বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

আমি তোমার খ্যাতি শক্তিশালী করেছি

জাফর আহমাদ :   |   বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আমি তোমার খ্যাতি শক্তিশালী করেছি

আল্লাহর রাসুল সা: পৃথিবীর এমন একজন মহাপুরুষ যার আলোচনা মুসলিম-অমুসলিম সকল মানুষের মধ্যে উচ্চরিত হয়।এ যেন প্রবাহিত অবিরত এক ঝর্ণাধারা, যা কখনো শুকিয়ে যায় না এবং যা কখনো বন্ধ হবার নয়। পৃথিবীতে এই একটি মানুষই আছেন যার নাম প্রতি মহুর্তে প্রতিক্ষণে আলোচিত হচ্ছে। পৃথিবীর সকল স্থানে ২৪ ঘন্টা তাঁর আলোচনা চলছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা চলবে। ‘রাফাআনা” আমি সুউচ্চ করে দিয়েছি ক্রিয়ার এর কারক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা। আল্লাহ যখন কোন কাজের কারক হন তখন তার কর্মের বিশালতা কি কারো ধারণা মধ্যে হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,“আর তোমার জন্য তোমার খ্যাতির কথা সুউচ্চ করে দিয়েছি।”(সুরা আলাম নাশরাহ:৪)

এটি সেই সময়কার কথা যখন কেউ কল্পনাও করতে পারতো না যে, মাত্র হাতে গোণা কয়েকজন লোক যে ব্যক্তির সঙ্গী হয়েছে এবং কেবলমাত্র মক্কা শহরের মধ্যে যার সমস্ত কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ, তাঁর আওয়াজ আবার কেমন করে সারা দুনিয়ায় বুলুন্দ হবে এবং কোন ধরনের খ্যাতিই বা তিনি অর্জন করবেন। কিন্তু এই অবস্থায় আল্লাহ তাঁর রাসুলকে এ সুসংবাদ দিলেন এবং এক অদ্ভুত পদ্ধতিতে তা বাস্তবায়িত করলেন। আল কুরআনের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, আর কুরআনের ধারক ও বাহকের খ্যাতি সারা পৃথিবীর প্রতিটি কোণে সুনিপুণ ও অত্যন্ত সুক্ষভাবে মহান আল্লাহই পৌঁছে দিয়েছেন।

সর্বপ্রথম তাঁর নাম বুলন্দ ও তাঁর চর্চা ব্যাপক করার কাজ সম্পন্ন করলেন তিনি মুহাম্মদ সা: এর শুত্রুদের সাহায্যে। মক্কার কাফেররা তার ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করলো। মক্কার কুফ্ফার শক্তি তা্রঁ ক্ষতি করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করলো। এর মধ্যে একটি পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ: হজ্জের সময় আরবের সমগ্র এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক লোক মক্কা শহরে সমবেত হতো। এ সময় কাফেরদের প্রতিণিধি দল হাজীদের প্রত্যেকটি তাঁবুতে যেতো এবং তাদেরকে এই মর্মে সতর্ক করে দিতো যে, এখানে মুহাম্মদ (সা:) নামে একজন ভয়ংকর লোকের আবির্ভার হয়েছে। তিনি লোকদের ওপর এমনভাবে যাদু করেন যার ফলে পিতা-পুত্র-ভাই ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কাজেই আপনারা তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলবেন। হজ্জের মৌসুম ছাড়া অন্যান্য দিনেও যারা কা’বা যিয়ারত করতে আসতো অথবা ব্যবসা উপলক্ষে যারা মক্কায় আসতো তারা নবীসা: এর বিরুদ্ধে দূর্নাম রটাতো কিন্তু এর ফলে আরবের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায়ও তাঁর নাম পৌঁছে গেলো। মক্কার অপরিচিত গণ্ডীর ভেতর থেকে বের করে এনে শত্রুরাই সারা আরব দেশের বিভিন্ন গোত্রের সাথে তাঁর পরিচয় করিয়ে দিল।

এই নিষিদ্ধের ফলে মানুষের মনে এই প্রশ্ন জাগা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে, এই লোকটি আসলে কে?কি বলতে চায়। সে কেমন লোক। তার যাদুতে করা প্রভাবিত হচ্ছে এবং তাদের ওপর তার যাদুর কি প্রভাব পড়ছে? মক্কার কাফেরদের প্রচারণা যতবেশী বেড়েছে লোকদের মধ্যে এই জানার কৌতুহল ও আগ্রহ তত বেশী বেড়েই চলেছে। তারপর অনুসন্ধানের মাধ্যমে লোকেরা তাঁকে জেনেছে। তাঁর চরিত্র ও কাজ-কারবারের সাথে পরিচিত হয়েছে। লোকেরা কুরআন শুনেছে। তিনি যেসব বিষয় পেশ করছেন সেগুলো জেনেছে। যখন তারা দেখলো, যে জিনিসকে যাদু বলা হচ্ছে, তাতে যারা প্রভাবিত হয়েছে তাদের জীবন ধারা আরবের সাধারণ লোকদের জীবনধারা থেকে সম্পুর্ণ আলাদা হয়ে গেছে, তখন দূর্নাম সুনামে রূপান্তরিত হয়ে যেতে লাগলো। এমন কি হিজরতের আগেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়ে গেলো যার ফলে দূরের ও কাছের এমন কোন আরব গোত্রই ছিলনা যার কোন না কোন লোক বা পুরো পরিবার উসলাম গ্রহণ করেনি এবং যার কিছু কিছু লোক রাসুলুল্লাহ সা: ও তাঁর দাওয়াতের প্রতি সহানুভ’তিশীল ও আগ্রহী হয়ে ওঠেনি। এটি ছিল তাঁর খ্যতির কথা সুউচ্চ করার প্রথম পর্যায়।

দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় হিজরতের পর। এর মধ্যে একদিকে মোনাফেক, ইহুদী ও সমগ্র আরবের মুশরিক প্রধানরা রাসুলুল্লাহ সা: এর দুর্নাম রটাতে তৎপর হয়ে উঠলো এবং অন্যদিকে মদীনা তাইয়্যেবার ইসলামী রাষ্ট্রটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও আল্লাহ ভীতি, তাকওয়া, ইবাদাত, বন্দেগী, চারিত্রিক পরিচ্ছন্নতা, সুষ্ঠু সামাজিকতা, ইনসাফ, ন্যায়নিষ্ঠা, মানবিক সাম্য, ধনীদের বদান্যতা, গরীরদেরকে সাহায্য সহায়তা দান,অংগীকার ও শপথ রক্ষা এবং মানুষের সাথে ব্যবহার ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সততার এমন বাস্তব নমুনা পেশ করছিল, যা মানুষের হৃদয় জয় করে চলছিল। শুত্রুরা যুদ্ধেও মাধ্যমে তাঁর এওই বর্ধিষ্ণু প্রভাব বিলিন করতে চাইলো। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে ঈমানদারদের শক্তিশালী জামায়াত তৈরী হয়েছিল। নিয়ম-শৃংখলা,বীরত্ব, বীরত্ব সাহসিকতা, মৃত্যুকে ভয় না করা এবং যুদ্ধাবস্থায়ও নৈতিক সীমারেখাকে কঠোরভাবে মেনে চলার মাধ্যমে জামায়াত নিজের শ্রেষ্টত্ব এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল যার ফলে সমগ্র আরব তার প্রভাবাধীন হয়ে গেলো। দশ বছরের মধ্যে তাঁর খ্যাতির কথা সুউচ্চ হয়ে গেলো। অর্থাৎ যে দেশে তাঁর বিরোধীরা তাঁকে বদনাম করার জন্য তাদেও সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল তার সমগ্র ্ওলাকায় এবং প্রত্যন্ত প্রদেশে ও সর্বত্র “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো।

তুতীয় পর্যায়টি আরো ব্যাপক যা খোলাফায়ে রাশেদা থেকে শুরু হয়েছে। সে সময় তাঁর মুবারক নাম সারা পৃথিবীতে উচ্চারিত হতে লাগলো। এই সিলসিলাটি আজ পর্যন্ত বেড়েই চলেছে। ইনশা’আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত বেড়ে যেতেই থাকবে। পৃথিবীর এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মুসলমানদেও কোন জনপদ নেই এবং দিনের মধ্যে পাঁচবার আযানের মধ্যে সুউচ্চ স্বরে মুহাম্মদ সা: এর রিসালাতের ঘোষনা করা হচ্ছে না। মু’মিনদের প্রতিটি সালাতে তাঁর ওপর দরূদ পড়া হচ্ছে, জুম’আর খুতবায় তাঁর নাম পাঠ করা হচ্ছে এবং বছরেরর বারো মাসের মধ্যে কোন সময় এমন নেই যখন সারা দুনিয়ায়র কোন না কোন প্রান্তে তাঁর মুবারক নাম উচ্চরিত হচ্ছে না। নবুয়তের প্রাথমিক যুগে আল্লাহ তা’আলা বলেছিলেন “আর তোমার জন্য তোমার খ্যাতির কথা সুউচ্চ করে দিয়েছি।” অর্থাৎ অত্যন্ত ব্যাপকভাবে সম্প্রচার করেছি। তখন তো কেউ একথা অনুমানই করতে পারতো না যে, এমন সাড়স্বরে ও ব্যাপকভাবে এই নাম সুউচ্চ করার কাজটি সম্পন্ন হবে। এটি কুরআনের সত্যতার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং আল্লাহর ক্ষমতার কি বিশাল মহিমা।

সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি এখানে উল্লেখ্য যে, পৃধিবীর প্রতিটি মানুষ সে নিজে বা অন্য কেউ তাঁর নাম উচ্চারনের সাথে সাথে তাঁর ওপর দরূদ ও সালাম তথা সাল্লআল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেশ করে থাকে। এ যেন সতত প্রবাহিত এক ঝর্ণাধারা। তাঁর চেতনাসমুদ্ধ মিশন মেঘমালা অনন্তের দিগ¦লয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে তাঁর প্রতি প্রত্যেক জনপদের প্রত্যকটি মু’মিনের হৃদয় তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। তাই অকৃত্রিম ভালবাসা ও প্রচন্ড আবেগের কারণে তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করে। প্রচন্ড ভালবাসার কারণে তাঁকে নিয়ে এত গান, এত সাহিত্য-প্রবন্ধ, কাব্যমালা ও জীবন চরিত রচিত হয়েছে। দ্বিতীয় কোন জীবন চরিত এমনটি আজো আবির্ভূত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও আর হবে না। এটিও যেন এক অনিশেষ ঝর্ণাধারা। এ যেন এক জীবন চরিতের ভাণ্ডার, নৈমিত্তিক যা জমা হচ্ছে, সেটিই নিত্য নতুন, সেটিই বৈচিত্রময়।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা: একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন: জিবরিল আমার কাছে আসেন। আমাকে বলেন, আমার রব ও আপনার রব জিজ্ঞেস করেছেন: আমি কিভাবে তোমার নাম সুউচ্চ করেছি। আমি আরজ করি, আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি বলেন, আল্লাহর উক্তি হচ্ছে: যখন আমার নাম বলা হয় তখন সেই সাথে তোমার নামও বলা হবে।”(ইবনে জারীর, ইবনে আবী হাতেম, ইবনে হিব্বান)
পৃথিবীতে মানুষকে সঠিক পথনির্দেশার যত নবী-রাসুল এসেছেন, তাঁদেও মুহাম্মদ সা; সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট রাসুল।
আল্লাহ তা’আলা তাঁকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত করে পাঠিয়েছেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও পথনির্দেশনার বদৌলতে আমরা সত্যের দিশা লাভ করেছি। কিয়ামতের কঠিন দিনে তিনি আমাদেরকে হাউজে কাউসারের পানি পান করাবেন, আমাদের মুক্তির জন্য আল্লাহর নির্দেশে শাফায়াত করবেন। এই মহামানবের প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ তাঁর জন্য দু’আ করেন। তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করার জন্য সকল মু’মিনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।(সুরা আহযাব: ৫৬) এ জন্য আমাদের দায়িত্ব হল তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করা ও তাঁর উচ্চ মর্যাদার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করা। তাই রাসুল্লাহ সা: এর প্রতি দরূদ সালাম পেশ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত।
আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সা: বাইরে যান, আমি তাঁকে অনুসরণ করি। তিনি একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করেন এবং সিজদা করেন। তিনি সিজদারত অবস্থায় অনেক সময় অতিবাহিত করেন, ফলে আমি ভয় পেয়ে যাই এই ভেবে যে, সিজদারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়ে গেল কি-না? এ জন্য আমি কাছে এসে লক্ষ্য করি। তিনি মাথা তুলে বললেন, আবদুর রহমান, তোমার কি হয়েছে? তখন আমি আমার কথা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন, জিবরিল আমাকে বললেন, আপনি কি এ ব্যাপারে খুশি নন যে, আল্লাহ বলেছেন ‘আপনার উপর যে দরূদ পাঠ করবে আমিও তার উপর রহমত, বরকত নাযিল করবো, আর যে আপনার উপর সালাম পাঠাবে আমি তার উপর শান্তি বর্ষণ করবো।’ আর এ জন্য আমি শুকরিয়ার সিজদা করি।(মুসনাদে আহমাদ:১৬৬৪, হাকিম:২০১৯, মিশকাত:৯৩৭, হাদীসটি হাসান)

আনাস ইবনে মালিক রা: হতে বর্ণিতঅ রাসুল সা: বলেছেন,যে ব্যক্তি আমার উপর এবার দরূদ পাঠ করে, সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহ দশটি রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মোচন করেন এবং দশটি ধাপ মর্যাদার স্তর উন্নীত করেন। (নাসাঈ:১২৯৭, কিতাবুস সুহু, বাবু ফাযলু ফি সালাতি আ’লান নাবিয়্যি, মিশকাত:৯২২)

Posted ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.