে বিশ্বলোকের ভারসাম্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে।
আল্ল­াহ তা’আলা মীযান (দাড়িপাল্ল­া) কায়েম করেছেন অর্থ সুবিচার ও ইনসাফ কায়েম করেছেন। এ মীযানে কমবেশ করো না মানে অবিচার ও বে-ইনসাফী করো না। গোটা বিশ্ব দাড়িপাল্ল­ার মতো ভারসাম্যপূর্ণ। আল্লাহর কঠিণ আবদ্বে বাঁধা ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী সামান্য এদিক সেদিক হলে পৃথিবীতে প্রাণের কোন অবশিষ্ট থাকবে না। তেমনি আল্লাহর দেয়া বিচার ব্যবস্থাও ভারসাম্যপূর্ণ, তাতে এদিক সেদিক করা হলে সমাজে ন্যায়-ইসনাফ ও মানবিক মূল্যবোধ উঠে গিয়ে সামাজিক বিপর্যয় প্রবলাকার ধারণ করে। যারা সামান্য ক্ষমতা পেয়ে যে ভারসাম্যহীন অবস্থার সৃষ্টি করে, যদি আল্ল­াহর সামান্য আলো-বাতাস, অ´িজেন, শ্বাস-প্রশ্বাস সামান্য সময়ের জন্য ক্ষমতাধারীর ক্ষেত্রে স্তব্ধ করে দেয়া হয়, তবে চিন্তা করুন কি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং আল্ল­াহকে ভয় করুন। দাঁড়িপাল্ল­ায় ভারসাম্যহীন অবস্থার সৃষ্টি করবেন না। মনে রাখবেন, ক্ষমতায় যারা আছে তাদের প্রাণ আর আপনার প্রাণের মধ্যে কোন পার্তক্য নেই। আপনি যদি ন্যায়ের পথে থেকে বিচার-ফয়সালা করেন তবে পৃথিবীর কেউ আপনাকে কিছুই করতে পারবে না। কারণ হায়াত-মওতের ফয়সালা আল্ল­াহর তরফ থেকেই হয়। আপনার মান-সম্মান, ইজ্জত অপমান, রিযিকের মালিক মহান রব। নিম্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে কয়েকটি বিচার-ফয়সালা উল্লেখ করা হলো।

প্রভাবশালী ও দূর্বলের বিচার ফয়সালা:

বুখারী-মুসলিমে আছে-একবার মাখজুমী গোত্রের এক কুরাইশী মহিলা চুরি করে ধরা পড়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। নির্দেশ শুনে লোকজন খুব পেরেশান হয়ে পড়লো। কারণ সেই মহিলা ছিলো সম্ভ্রান্ত গোত্রের। তারা বলাবলি করতে লাগলো, উসামা ইবনু যায়িদ ছাড়া আর কে আছে, যাকে আল্ল­াহর রাসুল স: অত্যাধিক ভালবাসেন। তারা উসামাকে রা: সুপারিশের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পাঠালেন। যখন তিনি এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বললেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হে উসামা! তুমি কি আল্ল­াহর বিধান প্রতিষ্ঠা না করার সুপারিশ (বাকি অংশ ৪২ পাতায়)
বিচারপতি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)

করতে এসেছো?’ তখন উসামা ইবনু যায়িদ ভয় পেয়ে বললেন, ইয়া রাসুলুল্ল­াহ! আমাকে মাফ করে দিন। আমার ভূল হয়েছে। অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা পেশের পর বললেন,‘হে লোক সকল! তোমাদের পূর্ববর্তি লোকজন এ কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী লোক চুরি করতো তখন তারা তাকে ছেড়ে দিতো এবং দূর্বল লোক চুরি করলে তাকে শাস্তি দিতো। ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রান, আজ যদি মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাও চুরি করতো তবে আমি তার বেলায়ও হাত কাটার নির্দেশ দিতাম।’

মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক বর্ণিত হয়েছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ক্রীতদাসকে হাজির করা হলো, যে চুরি করেছিলো তাকে চার বার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আনা হলে চার বারই তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। পঞ্চম বার তাকে হাজির করা হলে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। পরে ৬ষ্ট বার হাজির করা হলে তার একটি পা কেটে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। ৭ম বার তার অপর হাত কাটার আদেশ দিলেন। ৮ম বার তার দ্বিতীয় পাটি কেটে দেন।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদালতের উল্লেখিত দূ’টি বিচার এখানে উল্লেখ করার অর্থ হলো তাঁর বিচার ব্যবস্থায় সমাজের প্রভাবশালী বা দূর্বল কোনটিই প্রভাব ফেলতে পারতো না। যা ন্যায়-সঙ্গত, যা সঠিক তাই সেখানে বাস্তবায়িত হতো। কিন্তু আজ আমাদের বিচার ব্যবস্থায় কি পরিলক্ষিত হয়। সবলের জয়ধ্বনি আর দূর্বলের মূর্ধাধ্বনি। নিজ দলের দন্ডপ্রাপ্তদের ক্ষমা করার নজিরও দেখা যায়। কিন্তু আল্লাহর দরবার থেকে কাকে কে ছাড়িয়ে আনবে?
বাকপটুতার দ্বারা রায় নিজের পক্ষে নেয়া মানে আগুনের টুকরা নেয়া:
মুয়াত্তা, বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তো একজন মানুষ। দু’জন ঝগড়াকারী এসে আমার কাছে অভিযোগ করলে, যে অপেক্ষাকৃত বেশী বেশী বাকপটু আমি তার দিকে রায় দিতে পারি। এই মনে করে যে, সে সত্য বলেছে। সাবধান! তোমাদের কেউ যেন এরূপ না করে। এরূপ করলে এবং তার পক্ষে রায় দিলে, সে যেন আগুনের টুকরো নিয়ে গেলো।’ বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, ‘যাকে আমি (ভূল বুঝে) মুসলমানের সম্পদের মালিক বানিয়ে দেবো, তা আগুনের টুকরা মাত্র। ইচ্ছে করলে সে নিতে পারে অথবা ত্যাগ করতে পারে।

উভয়ের বক্তব্য শুনে বিচার করা ও রায় দেয়া:

আবু দাউদে হযতে আলী রা: হতে বর্ণিত। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ইয়েমেনে (দায়িত্ব দিয়ে) পাঠাচ্ছেন অথচ আমার বয়স কম, বিচার ফয়সালা করার মতো কোন জ্ঞান বা যোগ্যতা আমার নেই। তিনি বললেন, ‘আল্ল­াহ তোমার অন্তরকে হিদায়াত দেবেন এবং তোমার জবান দৃঢ় রাখবেন। যখন বাদী-বিবাদী তোমার সামনে এসে উপস্থিত হবে তখন একজনের বক্তব্য শুনেই রায় দিবে না বরং দু’জনের বক্তব্য শুনবে। এতে ফায়সালার দিগন্ত তোমার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে।’

হযরত আলী রা: বলেন,এরপর আমি সেখানে বিচার ফয়সালা করতে গেলাম কিন্তু কোনো বিচারের রায় দিতে গিয়ে আমি কখনো সন্দেহে পড়িনি। আসুন মানবতার মহান বন্ধু, ন্যায়পরায়ন শাসক ও বিচারক মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ন্যায় তাক্ওয়ার ভিত্তিতে বিচার ফয়সালা করি। আহকামুল হাকিমিনির সামনে হাজির হওয়ার আগে এমন কোন বিচার ফয়সালা না করি যাতে মহান প্রভুর সামনে অপমানিত হতে হয় এবং কঠিণ আযাবের স্বাধ গ্রহণ করতে হয়। আল্ল­াহ আমাদের শাসক ও বিচারপতিদের সুমতি দিন।

Posted ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.