বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম (স্ন্যাপ)-এ নতুন কাজের শর্ত কার্যকর হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। এর ফলে দেশজুড়ে লাখ লাখ নিম্নআয়ের পরিবার তাদের খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে প্রায় ৪২ মিলিয়ন স্বল্প-আয়ের আমেরিকান পরিবার দৈনন্দিন বাজার-খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর জন্য এই ফেডারেল কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। তবে গত বছরের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হওয়া একটি বৃহৎ ব্যয়সংক্রান্ত বিলের আওতায় স্ন্যাপের কাজের শর্তে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন আইনের অধীনে, নির্ভরশীল সন্তান নেই এমন সক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কাজের শর্ত প্রযোজ্য হওয়ার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই বয়সসীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা তিন বছরের মধ্যে তিন মাসের বেশি সময় স্ন্যাপ সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রমাণ দেখাতে বাধ্য হবেন।
এছাড়া, নির্ভরশীল সন্তানের দায়িত্বে থাকা অভিভাবকদের জন্য থাকা ছাড়ের নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবলমাত্র ১৪ বছরের নিচে সন্তানের দেখভাল করছেন, এমন ব্যক্তিরাই কাজের শর্ত থেকে ছাড় পাবেন। আগে এই বয়সসীমা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
নন-প্রফিট সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি আমেরিকা-র প্রধান নির্বাহী জোয়েল বার্গ এবিসি নিউজকে বলেন, “এই পরিবর্তনের ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাখ লাখ মানুষ স্ন্যাপের তালিকা থেকে বাদ পড়বে। এতে তারা শুধু নিজেদের নয়, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্যও প্রয়োজনীয় খাবার হারাবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, স্যুপ কিচেন, ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকগুলোর পক্ষে এই অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই।
কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)-এর আগস্ট ২০২৫-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ মানুষ স্ন্যাপ সুবিধা হারাতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছেন, ৬৪ বছর পর্যন্ত বয়সী প্রায় ৮ লাখ নির্ভরশীলহীন সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক,এবং ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী সন্তানের অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ক প্রায় ৩ লাখ মানুষ। এছাড়া, ১৮ থেকে ৫৪ বছর বয়সী (২০৩১ সাল থেকে ১৮ থেকে ৪৯ বছর) এমন প্রায় ১০ লাখ সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক, যারা আগে কাজের শর্ত থেকে ছাড় পেতেন—তারাও নতুন নিয়মের আওতায় সুবিধা হারাতে পারেন।
নতুন আইনের মাধ্যমে গৃহহীন ব্যক্তি, সামরিক ভেটেরান এবং ১৮ বছরে পৌঁছানোর সময় ফস্টার কেয়ারে থাকা তরুণদের জন্য থাকা বিশেষ ছাড়ও বাতিল করা হয়েছে। বার্গ বলেন, এই জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু চাকরি পাওয়াই নয়, বরং কাজের শর্ত পূরণের প্রমাণ জোগাড় করাও প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, সিবিও জানায়, নতুন আইনে আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের জন্য ছাড় অব্যাহত থাকায় এই গোষ্ঠীর মধ্যে স্ন্যাপে অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক প্রভাবের ক্ষেত্রে সামান্য ভারসাম্য আনবে। কাজের শর্তের সমর্থকদের দাবি, এসব নিয়ম অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমাতে সহায়ক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) অধীনস্থ ফুড নিউট্রিশন সার্ভিস (এফএনএস) স্ন্যাপ কর্মসূচি পরিচালনা করে।
এগ্রিকালচার সেক্রেটারি ব্রুক রোলিন্স ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “স্ন্যাপ একটি অস্থায়ী সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার জন্য নয়। ‘আমেরিকান ড্রিম’ মানে খাদ্য ভাতা কর্মসূচিতে আটকে থাকা নয়।” তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যে প্রায় ১৭ লাখ মানুষকে স্ন্যাপ কর্মসূচি থেকে বের করে আনা হয়েছে। ইউএসডিএ জানায়, রাজ্য সংস্থাগুলোকে সময়সীমা ও কাজের শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি কার্যকর করতে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, কাজের শর্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ কমিয়ে দিতে পারে।
ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ-এর ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ন্যাপের কাজের শর্ত কার্যকর হলে ১৮ মাসের মধ্যে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ কর্মসূচি থেকে ঝরে পড়তে পারেন। সমালোচকদের মতে, এসব শর্ত কাজের সুযোগ বাড়ানোর চেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আরও কোণঠাসা করবে। বার্গ বলেন, “অধিকাংশ স্ন্যাপ সুবিধাভোগীই কাজ করতে চান এবং অনেকেই ইতিমধ্যে কাজ করছেন। এই বিতর্ক আসলে দৃষ্টি ঘোরানোর একটি কৌশল।”
Posted ১২:২৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh